The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
শনিবার, ২রা মার্চ, ২০২৪

কবি জসিম উদ্দিনের কবিতার সেই আসমানীর ছেলের সংসার চলে ভিক্ষা করে!

‘আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও/ রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও, বাড়িতো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি/ একটুখানি বৃষ্টি হলে গড়িয়ে পড়ে পানি’ এভাবেই আসমানীর দুর্ভোগ দুর্দশা নিয়ে কবিতার মাধ্যমে পল্লীকবি জসিম উদ্দিন তুলে ধরেছিলেন জীবন ধারা।

সেই আসমানীর ছেলে আশরাফুলের সংসার চলছে ভিক্ষা করে।জীবন-জীবিকার তাগিদে ফরিদপুর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে সংসার চালান পঙ্গু আশরাফুল।

আশরাফুল ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা। আশরাফুল বলেন, এক সময় কাজ করে সংসার ভালোই চলতে। কিন্তু ২০১৪ সালে ঢাকা থেকে ফরিদপুর ফেরার পথে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাটে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার শিকার হই। এতে ডান হাতটি ভেঙ্গে যায়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় এখন পুরোপুরি পঙ্গু। ভিক্ষা করা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই।

আসমানীর ছেলে বলেন, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান চৌধুরী পঙ্কজ আমাকে একটি পুঙ্গ ভাতা করে দিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় সাধ্য মতো সহযোগিতাও করতেন। পরে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মজনু নির্বাচিত হয়ে ভাতাটি বন্ধ করে দেন। আমি পঙ্গু মানুষ কোনো কাজ করতে পারি না। কেউ কাজকর্মেও নেন না। তাই পেটের দায়ে ভিক্ষা করে কোনো মতে জীবন চালাচ্ছি।

সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী পঙ্কজ বলেন, আশরাফুল পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের কবিতার আসমানীর সন্তান। আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে আশরাফুলকে একটি পুঙ্গ ভাতাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। এখনও সাধ্যমতো তাকে সাহায্য সহযোগিতার চেষ্টা করি।

ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলামের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিটন ঢালী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যোগাযোগ করলে নিয়ম অনুযায়ী তার পঙ্গু ভাতাসহ তাকে সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. জাতীয়
  3. কবি জসিম উদ্দিনের কবিতার সেই আসমানীর ছেলের সংসার চলে ভিক্ষা করে!

কবি জসিম উদ্দিনের কবিতার সেই আসমানীর ছেলের সংসার চলে ভিক্ষা করে!

‘আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও/ রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও, বাড়িতো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি/ একটুখানি বৃষ্টি হলে গড়িয়ে পড়ে পানি’ এভাবেই আসমানীর দুর্ভোগ দুর্দশা নিয়ে কবিতার মাধ্যমে পল্লীকবি জসিম উদ্দিন তুলে ধরেছিলেন জীবন ধারা।

সেই আসমানীর ছেলে আশরাফুলের সংসার চলছে ভিক্ষা করে।জীবন-জীবিকার তাগিদে ফরিদপুর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে সংসার চালান পঙ্গু আশরাফুল।

আশরাফুল ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা। আশরাফুল বলেন, এক সময় কাজ করে সংসার ভালোই চলতে। কিন্তু ২০১৪ সালে ঢাকা থেকে ফরিদপুর ফেরার পথে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাটে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার শিকার হই। এতে ডান হাতটি ভেঙ্গে যায়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় এখন পুরোপুরি পঙ্গু। ভিক্ষা করা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই।

আসমানীর ছেলে বলেন, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান চৌধুরী পঙ্কজ আমাকে একটি পুঙ্গ ভাতা করে দিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় সাধ্য মতো সহযোগিতাও করতেন। পরে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মজনু নির্বাচিত হয়ে ভাতাটি বন্ধ করে দেন। আমি পঙ্গু মানুষ কোনো কাজ করতে পারি না। কেউ কাজকর্মেও নেন না। তাই পেটের দায়ে ভিক্ষা করে কোনো মতে জীবন চালাচ্ছি।

সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী পঙ্কজ বলেন, আশরাফুল পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের কবিতার আসমানীর সন্তান। আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে আশরাফুলকে একটি পুঙ্গ ভাতাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। এখনও সাধ্যমতো তাকে সাহায্য সহযোগিতার চেষ্টা করি।

ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলামের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিটন ঢালী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যোগাযোগ করলে নিয়ম অনুযায়ী তার পঙ্গু ভাতাসহ তাকে সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন