ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বিইউপিতে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৫:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিইউপিতে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী মার্চ মাসের ১১ ও ১২ তারিখে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিইউপি প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামীকাল রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। ৩ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ২০২০ ও ২০২১ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীেক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ১১ মার্চ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত আর্টস ও সোশ্যাল সায়েন্স অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ১২ মার্চ সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অনুষদে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত নেওয়া হবে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও খুলনায় একযোগে এসব ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মৌখিক পরীক্ষা হবে ঢাকায় বিইউপির ক্যাম্পাসেঅনুষ্ঠিত হবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বসন্তের কোকিলদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না: কাদের

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৫:৩৮
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    বসন্তের কোকিলদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না: কাদের

    ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বসন্তের কোকিলদের নেতা বানালে দল দুর্বল হয়ে যাবে। আর তাই বসন্তের কোকিলদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে আজ শনিবার এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি তাঁর বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

    আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এখন থেকেই দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের কেউ পরাজিত করতে পারবে না, যদি না নিজেরা নিজেদের পরাজিত করে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যই হচ্ছে আওয়ামী লীগের মূল শক্তি।’

    শেখ হাসিনার উন্নয়নের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লালের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ২০ জনের প্রাথমিক তালিকা করেছে সার্চ কমিটি

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১৪:৫৬
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২০ জনের প্রাথমিক তালিকা করেছে সার্চ কমিটি

      প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও ইসি নিয়োগে ১০ জনের নাম সুপারিশের জন্য ২০ জনের প্রাথমিক তালিকা করেছে সার্চ কমিটি।

      শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. সামসুল আরেফিন।

      আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।

      বৈঠক শেষে সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, আজকের সভায় অনুসন্ধান কমিটির সকল সম্মানিত সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আইনে প্রদত্ত বর্ণিত যোগ্যতা অনুসারে প্রস্তাবিত নামসমূহ থেকে ২০ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। আগামী ২/১টি সভায় চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হবে। আর পরবর্তী সভা রোববার বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে।

      ১০ জনের চূড়ান্ত তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরো ২/১টি মিটিং হবে।

      প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য নাম সুপারিশ করতে সার্চ কমিটি গঠন করে ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

      প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২- এর ধারা ৩ মোতাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য আইনে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করার লক্ষ্যে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি গঠন করা হলো।

      অনুসন্ধান কমিটি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ মোতাবেক দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পন্ন করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুসন্ধান কমিটির কার্য সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

      ৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম বৈঠকের পর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিগতভাবে নাম চেয়েছিল সার্চ কমিটি। এরপর বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বাদে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে তিনশতাধিক নাম জমা পড়ে। এর মধ্যে কমিটি কয়েক দফায় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেন। পরে ওয়েবসাইটে ৩২২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।

      গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হয়।

      প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত ১৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ২৭ জানুয়ারি বিলটি জাতীয় সংসদে পাসের পর ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আইনটিতে সম্মতি দেন। ৩০ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২ এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

      প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২ অনুযায়ী সার্চ কমিটি (অনুসন্ধান কমিটি) গঠন করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

      আইন অনুযায়ী, আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠিত হবে। আইনে বর্ণিত যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিবেচনা করে তারা ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবেন। ১০ জনের মধ্য থেকেই পাঁচজনকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        করোনার প্রভাবে উচ্চশিক্ষার দ্বারে আটকা ২৭ লাখ শিক্ষার্থী

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১১:৩৪
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        করোনার প্রভাবে উচ্চশিক্ষার দ্বারে আটকা ২৭ লাখ শিক্ষার্থী

        এপ্রিলে পরীক্ষা, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভর্তিযুদ্ধ আর জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস—করোনার আগে এই নিয়মেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ ঘটত। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এ ধারাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। শিক্ষাপঞ্জির এই এলোমেলো অবস্থার কারণে উচ্চশিক্ষার দ্বারে আটকে গেছেন ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ২৭ লাখ শিক্ষার্থী। এ বছর শেষ না হতেই এর সঙ্গে যোগ হবেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আরও প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী। এই প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শুরুর আগেই তাঁরা পড়েছেন এক থেকে দেড় বছরের শিক্ষাজটে।

        সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ শেষ করে এখনো ক্লাস শুরুর অপেক্ষায়। অথচ তাঁদের ক্লাস শুরুর কথা ছিল ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। এদিকে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ক্লাস শুরুর কথা ছিল গত জানুয়ারিতে। তাঁদের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে সম্প্রতি। এ ছাড়া ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের এপ্রিলে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা আগামী জুন থেকে আগস্টের মধ্যে হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষার ফল প্রকাশ, ভর্তিযুদ্ধ ও ভর্তি প্রক্রিয়া পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সময়মতো ক্লাসে বসতে পারবেন না।

        অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলেছে, করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কম সময়ে অধিক ক্লাস নেওয়া, ছুটি কমিয়ে আনাসহ একটি নীতিমালা দেওয়া হয়েছে।

        এই নীতিমালা অনুসরণ করলে শিক্ষাজট কমে আসবে।

        ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর শুরু হয় করোনার প্রথম ঢেউ। এর ফলে ওই বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাইকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন। তারপর চার মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁদের ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ক্লাস শুরু হয়নি। অথচ করোনার আগের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী এই শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর কথা ছিল ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার আগেই ১ বছরের বেশি শিক্ষাজটে পড়েছেন তাঁরা।

        সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি এবং কৃষি গুচ্ছের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি এখনো। একাধিক মেধাতালিকা দিয়েও শিক্ষার্থী পাচ্ছে না এসব বিশ্ববিদ্যালয়, যার ফলে ক্লাসও শুরু করা যাচ্ছে না।

        ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছেন রায়হান হোসেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগেই আমরা এক বছরের জটে পড়ে গেছি। উচিত ছিল দ্রুত সময়ে আমাদের ক্লাস শুরু করা। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে স্বাভাবিক নিয়মের চেয়েও ধীরগতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’

        একই অবস্থা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরও। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী গত জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করার কথা থাকলেও এই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে ১৩ ফেব্রুয়ারি। এতে রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পাস করেছেন ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। যদিও আগামী ১ এপ্রিল মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরের আগে এই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে তাঁরাও উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আগেই আট মাস বা তার বেশি সময়ের শিক্ষাজটে পড়ে গেছেন।

        এ শিক্ষাবর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ভর্তি পরীক্ষা এবং ভর্তির কার্যক্রম দ্রুত শেষ করলে এই জট থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলেই কম সিলেবাসে দ্রুত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে পারে।

        এদিকে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, করোনার কারণে এ বছরও সময়মতো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে আগামী জুন থেকে আগস্টের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তাঁরা ভর্তি পরীক্ষা শেষে ক্লাস শুরু করবেন। তবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে স্বাভাবিকভাবেই এ বছর চলে যাবে। সে ক্ষেত্রে এই শিক্ষার্থীরা কিছুটা হলেও জটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

        এ শিক্ষাবর্ষের লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘ভালোয় ভালোয় পরীক্ষাটা হলে আপাতত বাঁচি। আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষার পর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ভর্তি পরীক্ষা হলে আশা করি সমস্যা হবে না। বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করলে আমাদের জটে পড়তে হবে না।’

        এ বিষয়ে ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান বলেন, ‘এই শিক্ষাজট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি হবে। গত বছরে যারা এইচএসসি পাস করেছে, তাদের ভর্তি আগামী মার্চ পর্যন্ত চলবে। এরপর কেউ এপ্রিল বা মে মাসে ক্লাস শুরু করবে। এদিকে কয়েকদিন আগেও আরেকটা ব্যাচের এইচএসসির ফল প্রকাশ হলো। এই দুই শিক্ষাবর্ষ এখনই প্রায় এক হয়ে গেছে। আবার কয়েক মাস পর আরেকটা ব্যাচ আসছে। বিষয়টি আমাদের সময়ের মতো পুরোনো, মিডল এবং নতুন ফার্স্ট ইয়ারের মতো হয়ে যাচ্ছে, যা আসলেই হতাশাজনক।’ তিনি বলেন, এ সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করতে একটি নীতিমালা দেওয়া হবে। শিগগির ইউজিসিতে এ-সংক্রান্ত বৈঠক হবে।

        তবে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান বিভিন্ন শিফটে ক্লাস নিয়ে এ সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপুরের পর ক্লাস থাকে না। শিক্ষকদের বাড়তি কিছু সুবিধা দিয়ে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। তাহলেই সংকট অনেকাংশে কেটে যাবে। বড় কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাগ্রহের কারণে অনেক সময় এটা হয়ে ওঠে না। তাই এ বিষয়ে তাদেরও এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন এ শিক্ষাবিদ।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ নিয়ে ভোগান্তিতে বেসরকারি শিক্ষকরা

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ১১:২৬
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ নিয়ে ভোগান্তিতে বেসরকারি শিক্ষকরা

          ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করেন সিরাজুম মুনিরা। তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুপারিশ পান সাভারের নিশ্চিন্তপুর দেওয়ান ইদ্রিস উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ খবরে উচ্ছ্বসিত হলেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সে আনন্দ। নিয়োগ পাওয়া বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত পদের চাহিদা দিলেও সেটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান। তাই যোগ না দিয়ে বিষয়টি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠানে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

          শুধু মুনিরা নন, তৃতীয় ধাপে ৩৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশের পর প্রতিদিন গড়ে ৫০টির বেশি অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের স্তূপ জমেছে এনটিআরসিএতে। অভিযোগ রয়েছে প্রার্থী নারী হওয়ায় তাকে যোগদান করতে না দেওয়ার। কোনো কোনো স্কুল থেকে দাবি করা হচ্ছে অর্থ। আবার কেউ কেউ কম্পিউটার কিংবা আসবাবপত্রও দাবি করছেন। এতে মহা সংকটে পড়েছেন সুপারিশপ্রাপ্তরা।

          ভুক্তভোগী সিরাজুম মুনিরা বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি নিয়োগপত্র পাওয়ার পরদিন যোগদান করতে গিয়ে দেখি সেটি জুনিয়র মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম) পর্যন্ত এমপিওভুক্ত, মাধ্যমিক পর্যায় চালু থাকলেও সেটি নন-এমপিও। তাই আমি যোগদান করিনি। সেখানে যোগদান করলে সরকারি কোনো সুবিধা পাবো না।

          ‘নিশ্চিন্তপুর দেওয়ান ইদ্রিস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি এনটিআরসিএতে লিখিত অভিযোগ জানালেও এখনো তার সমাধান পাইনি। ২০ ফেব্রুয়ারি যোগদানের শেষ সময়।’

          খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনটিআরসিএর সুপারিশপ্রাপ্তদের কাছে যোগদানের জন্য অর্থও দাবি করা হচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষককে যোগদান করতে না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। আবার সরাসরি অর্থ না চেয়ে দাবি করা হচ্ছে কম্পিউটার বা বিভিন্ন আসবাবপত্র। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধানদের যোগসাজশে প্রার্থীদের জিম্মি করা হচ্ছে। কিন্তু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা গণমাধ্যমকে বলতেও ভয় পাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

          ফিরোজ রহমান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার একটি মাধ্যমিক স্কুলে সুপারিশ পেয়েছেন। কিন্তু যোগদান করতে গেলে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি তার কাছে চার লাখ টাকা দাবি করেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন তিনি।

          তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না কি করবো। প্রতিষ্ঠান প্রধান আমাদের সামনেই সভাপতিকে বলেছেন এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া উচিত হবে না। কিন্তু সভাপতি বলেছেন ওনাকে খুশি না করে কীভাবে নিয়োগ হয় তা উনি দেখে নেবেন।

          ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার একটি আলিম মাদারাসায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ফারজানা খন্দকার। প্রার্থী নারী হওয়ায় তাকে যোগদান করতে দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ওই প্রতিষ্ঠানের অধীনে মাজার আছে। ওই মাজারের পির সাহেব নিজেই সভাপতি। যোগদান করতে প্রতিষ্ঠানে গেলে অধ্যক্ষ ভালো ব্যবহার করলেও সভাপতির সঙ্গে দেখা হতেই তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘এ প্রতিষ্ঠানে কোনো নারী চাকরি করবে না।’

          ভুক্তভোগী বলেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধান বলেছেন তিনি সভাপতিকে রাজি করাবেন। এজন্য তিনি সময় চেয়েছেন।

          অন্য প্রার্থীদের মতো ভয়ে মাদরাসারটির নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

          মতিয়ার রহমান নামের আরেক প্রার্থী জানান, তিনি একটি মাদরাসায় নিয়োগের সুপারিশ পান। প্রথমে মাদরাসাপ্রধান ভালো ব্যবহার করেন। পরে যোগদান নিয়ে আলোচনার পর আমাকে বলেন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেছে, সেটি কিনে দিতে হবে।

          তিনি বলেন, আমি তাকে জানিয়েছি ২০ হাজার টাকা দেবো। তিনি বলেছেন সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে আমাকে জানাবেন।

          এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. এনামুল কাদের খান বলেন, সুপারিশপ্রাপ্ত অনেক প্রার্থীর অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যোগদান কার্যক্রম চলবে, তারপর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুপারিশপ্রাপ্ত সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

          তিনি বলেন, সুপারিশ পাওয়ার পরও যাদের যোগদান করতে দেওয়া হচ্ছে না সেসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের শোকজ করা হবে। সন্তোষজনক কারণ দেখাতে না পারলে তাদের এমপিও বাতিলসহ নেওয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। যে সব প্রতিষ্ঠান থেকে ভুল তথ্য দিচ্ছে তাদের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হবে। ইচ্ছেকৃত কেউ ভুল করলে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।

          নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের কী হবে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের নিজস্ব জনবল না থাকায় উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়। এসব মাঠ কর্মকর্তাদের বারবার নির্ভুলভাবে তথ্য দিতে বলা হলেও তাদের যাচাই-বাছাইয়ের পরও অনেক তথ্যে ভুল ধরা পড়ছে। তারা আমাদের অধীন না হওয়া এ বিষয়ে কোনো জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

          তিনি বলেন, সৃষ্ট পদ নেই, নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তি, নারী কোটায় পুরুষ বা পুরুষ কোটায় নারী নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের নিজ ঠিকানার পার্শ্ববর্তী এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে নিয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন ডেলে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

          তবে মাঠ কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (বিদ্যালয়) অধ্যাপক বেলাল হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, এনটিআরসিএ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় না করে মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য চায়। সেখানে আমাদের কিছু করার থাকে না। তারা যদি আমাদের কাছে চিঠি দিয়ে এসব তথ্য চাইতো তবে সেখানে ভুল থাকলে আমরা তাদের কাছে জবাবদিহি করতে পারি। সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিনিয়ত এসব ভুল হচ্ছে।

          এনটিআরসিএ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ৩০ মার্চ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। বিভিন্ন নিবন্ধনের রিটকারীদের জন্য দুই হাজার ২০০টি পদ সংরক্ষণ করে বাকি পদগুলোতে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

          আবেদন না পাওয়া এবং নারী কোটায় যোগ্য প্রার্থী না থাকায় ১৫ হাজার ৩২৫টি পদ বাদ রেখে ৩৮ হাজার ২৮৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করেননি ছয় হাজার প্রার্থী। ফলে ৩২ হাজার ২৮৩ জনের পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে। পরে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তাদের নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। একদিকে পুলিশ ভেরিফিকেশন চলবে অন্যদিকে তারা সুপারিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবেন।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত