শিরোনাম
৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ গঠনের সিদ্ধান্ত সরকারের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্তি বাতিলসহ রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, মানসম্মত শিক্ষা, সময়মতো পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফল প্রকাশ ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও পাঠদানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অপারেশন ম্যানুয়েলও অনুমোদন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী ২৩ নভেম্বর ক্লাস শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া প্রণয়ন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়। খসড়া অধ্যাদেশটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সুধীজনের কাছ থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত প্রতিটি মতামত আইনগত ও বাস্তবতার নিরীখে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং খসড়াটি পুনর্মূল্যায়ন ও পরিমার্জন কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে, এই বিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এতে বলা হয়, অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণসহ সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগলেও, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সচেতন। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যাবলী পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই কার্যক্রমকে দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সকল অংশীজনের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। ব্যক্তিগত ধারণা বা গুজবের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, ৬৩ শতাংশই কোটা
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জারি করা এ নীতিমালায় আগামী শিক্ষাবর্ষেও ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী—সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যান্ট্রি (প্রবেশ) শ্রেণিতে এবং আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে।
‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ অনুযায়ী ৬ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তবে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ৫ বছর এবং ৩১ ডিসেম্বর তারিখে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হবে।
ভর্তির তারিখ ও ফি:
কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠানের তারিখ ও সময় এবং আবেদন ফি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নির্ধারণ করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
বিদ্যালয় পছন্দক্রম যেভাবে:
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয়ে ভর্তির পছন্দক্রম দিতে পারবে।
তবে ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম (দুটি বিদ্যালয় পছন্দক্রম) সম্পাদন হয়েছে বলে গণ্য হবে।
বিদ্যমান অনলাইন ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়ায় আরো স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যেকোনো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি সফটওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ক্যাচমেন্ট এরিয়া:
এবারও সরকারি বিদ্যালয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরের ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় তিনটি ভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত থাকবে।
ঢাকা মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন সর্বোচ্চ তিনটি থানাকে ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ হিসেবে নির্ধারণ করতে পারবেন। ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত (কোটা) রাখা হবে।
কার জন্য কত শতাংশ কোটা:
ক্যাচমেন্ট এরিয়ার জন্য ৪০ শতাংশ কোটা এবারও বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গতবারের মতো এবারও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ কোটা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ১ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। তবে এবার কোটা বণ্টনের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ০.৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ০.৫ শতাংশ পৃথক করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া যমজ ও সহোদর কোটার ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিগত বছর যমজ কোটা ছিল ৩ শতাংশ। এটি এবার কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। আর সহোদর কোটা বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। আগে সহোদর কোটা ছিল ২ শতাংশ। তবে যমজ ও সহোদর কোটার জন্য এক দম্পতির সর্বোচ্চ তিন সন্তান পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন অবশ্যই বরাদ্দ রাখতে হবে।
ভর্তি কমিটি:
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ঢাকা মহানগর ভর্তি কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আবেদন-লটারির সম্ভাব্য তারিখ:
নীতিমালা অনুযায়ী—স্কুলে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, লটারি ও ভর্তির সময়সূচি ঠিক করবে মাউশি। গত ১০ নভেম্বর মাউশির এক সভায় স্কুলে ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্নে সম্ভাব্য সময়সূচি ঠিক করা হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে এ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১৪ ডিসেম্বর ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠিত হতে পারে। লটারি হওয়ার পর তাতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ১৭-২১ ডিসেম্বর ভর্তি হতে পারবে।
জুলাই বিরোধীদের তালিকা পুনর্মূল্যায়ন ও যথোপযুক্ত শাস্তির আহ্বান ইবি জিয়া পরিষদের
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের চলমান জুলাই বিপ্লব-বিরোধী অবস্থান গ্রহণকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিচারের কার্যক্রমের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে জিয়া পরিষদ ইবি শাখা। একই সঙ্গে অপরাধীদের তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপরাধ ব্যক্তিবর্গ যেন শাস্তি না পায় সেক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (১২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামসহ পরিষদের নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক ড. আলিনুর রহমান, অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, অধ্যাপক ড. মতিনূর রহমান, অধ্যাপক ড. নজিবুল হক, অধ্যাপক ড. নূরুন নাহার, অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক ড. এ কে এম নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আ হ ম নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ, অধ্যাপক ড. জুলফিকার, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা যারা চালিয়েছিল, তাদের বিচার ইতিহাসের দাবি। প্রশাসন সঠিক পথে এগোচ্ছে, তবে এই প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার যেন নিশ্চিত হয়, সেটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনীতিমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও জ্ঞানচর্চার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে অপরাধী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সাজিদ হত্যার বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের এক সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এত দিন পরও বিচার সম্পন্ন না হওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়া, সভায় উপস্থিত নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইবিতে 'জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রক্রিয়া' বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মানবাধিকার ও যুবকদের ভূমিকা -শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইইআর ভবনের ১০২ নং কক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে সোচ্চার স্টুডেন্ট'স নেটওয়ার্ক ইবি চ্যাপ্টার।
