ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

আগামী বছরই রাজনৈতিক সরকার দেখবে দেশবাসী : পরিকল্পনা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১২:১
নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী বছরই রাজনৈতিক সরকার দেখবে দেশবাসী : পরিকল্পনা উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশবাসী আগামী বছরই একটা রাজনৈতিক সরকার দেখতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা ও অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) উদ্যোগে আয়োজিত এবিসিডি সম্মেলনের প্রথম সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এই কথা জানা।

অর্থনৈতিক ও আয় বৈষম্য এই মুহূর্তে বড় একটি দুশ্চিন্তার বিষয় উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘বৈষম্য দূর করতে মানসম্পন্ন শিক্ষা দরকার, যেখান থেকে অনেক দূরে রয়েছে বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশের আর স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে থাকার সুযোগ নেই জানিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, ‘তবে, উন্নত দেশে থেকে পাওয়া সুযোগ-সুবিধা অব্যহত রাখার ব্যাপারে আলোচনা চলমান। অনেক দেশই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।’

এ সময়, মধ্যম আয়ের ফাঁদ থেকে বাঁচতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেশি মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত এস গিল। আর এই কর্মযজ্ঞে যেন উদ্যোক্তা তৈরি হয় ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দেয়ার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

এজন্য মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। ইন্দরমিত বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে কৌশলী হওয়ার পাশাপাশি সেবা ও উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়াতে বাংলাদেশকে উদ্যোগ নিতে হবে।

সেমিনারে আগামীতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা সাজানোর পরামর্শ দেয় বিশ্বব্যাংক।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ১০ ডিগ্রিতে নামল দিনাজপুরের তাপমাত্রা

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১১:৪৬
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১০ ডিগ্রিতে নামল দিনাজপুরের তাপমাত্রা

    ডেস্ক রিপোর্ট: উত্তরের জেলা দিনাজপুরে টানা কয়েকদিন ধরে কমছে রাতের তাপমাত্রা। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কুয়াশা পড়েছে, এ কারণে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়। তবে সূর্য ওঠার পর থেকে কমতে থাকে শীত।

    শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস। এর আগে শুক্রবার এ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিনের তুলনায় ঘন কুয়াশা সেই সঙ্গে বেড়েছে শীতের দাপট। এতে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকরা। এদিকে দুপুরে একটু গরম ও রাতে তীব্র শীতের কারণে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধি। খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বয়স্করা সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    দিনাজপুরের আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, জেলায় বেশ শীত পড়ে গেছে। ভোর থেকে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। গত কয়েকদিন থেকে বেশ ঠান্ডা পড়েছে। শনিবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩% এবং বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১ কিলোমিটার।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      খুবিকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২২:৩৫
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      খুবিকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস

      খুবি প্রতিনিধি: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) সৈয়দ মামুনুল আলম।

      আজ (০৬ ডিসেম্বর) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে, উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

      সাক্ষাতকালে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি অতিরিক্ত সচিবকে অবহিত করেন। তারা বলেন, এটি একটি সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানকার সাবজেক্টগুলো সব বৈচিত্র্যময়। এখানে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, চারুকলা, আইন সব বিষয়েই শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী বাড়লেও এখানে পর্যাপ্ত জমির সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের পাশাপাশি জীববিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়গুলোর মাঠ গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই। ফলে মাঠ গবেষণার কাজ আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ চাহিদার নিরিখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য অতিরিক্ত সচিবের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এ ছাড়াও আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

      এ সময় অতিরিক্ত সচিব বলেন, শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রতিবছর বিসিএস পরীক্ষায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে কাজ করছে। পদ্মাসেতু, শিল্প-কলকারখানা, পর্যটন- সব মিলিয়ে খুলনার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। আগামী দিনে খুলনা সমগ্র বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে বলে আমি মনে করি। এজন্য সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার জীবনমান উন্নয়নে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিক গবেষণা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়াতে জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজনের বিষয়টি ইতোমধ্যে জেনেছি। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রস্তাবনা পাঠালে সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট সমাধান করা হবে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করে ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় বিষয়ে নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য আহ্বান জানান।

      সাক্ষাতকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. কাজী সাইফুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (এসইডিপি) এর ডেপুটি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মিজানুর রহমান, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলরাম কুমার মন্ডল, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফাহিম ইকবাল, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী এম মোস্তাফিজুর রহমান, খুলনা সার্কেলের সহকারী প্রকোশলী জয়ন্ত কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন।

      সাক্ষাতকালে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য অতিরিক্ত সচিবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম খচিত ক্রেস্ট উপহার দেন। পরে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও অতিরিক্ত সচিব খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত অধিগ্রহণকৃত জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

      এর আগে ০৬ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণের দাবি করে আন্দোলন করেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        জাহাঙ্গীরনগরে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণিল প্রজাপতি মেলা

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২০:৮
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        জাহাঙ্গীরনগরে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণিল প্রজাপতি মেলা

        জাবি প্রতিনিধি: ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল প্রজাপতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

        আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখার উদ্যোগে ১৪ তম বারের মতো দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন সম্পন্ন হয়।

        আয়োজকেরা জানান, প্রজাপতি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই ভিন্নধর্মী মেলা। নানা প্রজাতির বর্ণিল ডানাওয়ালা প্রজাপতি আনন্দ বিলিয়েছে মেলায়। এতে পদচারণা ছিল সব বয়সের মানুষের। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের প্রজাপতির রূপ ধারণের দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

        মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সবকিছু নিয়ে আমাদের পরিবেশ। প্রজাপতি এই পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরাগায়নের মাধ্যমে প্রজাপতি পরিবেশ ও প্রকৃতি এবং বনাঞ্চল রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। পরিবেশের ছোট্ট প্রাণীটিকে ভালোবাসতে হবে। আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২০ প্রজাতির প্রজাপতি লক্ষ্য করা যেত। তবে এই সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমছে। তাই প্রজাপতি রক্ষায় এর বাসযোগ্য পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’

        বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ’জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি মেলা একটি ভিন্ন ধরনের আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

        দিনব্যাপী মেলার অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল-বর্ণাঢ্য র‍্যালি, প্রজাপতির গল্পে পাপেট শো ও প্রজাপতির অরিগ্যামি প্যারেড, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী, জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শন, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি ওড়ানো, বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে কোনো আপস নেই : নুর

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২০:৪
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে কোনো আপস নেই : নুর

          ডেস্ক রিপোর্ট: যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং শেখ হাসিনাকে দেশে এনে বিচারের সম্মুখীন করা হয় তাহলে ৫০ শতাংশ সমস্যা এমনিতেই সমাধান হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

          তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। ভারতকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে হবে তারা যদি বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ না করে, খুনি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে না দেয় তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

          শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মিরপুর ১০ নম্বরের ফকির বাড়ি লেনে জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

          নুরুল হক নুর বলেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল আমলীগকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে মিনমিন করে কথা বলছে। অর্ধেক পেটে রেখে আর বাকি অর্ধেক বলে। কারণ তারা চায় না রাজনীতির মাঠে নতুন শক্তি উত্থান হোক। নতুন রাজনৈতিক দল নেতৃত্ব দিক। তারা চায় আগে আমি আর মামু খাইছি, এখনও আমরাই খামু।

          নুর বলেন, এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের আর্তনাদ এখনো থামে নাই। যারা আহত হয়েছেন তাদের দগদগে ঘা এখনো শুকায়নি। দেয়াল লিখন এখনও জ্বলজ্বল করছে। রাজপথে রক্তের দাগ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই রক্তের দাগ শুকানোর আগেই শুনছি রাজনীতিতে পুনর্বহাল করার জন্য দেশি-বিদেশি অনেক চক্রান্ত চলছে। পৃথিবীর যে-সব দেশেই বিপ্লব হয়েছে সেখানেই কয়েক মাসের মধ্যেই এই ধরনের ষড়যন্ত্র চক্রান্ত চলেছে, সেটি বাংলাদেশেও এখন চলছে।

          গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি বলেন, আপনারা দেখেছেন গত পাঁচ আগস্টের পর আমাদের প্রতিবেশীদের ভারত তার সমস্ত ভাষাগুলো ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বলা হচ্ছে এখানে হিন্দু ভাইদের মারা হচ্ছে, আমাদের হিন্দু বোনারা নাকি শাঁখা-সিঁদুর পরে রাস্তায় বের হতে পারে না। এর চেয়ে জঘন্য মিথ্যাচার পৃথিবীতে আর হতে পারে না।

          ভারত উসকানি দিচ্ছে জানিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, একটি দেশের অন্য দেশে স্থাপনা মানে সেটি সে দেশের অংশ। আপনারা দেখেছেন কলকাতায় এবং আগরতলায় আমাদের দুটো মিশন আক্রান্ত হয়েছে। আমাদের জাতীয় পতাকায় আগুন দিয়েছে এবং সেই মিশনগুলোতে কাজ করা কর্মকর্তাদের উপর হামলা করেছে। যার মধ্য দিয়ে ভারত অপপ্রচার, প্রোপাগান্ডা ও সাম্প্রদায় উসকানির পাশাপাশি একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির তৈরির চেষ্টা করছে।

          নুর বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক হয় ন্যায্যতার ভিত্তিতে। কিন্তু তারপর বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করছে। কারণ পরিষ্কার, গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা ছিল ভারতের দাসী আর আওয়ামী লীগ ছিল ভারতের সেবা দাস। এই দেশের জনগণ যখন গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ভারতের দাসী ও সেবা দাসকে পরাজিত করেছে তখন সেটি ভারতের গায়ে লেগেছে। যার ফলে এই দাসী এবং সেবা দাসকে পুনর্বহাল করার জন্য ভারতের গণমাধ্যম ভারতের সুশীল সমাজ একতাবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

          বাংলা ভাষাভাষী মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নুর বলেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষ যারা বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন তাদের প্রত্যেককে বলব, যে যে দেশে আছেন সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে ভারতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আপনারা সঠিকভাবে তথ্য তুলে ধরুন।

          অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইউনূস সাহেবের বন্ধুরা বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে কাজ করেন। তাদেরকে আপনি এই দেশে সাত দিনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তাদেরকে পুরো বাংলাদেশ হেলিকপ্টার দিয়ে সাত দিন ঘুরিয়ে দেখান এবং তাদেরই প্রমাণ দেখুক ভারত অপ্রচার চালাচ্ছে।

          নুরুল হক নুর বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু সেই সরকারকে প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে দেখছি না। দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে। দেশের সহজ সরল মানুষ সংস্কার সংবিধান এতকিছু বোঝে না। তারা বুঝে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য বাজার স্বাভাবিক আছে কি না। কাজেই আপনাদের অনুরোধ করবো, ভর্তুকি দিয়ে হলেও দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনুন। পৃথিবীতে যত আন্দোলন হয়েছে কোথাও এমপি মন্ত্রীর বাচ্চা রাজপথে নেমে জীবন দেয় নাই। জীবন দিয়েছে এই সাধারণ মানুষেরা।

          তিনি বলেন, জাতীয় সরকার ছাড়া জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে না। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হলে এই সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। আমাদের আফসোস হয় কেন সরকার এ কথা বুঝতেছেনা। আমরা এই সরকারকে সময় দিতে চাই সহযোগিতা করতে চাই। জাতীয় সরকারের রাজনৈতিক দলগুলো থাকবে এতে করে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন সংগ্রাম করার আর কোনো জায়গা থাকবে না। জাতীয় সরকারে যদি রাজনৈতিক দল না থাকে তাহলে সেই জাতীয় সরকারকে কেউ সমর্থন দেবে না।

          সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, আপনারা কেউ কিন্তু এখনো ক্ষমতায় আসেন নাই। এখনই আপনাদের অনেকের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হয় আপনার ক্ষমতায় চলে এসেছেন। আগে যেখানে আওয়ামী লীগের লোকেরা চাঁদাবাজি করত এখন সেখানে বিভিন্ন দলের লোকেরা এসে চাঁদাবাজি করছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরও যদি চাঁদাবাজি চলে তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত