শিরোনাম
ছাত্রদের দল গঠন নিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে যা বললেন ড. ইউনূস
আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যান তিনি। সেখানে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স প্রধান গিডেয়েন র্যাচম্যানের উপস্থাপনায় একটি পডকাস্টে কথা বলেন তিনি। সেখানেই ছাত্রদের দল গঠনের বিষয়টি নিয়ে ধারণা দেন প্রধান উপদেষ্টা।
পডকাস্টে ড. ইউনূস বলেন, “ছাত্ররা দল গঠন করবে। শুরুতে যখন আমি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করছিলাম, আমার উপদেষ্টা পরিষদে তখন তিন ছাত্রকে নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, যদি তারা দেশের জন্য জীবন দিতে পারে, তারা উপদেষ্টা পরিষদে বসতেও পারে এবং যেটির জন্য জীবন দেওয়া হলো, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্তও নিতে পারে। তারা এখন ভালো কাজ করছে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা এখন বলছে, কেন আমরা আমাদের নিজেদের দল গঠন করছি না। আমরা একটি সুযোগ নেব।”
তবে ছাত্রদের দল গঠনের বিষয়টিকে অনেকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। ছাত্ররা দল গঠন করলে একটি আসনও পাবে না এমন কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তিনি তাদের উৎসাহ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি বলেন, “তারা বলছে, ছাত্রদের কোনও সুযোগ নেই। এবং ছাত্ররা সংসদে একটি আসনও পাবে না। কারণ কী? কারণ কেউ তাদের চেনে না। আমি বলেছি, পুরো দেশ তাদের চেনে। তাদের একটি সুযোগ নিতে দাও। তারা যাই করতে চায়, তাই করবে।”
তবে দল গঠন করলে দেশের নষ্ট রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদদের কবলে পড়ে ছাত্ররা বিভক্ত হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি চান, ছাত্ররা দল গঠন করুক।
তিনি বলেন, “সম্ভবত দল গঠনের প্রক্রিয়ার সময় তারা বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। এটি একটি বিপদ। কারণ এতে রাজনীতি যুক্ত হবে। সব রাজনীতিবিদরা তাদের মধ্যে ঢুকবে। তাই আমরা জানি না, বাংলাদেশে যে রাজনীতি রয়েছে সেখান থেকে তারা তাদের মুক্ত করতে পারবে কি না। তবে এটি একটি ঝুঁকি, যা আমাদের নিতে হবে। ছাত্ররা দল গঠনে তৈরি আছে। তারা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করছে, এটা দরকার। কারণ তারা রক্ত দিয়ে যেগুলো অর্জন করেছে, সেগুলো রক্ষা করতে হবে। নয়ত সুযোগ সন্ধানীরা সেগুলো নিয়ে যাবে। যারা আগের মতো সবকিছুর পুনরাবৃত্তির সুযোগ খুঁজছে।”
ওই পডকাস্টে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়েও কথা বলেছেন ড. ইউনূস। তিনি বলেছেন, “আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ছাত্ররা। আমি তাদের চিনতাম না। তাদের সম্পর্কে আগে কিছু শুনিনি। আমি তাদের বোঝাতে থাকি, তোমরা অন্য কাউকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য খুঁজে বের কর। কিন্তু তারা আমাকে বলে, ‘না, না, আপনাকে এখানে থাকতে হবে। আমরা অন্য কাউকে খুঁজে পাব না।’ আমি তাদের বলি ‘চেষ্টা করে দেখো’। কিন্তু তারা বলে, না আমাদের সময় নেই। তারা নাছোড়াবান্দা ছিল। আমি তাদের অন্তত একদিন চেষ্টা করতে বলি। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। এরপর তারা আমাকে আবারও ফোন করে।”
“তখন আমি বলি, ঠিক আছে তোমরা জীবন দিয়েছ। এবং অনেক রক্তপাত হয়েছে। তোমরা যেহেতু এতকিছু করতে পেরেছো, ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও আমার কিছু করা উচিত।”— বলেন ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “ছাত্ররা আমাকে জানায়, সরকার গঠন করতে হবে, আপনি কী রাজি। আমি বলি হ্যাঁ, রাজি।”
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার আট বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় এবার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্থায়ী ক্যাম্পাসের ডিপিপি ১০ দিনের মাঝে প্রি-একনেক অনুমোদন করে একনেকে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে শাহজাদপুরে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে এই হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মেরাজ স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বলেন, “দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ১০ দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হচ্ছে। এসময়ের মধ্যে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাসের কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে সচিবালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অষ্টমবারের মতো সংশোধিত প্রকল্পের ৫৯৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার (ডিপিপি) বাজেট প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুমোদিত প্রকল্পটি আবারও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) পাঠানোর কথা। সেখানে ইউজিসির সভায় আবারও অনুমোদনের পর এটি জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হতে হবে।