এ কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন জাতিসংঘের গভর্নেন্স বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র মানবাধিকার কর্মকর্তা জাহিদ হোসাইন, সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগের প্রজেক্ট ম্যানেজার ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সুমাইয়া তামান্না এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও সোচ্চার ট্রমা ম্যানেজমেন্ট ও সাপোর্ট বিভাগের সহকারী পরিচালক সুমাইয়া তাসনিম। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ইবির সহকারী প্রক্টর ও সোচ্চারের উপদেষ্টক অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলাম। এছাড়াও সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত, সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলুসহ ৩০ জন নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থী। উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় মানবাধিকারের মৌলিক বিষয়, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রক্রিয়া, ট্রমাটাইজড ব্যক্তিদের মোকাবিলার পন্থা ও ক্যাম্পাসে মানবাধিকার ডকুমেন্টেশন ও এক্টিভিজম চ্যালেঞ্জ নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
এসময় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত বলেন, সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধন মানবাধিকার সংগঠন। সংগঠনটি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সোচ্চার স্টুডেন্ট'স নেটওয়ার্ক নামে শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধ, নির্যাতন শিক্ষার্থীর আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় ৮ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে জুলাই বিপ্লবের উপর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের উপর সেমিনার আয়োজন করেছি। একইসাথে ৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাইকৃত ৩০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে দিনব্যাপী মানবাধিকার প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধে সোচ্চার স্টুডেন্ট'স নেটওয়ার্ক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আগামী দিনেও কার্যক্রম গতিশীল রাখবে। ইনক্লুসিভ ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে সোচ্চার বদ্ধপরিকর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, আমরা জেলায় জেলায় রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়েছি। অথচ আমাদের প্রয়োজন ছিল গুণগত পরিবর্তন। আমরা আমাদের স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিয়েছি এ প্লাস। অথচ আমাদের সমাজে নারীদের মূল্যায়ন নেই, মানুষের নিরাপত্তা নেই। এটাই কি উন্নয়ন? সক্রেটিস বলেছেন নো দাই সেল্ফ। আমরা অধিকার নিয়ে কথা বলি কিন্তু আমাদের কর্তব্য আমরা জানিনা। এসব আমাদের ভাবতে হবে। নলেজ ইজ পাওয়ার। এখানে কোন জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে? ভার্চুয়াস নলেজ। এখানে একাডেমিক শিক্ষার কথা বলা হয়নি। এখানে সৎ জ্ঞান, সৎ গুণ অর্জনের কথা বলা হয়েছে। এজন্য দরকার ধর্মীয় শিক্ষার। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষা বলতে আমাদের বোঝানো হতো জামাত শিবির। অথচ প্রতিটি ধর্মেই নৈতিকতা ও ভার্চুয়াল নলেজ দেয়া হয়েছে। আমরা যেহেতু সোচ্চারের সাথে কাজ করছি, সোচ্চার যেহেতু আমাদের অধিকারের কথা বলে, এর সাথে আমাদের কর্তব্যের বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। তবেই আমরা একটি সুন্দর ক্যাম্পাস ও সুন্দর দেশ পাবো।
"নৈতিক প্রজন্ম গড়তে হলে, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দাও" মানববন্ধনে ইবি শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে "প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক পদ তৈরি করতে হবে; নৈতিক প্রজন্ম গড়তে হলে, ধর্মীয় শিক্ষায় বিকল্প নেই; ধর্মহীন শিক্ষা অসম্পূর্ণ শিক্ষা; ধর্মীয় শিক্ষা নৈতিকতার ভিত্তি; ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দাও" ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এসময় থিওলজি অনুষদের শিক্ষার্থীরা বলেন, এদেশে অসংখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, সেখানে ইসলাম সাবজেক্ট রয়েছে কিন্তু সেখানে কোনো ধর্মীয় শিক্ষক নেই। এই বিষয়ে এমন ব্যক্তিরা ক্লাস নেয় যারা ইসলামের যথাযথ জ্ঞান রাখে না। এমনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে অমুসলিম শিক্ষাক এই বিষয়ে পাঠদান করেন। সেখানে শিক্ষার্থীরা কতটুকু ইসলামনে জ্ঞান লাভ করতে পারে? ৯০% মুসলিমদের দেশে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি এমন আচরণ এদেশের মানুষ মেনে নিতে পারে না। এই এই সংকীর্ণতার কারণে আমাদের শিশু-কিশোরেরা তাদের ধর্মীয় জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মানববন্ধনে তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক পদ তৈরি করার জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে আহ্বান জানান, না হলে দেশের সচেতন সমাজ নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।
এ সময় আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ ইহসান ভূঁইয়া বলেন, 'এদেশের শিশুরা ১০ বছর পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শেখার পরও সালাত আদায় করার পরিপূর্ণ নিয়ম-কানুন ও সহি-শুদ্ধ ভাবে কুরআন তিলাওয়াত শিখতে পারে না, এর থেকে বড় লজ্জার আর কী হতে পারে? স্বাধীনতার ৫৪ বছর হয়ে গেলো, এত দিনেও এই দাবি আদায় হয়নি। তবে কথিত ফ্যাসিস্ট সরকার কে এই ছাত্রজনতা যেভাবে বিদায় করেছে তারপরে আমরা আশা করেছিলাম এ দাবি পূরণ হবে। কিন্তু আমাদের মুসলিম জনতা পূর্বেও দাবি তুলেছেন বিভিন্ন মানববন্ধন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তারপরও অন্তবর্তীকালীন সরকারের গায়ে লাগে নাই।
এসময় তিনি অন্তবর্তীকালীন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মুসলিমদের সাথে আগুন নিয়ে খেলবেন না, তারা তাদের দাবি আদায় করতে জানে। তারা যদি রাস্তায় নামে তাহলে পালানো ছাড়া আর কোনো পথ দেখবেন না।'
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য