শিরোনাম
ইফতার পার্টির নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এবার ইবিতে শিক্ষার্থীদের গণ ইফতার
ইবি প্রতিনিধি: শাবিপ্রবি, নোবিপ্রবি সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ইফতার পার্টির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গন ইফতার কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে এই আয়োজনে অংশ নেয় শতাধিক শিক্ষার্থী।
এর আগে ১০ মার্চ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ইফতার পার্টির না করার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরই প্রতিবাদস্বরূপ এই গণ ইফতার কর্মসূচি পালন করে নীরব প্রতিবাদ জানায় ইবি শিক্ষার্থীরা।
এসময় ইফতারে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী মাহবুব বলেন, ইফতার হলো ইসলামের একটি এবাদত এবং সংস্কৃতি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইফতারের মধ্য দিয়ে একটা সম্প্রতির তৈরি হয়। কোথাও কোথাও ইফতার নিষিদ্ধ করে দেশ থেকে ইসলামী সংস্কৃতিগুলো বাদ দেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা তার প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আজকের এই আয়োজনের অংশ হলাম। আমরা চাই তারা যেন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ইফতার করার সুযোগ করে দেয়।
মাভাবিপ্রবিতে গণ ইফতার কর্মসূচি
মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি: বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ইফতার মাহফিল নিষিদ্ধের প্রতিবাদে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ ইফতার কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মার্চ ২০২৪ইং) সন্ধ্যা ৬ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শাবিপ্রবি ও নোবিপ্রবিতে ইফতার পার্টিতে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গণ ইফতার কর্মসূচি আয়োজিত হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা কখনই ইসলামের সংস্কৃতিতে আঘাত হানে এমন বিষয় মেনে নিবেন না। রোজা ফরজ একটি ইবাদত ও ইফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। ক্যাম্পাস মুক্তচর্চার জায়গা যেখানে সবার ধর্মীয় উৎসব পালনের অধিকার রাখেন।
তারা পরবর্তীতে বৃহৎ আকারে গণ-ইফতার পালনের কথাও বলেন।
এস.এম জাহিদ হোসেন/
জাবিতে উপাচার্যের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
বোরহান উদ্দিনঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হোসেন হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ও মীর মশাররফ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাব্বির আলমকে অপসারণের আশ্বাসে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৩ মার্চ) বিকাল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের সঙ্গে আলোচনা শেষে ‘নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চের’ অন্যতম সংগঠক ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অধ্যাপক পারভীন জলী বলেন, ‘উপাচার্য বলেছেন, আগামী ১৭ মার্চের মধ্যে প্রক্টর ও প্রাধ্যক্ষ নিজেরাই তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দিবেন। অন্যথায় ৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী উপাচার্যের ক্ষমতা আছে, তিনি তাদেরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিবেন। উপাচার্য আগামী ১৮ মার্চ দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। তাই অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেছি। আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না করা হলে আবারো কর্মসূচিতে যাবো।’
এর আগে, সকাল নয়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক ও তার সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর একটায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন। এরপর বিকাল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ডিনরা। সেখানে আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দেন উপাচার্য।
এদিকে অবরোধ চলাকালে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনিক ভবনের কোনো কর্মকর্তা ও কর্মাচারীকে ভবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দেয়।
তাদের অন্য দাবিগুলো হলো- মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে গণরুম বিলুপ্ত করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা এবং র্যাগিং সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা; ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা; নিপীড়কদের সহায়তাকারী প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষের অপরাধ তদন্ত এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত চলাকালে তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া; মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে জড়িতদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
এর আগে, গত সোমবার সকাল নয়টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
জবি নীলদলের নেতৃত্বে জাকারিয়া-আরিফুল
জবি প্রতিনিধিঃ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীলদল ২০২৪ এর কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড.জাকারিয়া মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ মো.আরিফুল আবেদ।
বুধবার (১৩ মার্চ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীলদল সদ্য সাবেক সভাপতি ড.নূরে আলম আব্দুল্লাহ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ মমিন উদ্দিন এটি ঘোষণা করেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে নীল দলের সাধারণ সভায় ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এছাড়াও কমিটিতে সহ সভাপতি পদে আছেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড.আসমা বিনতে ইকবাল ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ, কোষাধ্যক্ষ পদে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শহিদুল্লাহ তাসফিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খায়ের মাহমুদ, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফসানা আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সহকারী অধ্যাপক কাজী ফারুক হোসেন, প্রচার সম্পাদক ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ আলমগীর হোসেন, দপ্তর সম্পাদক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাসুদ রানা । এছাড়াও কমিটিতে ১৫ জন শিক্ষককে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ ইফতার কর্মসূচী অনুষ্ঠিত
বোরহান উদ্দীন : পবিত্র রমজান মাসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ইফতার মাহফিলের উপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গণ-ইফতারের আয়োজন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ( জাবি) ৪৯ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৩ মার্চ) রমজানের ২য় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ কর্মসূচীর আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা।
এ ইফতার কর্মসূচী সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নঈম উদ্দীন বলেন, ’ ইফতারে নিষেধাজ্ঞায় প্রতিবাদ স্বরুপ আজকের এই গণ ইফতার মাহফিল। সিয়াম সাধনার মাস রমজান। রোজা সকল মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। অথচ দেশের স্বনামধন্য কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্ম চর্চার উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে।
আমরা বলতে চাই, কুচক্রী মহল যত ষড়যন্ত্র করবে আমরা আরও বেশি বেশি ইফতার করবো।’
এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাজেদুল কালাম বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইফতার মাহফিলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে আজকে আমাদের এই আয়োজন। হাজার বছরের বাঙালি মুসলিম সংস্কৃতি আমাদের পবিত্র ইফতারের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ কখনো কাম্য নয়। যারা এ হঠকারিতামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা দেশের শান্তি ও সম্প্রতি বিরোধী।
এ বিষয় জাবি শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন মীর বলেন, বাঙালি মুসলমানের ঐতিহ্য ইফতার মাহফিল। দেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ক্যাম্পাসে ইফতার মাহফিল নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে দেশ থেকে ইসলামি সংস্কৃতি বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই গণ-ইফতার কর্মসূচি পালন করেছি।
এসময় সহস্রাদিক সাধারণ শিক্ষার্থীকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য