শিরোনাম
আগামী এপ্রিলের মধ্যে জকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের
জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ( জকসু) নির্বাচনের লক্ষে নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা প্রনয়ন এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে গনতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ।
আজ রবিবার ( ১৬ মার্চ) বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের পক্ষে যুগ্ম আহবায়ক নুরনবী ও সংগঠক ফয়সাল মুরাদ যৌথভাবে এই স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর তুলে ধরে ।
এতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার উর্বর ক্ষেত্র হলো- ছাত্র সংসদ। শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ছাত্র সংসদ ৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০ বছর হলেও এখনও জকসু নির্বাচন সম্ভব হয়নি। এতে করে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব হয়েছে।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো - ১. এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে ২. সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। ৩. আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিচার দাবিতে পাবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনে তালা
পাবিপ্রবি প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে অশ্লীল ও উসকানিমূলক মন্তব্য করায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী বিকর্ণ দাস দিব্য ও ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী প্রণয় কুন্ডুর বহিষ্কারের দাবিতে প্রসাশনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও ভবনে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১৬মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে সকাল ১১.৩০ অবস্থান কর্মসূচি ও প্রসাশনিক ভবনে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন চালিয়ে যাবার হুশিয়ারি দেন। প্রশাসন যদি দাবি আদায় না করেন তাহলে তালা খুলবে না বলেন জানান শিক্ষার্থীরা।
প্রশাসনের কাছে ৩ দফা দাবি ও প্রমাণ সংযুক্ত করে প্রশাসনের কাছে স্মারক লিপি দেন। দফাগুলো হলো: ১. বিকর্ণ দাস দিব্য ও প্রণয় কুন্ডুকে বহিষ্কার করতে হবে। ২. ইসকনকে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং এদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। ৩. ফার্মেসী বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের বিদ্যুৎ চন্দ্র পাল, ২০১৭-১৮ সেশনের সুবর্ণা সরকার, ২০১৮-১৯ সেশনের দিপু বিশ্বাস, ২০১৯-২০ সেশনের তনয় সরকার, ২০১৯-২০ অত্রি সাহা, ২০২২-২৩ সেশনের অঙ্কন ঘোষ ও ২০২২-২৩ সেশনের প্রজ্ঞা পারমিতা এর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমান স্ক্রিনশট হিসাবে পাওয়া যায়। এর সঙ্গে জড়িত সকল নামধারী ও অজ্ঞাত সকলের উপযুক্ত শাস্তি হিসাবে স্থায়ী বহিষ্কার দাবী করছি।
শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) প্রণয় কুন্ডু তার ফেসবুক টাইমলাইনে "ধর্ষক মানসিকতার মাস্টারমাইন্ড" শিরোনামে ড. জাকির নায়েকের একটি ছবি শেয়ার দিয়ে লিখেন: "যাই হোক না কেন, দোষ মেয়েদের। মেয়ে যদি দুধের শিশুও হয়, তাও দোষ মেয়েদের। মেয়েরা Attract করে ছেলেদের দিয়ে rape করায়।
এই পোস্টের মন্তব্যে বিকর্ণ দাস লিখেন, "এর ভক্তরা তো এর মূত্র সেবন করতে পারলেই ভাবে জান্নাত নিশ্চিত।"
এই পোস্ট ও মন্তব্যের জেরে ক্যাম্পাসের সাধারন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং বিচারের জন্য প্রসাশনকে আবেদনপত্র জমা দেন।
তিনদিন পার না হতেই (১৫ মার্চ) ফার্মেসি বিভাগের সনাতন বিদ্যার্থী সংগঠনের মেসেঞ্জার গ্রুপের কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য দেখা যায়।
শিক্ষার্থীরা জানান,ধর্মীয় উসকানিদাতা ও অশ্লীল কটূক্তিকারীদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেন আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। ভবনের তালা খুলবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য আমাদের ব্যথিত করে, এবং আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের উপস্থিতিকে নিরাপদ মনে করি না।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিকর্ণ দাস দিব্য ও প্রণয় কুন্ডু পাবিপ্রবির ইতিহাসকে কলঙ্কিত চরিত্র। তারা ইসলাম ধর্মকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান সবাই ভাই ভাই হিসেবে বসবাস করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। পাবিপ্রবির বুকে কোনো ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার দুঃসাহস ভবিষ্যতে আর কেউ দেখাবে না।
জাবি শিক্ষার্থীর পিতাকে হত্যার প্রতিবাদে আইন অনুষদের মানববন্ধন
জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগের ৫ম ব্যাচের (৪৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবিদুল হুদার পরিবারের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা এবং তার বাবার হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে জাবির আইন অনুষদ।
রোববার (১৬ মার্চ) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম।
মানববন্ধনে আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে এই বর্বোরোচিত হামলার এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসাথে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যেন এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
আবিদুল হুদার সহপাঠী আইন অনুষদের সাবেক শিক্ষার্থী মুহসিন বিল্লাহ বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে গত ১৪ মার্চ তার পরিবারের উপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় এবং এই হামলায় তার পিতা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। একইসাথে এ হামলার ঘটনায় যেসকল সন্ত্রাসী জড়িত তাদেরকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি জানাচ্ছি।
জাবি আইন শিক্ষার্থী সংসদের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি মুর্তজা সাকিব বলেন, আবিদুল ভাইয়ের পিতার নৃশংস হত্যা এবং তার পরিবারের উপর বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। সেইসাথে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, এই হামলার সঙ্গে যারা জড়িয়ে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হোক।
এ সময় কক্সবাজার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বোরহান রব্বানী বলেন, জুলাই আন্দোলনে আবিদুল হুদা ভাইয়ের ছোট ভাই কক্সবাজারে সম্মুখ সারিতে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সেই থেকেই স্থানীয় আওয়ামী দোসররা তাদের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসীরা আবিদুল হুদা ভাইয়ের বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং পরিবারের একাধিক সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আমরা এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাই।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের আজকের মানববন্ধনের অন্যতম কারণ আমাদের সাবেক শিক্ষার্থী আবিদুল হুদার পরিবারের উপর নৃশংস হামলা ও তার বাবাকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে তার প্রতিবাদে। এই মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু না, এটি রাজনৈতিক দূর্বৃত্তয়ানের খেলা। নির্বাহী বিভাগ থেকে দোষ চাপানো হচ্ছে যে এটি জমিজমা সংক্রান্ত কিন্তু যা সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল রাজ্জাক ৪০ জনের মতো মানুষ নিয়ে তাদের উপর হামলা করেন। সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ঘটনাটি জানলেও যথা সময়ে উপস্থিত হননি। পুলিশের গড়িমসির কারণেই এই হত্যাকান্ড হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের পক্ষ থেকে বলতে চাই এই ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এর থেকেও কঠোর আন্দোলন করব।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ রাতে কক্সবাজারের নিজ এলাকায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের মদদে স্বপরিবারে হামলার শিকার হন আবিদুল হুদা। এ হামলায় আবিদুলের পিতা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
সাত কলেজ নিয়ে হচ্ছে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
রোববার (১৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে শিক্ষার্থীদের ৩২ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতিনিধি দলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিয়ে বিভক্ত মতামত ছিল। তাদের মধ্যে ১৭ জন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সি’ নামের পক্ষে ছিলেন, অন্যরা ‘ফেডারেল ইউনিভার্সিটি’ নাম প্রস্তাব করেন। পরে ইউজিসির পরামর্শে শিক্ষার্থীরা নিজেরা আলোচনা করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একমত হন।
এর আগে, গত ১৩ মার্চ ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সাত কলেজের জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নির্ধারণ এবং নামকরণের বিষয়ে মতবিনিময় সভার ঘোষণা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং সরকারি বাঙলা কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে এই সাত কলেজ স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে।
মাভাবিপ্রবি যেন মশার রাজ্য
মো.জাহিদ হোসেন: টাঙ্গাইলের অবস্থিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। আবাসিক হল, শ্রেণিকক্ষ, বিজয়াঙ্গন,ক্যাফেটেরিয়া খাবারের দোকানসহ সর্বত্র মশার উপদ্রব।
শিক্ষার্থীরা জানান, দিনের বেলায় ক্যাম্পাসে মশার প্রকোপ আগে থেকে অনেক বেড়েছে। এছাড়া বিকাল থেকে রাত অবধি ঝাঁকে ঝাঁকে মশার উৎপাতে শান্তিতে বসে থাকা যায় না। সন্ধ্যার পর পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। আবাসিক হলগুলাতেও অবস্থা আরো বেশি খারাপ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো:হাবিবুল্লাহ বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় মশা বেড়েছে। ফলে শান্তিতে বসার মতো পরিস্থিতি নেই। টং দোকান, ক্যাফে, একাডেমিক ভবনের নিচতলা এবং এর উপরে সব জায়গাতেই মশা উৎপাত করছে। এটা একই সঙ্গে যেমন অস্বস্তির, তেমন ভীতিরও।
কয়েকমাস সারাদেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছিল চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গু আমাদেরকে অনেক ভুগিয়েছে। যদি আমরা সতর্ক না হই, মশা নিধন না করি, তাহলে মশাবাহিত রোগব্যাধি বেড়ে যেতে পারে।”কর্তৃপক্ষ কাজ করছে, তবে এটা কার্যকরী হচ্ছে না; এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের আরও জোড়ালো ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই শিক্ষার্থী।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তোয়ানূর নাহার রিয়া বলেন, “মশার উৎপাত বেড়েই চলেছে। এইভাবে চলতে থাকলে আমরা অসুস্থ হয়ে যাব। মশারী ছাড়া ঘুমানোটা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।”একই কথা বলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হলের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য বনিকসহ আরও অনেকেরই।
ঐশ্বর্য বনিক বলেন, আগে মশা তেমন ছিল না, এখন অনেক বেড়েছে। মশারি আর কয়েল ছাড়া রুমে ঘুমানো যায় না। মশা কানের কাছে ভনভন করে। বিশেষ করে হলের নিচতলায় মশা তুলনামূলক বেশি।মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে বাধ্য হয়ে মশারি টাঙিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, স্থিরভাবে বসাই যায় না, একটু বসলেই মশার কামড়।
এ কারণ হিসেবে ক্যাম্পাসের ময়লা আবর্জনাকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা।
মশকনিধনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, যত্রতত্র বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড় ও আগাছা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পয়োনিষ্কাশনের নর্দমা ও ময়লা ফেলার জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং মশকনিধনে ওষুধ না ছিটানোয় মশার উপদ্রব বাড়ছে।
সমাপ্তি খান নামের একনারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রশাসনের অবহেলা ও অসচেতনতার কারণেই মশার উপদ্রব বেড়েছে। হলরুম, লাইব্রেরি কিংবা আড্ডার স্থান কোথাও মশা থেকে রেহাই নেই। যেখানেই যাই চারিদিকে শুধু মশা আর মশা।
শেখ রাসেল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো:আসিফ হোসেন বলেন, ‘মশার লার্ভা নিধনে হলে এ পর্যন্ত একবারও ফগার মেশিন ব্যবহার করতে দেখি নাই । সন্ধ্যার পর কয়েল ছাড়া কক্ষে টেকাই যাচ্ছে না।’
সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, দিনের বেলা কম হলেও সন্ধ্যা নামার আগে আগে মশার উৎপাত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সন্ধ্যার পর মুক্তমঞ্চ, সেন্ট্রাল ফিল্ড ও তৃতীয় একাডেমিক সহ ক্যাম্পাসের কোথাও বসা মুশকিল। ক্যাম্পাসের হল গুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক খারাপ,নোংরা পানি জমে রয়েছে । এছাড়া ক্যাম্পাসে যত্রতত্র ময়লা-আর্বজনার স্তূপের কারণেই মশার প্রকোপ বাড়ছে।হলের চারপাশ ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঝোপঝাড় তো রয়েছে। মশা নিধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
মশক নিধনে কি কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের পরিচালক ড. মোঃ আশরাফ আলী আমাদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয় একটি খোলামেলা জায়গা চারদিকে খাল বেষ্টিত যা সচল নহে, এখানে পশু হাসপাতালসহ খাল সংলগ্ন অত্র এলাকার জনসাধারণ ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে মশার উৎপত্তি হয় তাছাড়াও বর্তমানে আবহাওয়াগত সিজনাল কারণে সারা বাংলাদেশে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। তদুপরি পৌরসভা জনবলের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে ক্যাম্পাসে মশা মারার স্প্রে করা অব্যাহত আছে। এছাড়াও এস্টেট অফিসের উদ্যোগে পৌরসভার জনবল দিয়ে বিভিন্ন অফিস ও হলের চাহিদার প্রেক্ষিতে মশা ও অন্যান্য বিষাক্ত কীট পতঙ্গ নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হয়। উল্লেখ্য যে এস্টেট অফিসের মশক নিধনে স্প্রে করার অভিজ্ঞ জনবল নেই।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য