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠার আট বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি থেকে টানা আন্দোলন শুরু করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলন করেন স্থানীয় ছাত্র-জনতারাও। এছাড়াও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এর আগে সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হাসান তালুকদার বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাসের ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট জমা দেওয়া হলেও সরকারের পরামর্শে তা মোট ৯ বার সংকুচিত করতে করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৮ মে বিশ্বকবির ১৫৪তম জন্মবার্ষিকীতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৫ সালের ১১ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ আইন,২০১৫'-এর খসড়া অনুমোদন পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই সংসদে পাস হয় ''রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় আইন।" বর্তমানে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হাসান তালুকদার
আওয়ামী লীগের মাসব্যাপী কর্মসূচির প্রতিবাদে রাবিতে বিক্ষোভ
রাবি প্রতিনিধি: পতিত সরকার আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান মঞ্চ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করেন।
এসময় গণ অভ্যুত্থান মঞ্চের আহ্বায়ক জায়িদ জোহা বলেন, দেশ এখনো চলছে আওয়ামী লীগের তৈরিকৃত সংবিধানে তাদের সে আইনে তারা এখনো বৈধ। দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগ যে নির্যাতন নিস্পেষণ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে জুলাই বিপ্লবের পরে তারা যদি তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং একত্রিত হয় তাহলে আমাদের জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত দেয়া বৃথা হবে।
তিনি আরো বলেন, "আমরা এখানে কারো মুখ দেখে আসেনি আওয়ামী লীগ যে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার প্রতিবাদ এবং তা ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করার জন্যে এখানে একত্রিত হয়েছি।আমাদের ক্ষোভ যারা এই এই কর্মসূচি ঘোষনা করেছে এবং যারা এটা ঘোষণা করার সুযোগ করে দিয়েছে তাদের উভয়ের প্রতি। "
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, "৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা অর্জন করেছি।এই স্বাধীনতাকে কোনোভাবেই ভুলূণ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। এই স্বাধীনতার পিছনে যদি এখনও আওয়ামী লীগের কোনো নেতা ষড়যন্ত্রের লিপ্ত থাকে তাহলে আমরা এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে রাজি আছি। আমরা এখনও রাজপথ ছাড়ি নাই। আমরা দুই হাজার শহীদের রক্তের বদলা নিয়েই ঘরে ফিরব। আমরা যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি সেই বাংলাদেশ গড়ে ঘরে ফিরব। এই নতুন বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম আজম সাব্বির বলেন, "আমরা আবু সাঈদ ও সাকিব আঞ্জুমদের কথা ভুলিনি। দুই হাজার শহিদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ কোনো স্বৈরাচারের জায়গা হবে না। আজকের এই আন্দোলন শুধু ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নয় বরং যাদের অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে ছাত্রলীগ আজকে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করতে পেরেছে তাদের বিরুদ্ধেও। বিপ্লবের পরে বিপ্লব বিরোধীদের হত্যা করা হলেও অতিরিক্ত সুশীলগিরি দেখিয়েছে বাঙালিরা। "
তিনি আরও বলেন, "এর আগে নিরাপত্তাকে ব্যবহার করে হাজার হাজার ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। আমরা এর জবাব চাই। যখন এই ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ যেকোনো স্বৈরাচারীরা রাজপথে নামার চেষ্টা করবে ছাত্র জনতা তাদের রুখে দিবে। এই বাংলা থেকে আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ বিদায় নিয়েছে আর যেন কখনো ফিরে না আসে। ভবিষ্যতে তারা রাজপথে নামলে রাস্তায় তাদের লাশ পড়ে থাকবে।"
এসময় আন্দোলনের সঞ্চালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শুধু ছাত্রলীগে নয় বরং আওয়ামী লীগকে যারা স্বৈরাচার হতে বাধ্য করেছিল সেইসব রাজনৈতিক দলেরও বিচার শুরু করতে হবে। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। আরেকটা শাহবাগ তৈরি করতে দেওয়া হবে না ।শাহবাগীদের বিচার করতে হবে। আন্দোলনে প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাকৃবিতে কৃষক দিবস পালিত
বাকৃবি প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয়েছে ‘কৃষক দিবস-২০২৫’। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কেন্দ্র (বাউএক) এবং বাকৃবি প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দিবসটি পালন করা হয়।
‘কৃষকবান্ধব প্রযুক্তির সম্প্রসারণ হউক আমাদের অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কৃষকদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবস উদযাপতি হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে কৃষক র্যালির বের করা হয়। ৩০০ জন কৃষক-কৃষাণীর অংশগ্রহণে র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণের পর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে কৃষকদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাকৃবি সম্প্রসারণ কেন্দ্রের (বাউএক) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল হক, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। এছাড়াও বাউরেসের পরিচালক ড. হাম্মাদুর রহমান, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনসহ বিশ^বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এসময় প্রতিযোগিতামূলক সবজি বাগান চাষে সেরা ছয়জন কৃষক-কৃষাণীকে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বীজ তুলে দেয়া হয়। তারা হলেন, দুই বিঘা জমিতে ব্রোকলি চাষ করা সুহিলার আব্দুল খালেক, পৌনে দুই একর জমিতে কলা চাষ করা বয়ড়ার আবদুর রাজ্জাক, শৈলমারীর আদর্শ সবজি চাষী আব্দুল করিম, সমন্বিত পোলট্র্রি খামারী মুক্তিযোদ্ধা বাজারের মোছা. নুরুন্নাহার, বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষী ভাবখালীর হাসনা খানম এবং আদর্শ পোল্ট্রি খামারি মির্জাপুরের আব্দুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বাকৃবি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কৃষকের পাশে থেকে গ্রামীণ অর্থনীতি বিনির্মানে কাজ করছে। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ ছাড়া স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ কখনও খাদ্য সংকটে পড়েনি। এর জন্য বাকৃবির অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্বায়নের ফলে বাংলাদেশের কৃষিও প্রতিনিয়ত আধুনিক হচ্ছে। ২০ বছর আগেও যা কল্পনা করা যেত না, এখন সেগুলো কৃষকের মাঠে উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করতেই আমরা কৃষক দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছি।
তিন আরও বলেন, প্রন্তিক পর্যায়ে কৃষকের ফসলের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও আয়বৃদ্ধি সহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে বাকৃবি সম্প্রসারণ কেন্দ্র (বাউএক)। গ্রামীণ কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য যেন বাকৃবিতে এনে বিক্রি করতে পারে, সেজন্য উদ্যোগ নিতে হবে এবং এই কাজে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন সহায়তা করবে। আমরা আরও কৃষিবান্ধব হতে চাই। কৃষকদের জন্য কৃষিকে নতুন করে সাজাতে সকল স্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন। দিনব্যাপী অন্যন্য আয়োজনের মধ্যে ছিল- কৃষকদের কাছে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও প্রশিক্ষণ, কৃষকদের জন্য বাকৃবির খামার পরিদর্শন এবং বীজ বিতরণ কর্মসূচি।
নোবিপ্রবির এমআইএস বিভাগের ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: দ্রুত সময়ের মধ্যে অপ্রকাশিত ফলাফল নিয়োগসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ। বুধবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ১১:০০ টায় নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিভাগের ৫ টি ব্যাচ স্বতস্ফূর্তভাবে একসাথে যোগদান করে।
দাবিকৃত ৫ টি দফা হলো: গত ৪ মাস ধরে অপ্রকাশিত ফলাফল দ্রুত প্রকাশ, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, ক্লাস সংকট দূরীকরণ, ল্যাব ফ্যাসিলিটি উন্নত ও সম্প্রসারণ, একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ক্লাস, ক্লাস টেস্ট ও সেমিস্টার পরীক্ষা পরিচালনা।
এমআইএস বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসিব আল আমিন বলেন "আজকে আমরা বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এখানে উপস্থিত হয়েছি।আমাদের বিভাগের কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিকে বিভাগের পরীক্ষাসহ রেজাল্ট পাবলিশ সব সময়মত হতো,আমাদের পড়ালেখা দেখে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে দেখে হিংসা করতো,কিন্তু বর্তমানে আমরা নিজেদেরকে দেখে হতাশ হয়ে যাচ্ছি।রেজাল্ট পাবলিশ না হওয়ার কারণে আমরা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছি না। এছাড়াও বিভাগের ল্যাবসহ ক্লাস নিয়মিত হচ্ছে না। আমরা চাই আমাদের বিভাগের সব কার্যক্রম সঠিক ভাবে হোক এবং দ্রুত রেজাল্ট পাবলিশ করার ব্যবস্থা করুক।"
জায়েদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন,"আমাদের রেজাল্ট প্রকাশিত না হওয়ায় পরবর্তী সেমিস্টারের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারছিনা। আমাদের রেজালট এভাবে আটকিয়ে রেখে আমাদের জিম্মি করা হচ্ছে।"
১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফুয়াদ বলেন, "আমাদের রেজাল্ট প্রকাশিত না হওয়ায় আমরা বিভিন্ন নিয়োগে আবেদন করতে পারছি না আমরা আমাদের রেজাল্ট অনতিবিলম্বে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউল হক বলেন"আমাদের পরীক্ষা অনেক আগেই শেষ হয়েছে কিন্তু একজন শিক্ষক তার নির্ধারিত কাজ জমা না দেয়ায় আমরা রেজাল্ট প্রকাশ করতে পারছি না। আমরা প্রশাসন কে জানিয়েছি ব্যাপারটা আশা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে।"
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড.রেজাওয়ানুল হক বলেন, "আমরা অভিযোগ গুলো পেয়েছি এবং ছাত্রদের কাছ থেকে শুনেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাথে বসে দ্রুত সমাধান করবো।"
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য