ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

প্রটেস্ট বা মার্চ করতে চাইলে বলা হয় মব হচ্ছে: প্রেস সচিব

অনলাইন ডেস্ক
৫ জুলাই, ২০২৫ ১৬:১১
অনলাইন ডেস্ক
প্রটেস্ট বা মার্চ করতে চাইলে বলা হয় মব হচ্ছে: প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে টিভি বা নিউজমিডিয়া ব্যর্থ ছিল। এটা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছে। নতুন করে যখন আবার কেউ ব্যর্থ হয়, সেই মেমোরি চাঙ্গা দিয়ে উঠে। এর ফলে অনেকে প্রটেস্ট করেন, অনেকে মার্চ করেন। আপনারা তখন বলেন— মব তৈরি হচ্ছে।

শনিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সংস্কার প্রতিবেদন পর্যালোচনা’ এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

শফিকুল আলম বলেন, কথা হলো যারা সাড়ে ১৫ বছরে এফেক্টেড হয়েছে তার তো প্রটেস্ট করার অধিকার আছে। এই সাড়ে ১৫ বছরে সংবাদমাধ্যমের যে ব্যর্থতা ছিল, তা চিহ্নিত করার কোনো ব্যবস্থা করেছি? কোনো পত্রিকা বা টিভি স্টেশন বলেছে কি না?

আজকে যারা দোসর বলে প্রটেস্ট করছে, তা আগের ব্যর্থতার কারণে বলে মনে করেন তিনি। প্রেস সচিব বলেন, আমরা কিন্তু গত ১৫ বছরের জার্নালিজম নিয়ে আলাপ করছি না। সেটা নিয়ে আলাপ হওয়া উচিত।

মিডিয়াকে চাপ না দিতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ‘তবে ভুল তথ্য প্রচার করলে তা অবগত করতে পারে,’ বলেন প্রেস সচিব।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা এক সময় অনেক বেশি সরকার নিয়ন্ত্রিত ছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আমরা একটি মুক্ত এবং ভয়ডরহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে চাইছি। সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করে নতুন যে আইন এসেছে, তা কোনোভাবেই প্রেস ফ্রিডমে হস্তক্ষেপ করে না। এই কয়মাসে সরকার চেয়েছে কোনো সিক্রেট এজেন্সি যেন সাংবাদিকদের ফোন না দেয়। ভুল সংবাদ হলে তা বলার আলাদা উপায় রয়েছে, হুমকি বা গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসাই লক্ষ্য।

মন্তব্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে তরুণ-তরুণীদের কাছে আইডিয়া চেয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদ

অনলাইন ডেস্ক
৫ জুলাই, ২০২৫ ১৬:২
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে তরুণ-তরুণীদের কাছে আইডিয়া চেয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে অংশগ্রহণমূলক আইডিয়া চেয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদ। 

গত ২ জুলাই বুধবার ঢাকা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে সংঘটিত ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে জাতি গঠনে তরুণদের সরাসরি অংশগ্রহণে একটি ‘আইডিয়া প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করা হয়েছে। 

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হল- ‘আমার চোখে জুলাই বিপ্লব।’

প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের জন্য ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী হতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে হবে। 

পাশাপাশি ক্লাব, ডিবেট, স্কাউট, রোভার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যগণ শুধুমাত্র দলীয়ভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। 

এছাড়া নারী সদস্যের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আইডিয়া তৈরীর সময় নিম্নলিখিত মানদণ্ডগুলো অনুসরণ করতে হবে-

১) ১-২ পৃষ্ঠার একটি ধারণাপত্র (বাংলা বা ইরেজিতে) অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে: ২) আইডিয়ার শিরোনাম: ৩) আইডিয়ার ভূমিকা। ৪) আইডিয়ার বিবরণ (স্থান উল্লেখসহ), উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত প্রভাব: ৫) আইডিয়া বাস্তবায়নের দলের সদস্যদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা উল্লেখ করতে হবে। ৬) সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষমতা: ৭) প্রস্তাবের স্বতন্ত্রতা: ৮) কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। ৯) গণঅভ্যুত্থানের সাথে সামঞ্জস্যতা: ১০) দেশীয় সংস্কৃতিক সাথে সামঞ্জস্যতা।

আইডিয়া প্রস্তাব দাখিলের সময়সীমা ০১-১০ জুলাই পর্যন্ত, ১১ জুলাই প্রস্তাব মূল্যায়ন, ১২ জুলাই চূড়ান্তভাবে প্রকল্প নির্বাচন, ১৩-৩১ জুলাই প্রস্তাব বাস্তবায়ন, ০৫ আইডিয়া প্রদর্শনী।

আইডিয়া জমাদানের স্থান জেলা পরিষদ, ঢাকা। অস্থায়ী কার্যালয়: সেক্টর নং ৬, আজমপুর, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ ঠিকানায় (সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকাল ৫:০০ ঘটিকা পর্যন্ত) সরাসরি অথবা অনলাইনের মাধ্যমে ই-মেইল-zpdhaka@gmail.com-তে প্রেরণ করা যাবে।

আইডিয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জেলা পরিষদ, ঢাকার ওয়েবসাইটে www.zpdhaka.gov.bd-তে পাওয়া যাবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

    অনলাইন ডেস্ক
    ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৪৩
    অনলাইন ডেস্ক
    কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল
    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যারা দণ্ডিত হবেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (৫ জুলাই) ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরও আইনের আওতার আনার সুযোগ আছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব দল ঐক্যবদ্ধ। মানবতাবিরোধী অপরাধে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করা যাবে।

    মব ইস্যু নিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এটা বিচার বিভাগের প্রতি অনাস্থা নয়। বরং, গত ১৭ বছরের ক্রোধ। তবে, এই ক্রোধ সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আবু সাইদ কোন রাজনৈতিক দলের না। জুলাইয়ের শহীদরা কোন রাজনীতির কেউ না। তারা স্বৈরাচার আমলের ভুক্তভোগী হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তারা সবাই নাগরিক প্রতিনিধি।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা বাংলাদেশের সুশাসন। দেশে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এর প্রধান লক্ষ্য।

    মন্তব্য

    সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদা মারা গেছেন

    অনলাইন ডেস্ক
    ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৩৫
    অনলাইন ডেস্ক
    সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদা মারা গেছেন
    সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা

    সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা (৮৩) মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

    শনিবার (৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ইউনাইটেড হসপিটাল লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) ডা. মো. ফজলেরাব্বী খান জানান, সকাল দশটার দিকে তাকে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান তিনি আগেই মারা গিয়েছেন। অর্থাৎ আমরা তাকে ব্রটডেথ অবস্থায় পেয়েছি। এখন পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালেই রয়েছে। 

    জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী একমাত্র মেয়ে দেশে ফিরলে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

    এটিএম শামসুল হুদা ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। একাধিক রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে দায়িত্ব পালন করা এই প্রশাসক তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      চানখাঁরপুলে হত্যাকাণ্ড

      যার নির্দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে উল্লাস করে পুলিশ

      অনলাইন ডেস্ক
      ৪ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৪৬
      অনলাইন ডেস্ক
      যার নির্দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে উল্লাস করে পুলিশ

      ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রমনা জোনের সাবেক এডিসির নির্দেশে পুলিশ একের পর এক গুলি চালিয়ে আন্দোলনকারীদের হত্যা করে। গুলিতে শহীদ হন আন্দোলনকারীরা। 

      হত্যার পর পুলিশ সদস্যরা উচ্চৈঃস্বরে বলেন- ‘গুলি লাগছে, লাগছে’ ‘শেষ’ ‘মরছে, মরছে’ বলে মৃত্যু নিশ্চিতের পর উল্লাস করেন। এদিন চানখাঁরপুল এলাকায় শহীদ হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া। এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে গুলি করে হত্যার ভয়াবহ সব তথ্য উঠে এসেছে। মামলায় কনস্টেবল অজয় ঘোষকে অন্যতম সাক্ষী করা হয়েছে।

      জানা গেছে, সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিল আটকাতে চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তখন চাইনিজ রাইফেল হাতে অন্যদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন কনস্টেবল অজয় ঘোষ। ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি অপ্রয়োজনে গুলি চালাতে অস্বীকার করেন। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম আখতারুল ইসলাম কনস্টেবল অজয় ঘোষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং হুমকি দেন। এরপরও কনস্টেবল অজয় ঘোষ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না করলে, তার কাছ থেকে চাইনিজ রাইফেলটি কেড়ে নেন আখতারুল। তিনি সেই রাইফেল কনস্টেবল সুজন হোসেনের হাতে দিয়ে তাকে গুলির নির্দেশ দেন। তারপর কনস্টেবল সুজন হোসেন সেই রাইফেল দিয়ে কখনো শুয়ে, কখনো বসে, কখনো দাঁড়িয়ে একের পর এক গুলি করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করে। একই ভাবে আখতারুল ইসলাম অন্যান্য পুলিশ সদস্যদেরকেও হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেন।

      বৃহস্পতিবার এই মামলার চার আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে (ডিসচার্জ) পৃথক আবেদনের ওপর উভয়পক্ষের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ জুলাই তারিখ ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। 

      ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন-বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

      জানতে চাইলে প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল অজয় ঘোষ তার হাতে চাইনিজ রাইফেল দিয়ে অপ্রয়োজনে গুলি করতে অস্বীকার করেন। তার হাতে থাকা রাইফেলটি পুলিশের রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম আখতারুল ইসলাম কনস্টেবল সুজন হোসেনকে দেন। সেই রাইফেল দিয়ে গুলি করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করে সুজন। এই মামলায় অজয় ঘোষকে সাক্ষী করা হয়েছে। তিনি বলেন, একইভাবে আখতারুল ইসলাম অন্যান্য পুলিশ সদস্যদেরকেও হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

      আনুষ্ঠানিক অভিযোগে (ফরমাল চার্জ) উঠে এসেছে সেদিনের মানবতাবিরোধী অপরাধের বর্ণনা। এতে বলা হয়, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ মিছিল ছিল। বৈষম্যবিরোধী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ মিছিল প্রতিহত করতে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। দুপুর অনুমান আড়াইটার দিকে কনস্টেবল সুজন হোসেন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমন ও কনস্টেবল মো. নাসিরুল ইসলাম প্রাণঘাতী চাইনিজ রাইফেল দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে নিরস্ত্র নিরীহ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর বিনা প্ররোচনায় গুলি করে হত্যা করে।

      তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নির্দেশে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ৬ জনকে হত্যা করেন আসামিরা। চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও ‘সম্পৃক্ততা’ রয়েছে। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির তদন্ত চলছে, সেজন্য এই মামলায় তাদের আসামি করা হয়নি। তবে নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনায় যে তাদের ভূমিকা আছে, সেটার বর্ণনা এই চার্জশিটে রয়েছে।

      এতে আরও বলা হয়, আন্দোলন দমন করতে ব্যবহার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র, এপিসি কার, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও বিপুল পরিমাণ বুলেট। পুলিশের এই অভিযানে নিহত হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া। পলাতক আসামি হাবিবুর রহমানসহ অন্য অভিযুক্তরা সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং অধীনস্তদের গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তাদের সহযোগিতা ও নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। 

      এ মামলায় আট আসামির মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক। মামলার অপর চার আসামি গ্রেফতার আছেন। 

      তারা হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত