শিরোনাম
গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয় আসন ফাঁকা রেখেই ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
একাধিকবার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়েও শিক্ষার্থী না পাওয়ায় আসন ফাঁকা রেখেই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সন্নিকটে চলে আসায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ২০২১ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৪ নভেম্বরের মধ্যে তিনটি ইউনিটের ফল প্রকাশিত হয়। ফল প্রকাশের পর নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ই শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে। আসন পূরণে বারবার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী পাচ্ছে না তারা।
সূত্র জানায়, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম নিকটে চলে আসায় আসন ফাঁকা রেখেই ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত আসলে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস কার্যক্রম শুরু করা হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমদাদুল হক বলেন, আসন ফাঁকা থাকলেও আমাদের ক্লাস শুরু করতে হবে। কেননা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এই অবস্থায় খুব বেশিদিন স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম চলমান রাখার সুযোগ নেই। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।
গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী খরায় ভুগছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২ হাজার ৯৫টি আসনের বিপরীতে তিনটি ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ৮২৫ জন। এখনো ১ হাজার ২৭০ আসন খালি রয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ৫৫০টি আসনের মধ্যে ২৭৪টি, ‘বি’ ইউনিটে ১০৯৫টি আসনের মধ্যে ৭৪৬টি ও ‘সি’ ইউনিটে ৪৫০ টি আসনের মধ্যে ২৫০টি আসন ফাঁকা রয়েছে। আসন পূরণে তৃতীয় বারের মতো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এই বিজ্ঞপ্তিতেও শিক্ষার্থী না পাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপ্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু আসন ফাঁকা রয়েছে। এই আসনগুলো পূরণে তৃতীয় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। আশা করছি আমাদের এই আসনগুলো পূরণ হয়ে যাবে। তৃতয়ি বিজ্ঞপ্তিতেও যদি সেভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি না হয় তাহলে আমরা গণবিজ্ঞপ্তি দেব। এরপর আর অপেক্ষা করবো না। প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করে দেয়া হবে। আসন ফাঁকা থাকলেও ক্লাস শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।
গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলনামূলক বেশি জনপ্রিয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিও শিক্ষার্থী খরায় ভুগছে। জবিতে প্রথম বর্ষে আসন সংখ্যা দুই হাজার ৭৬৫টি। সপ্তম মেধাতালিকা প্রকাশের পরও বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য বিভাগে ৫৪৩টি আসন ফাঁকা রয়ে গেছে। লোকপ্রশাসন বিষয়ে ৮০টি আসনের বিপরীতে সাতবার মেধাতালিকা প্রকাশ করে ৫৯ জন শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থী পেতে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এই অবস্থায় তারাও আসন ফাঁকা রেখেই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত তিনটি কারণে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে প্রধান এবং অন্যতম কারণ হলো অধিক জিপিএপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিতে চাওয়ার প্রবণতা। গুচ্ছভুক্ত সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ই এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৮ প্রাপ্তদের ভর্তির জন্য ডাকা হয়েছে। তবে তাদের অধিকাংশই মেডিকেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটে ভর্তি হয়ে যাওয়ায় গুচ্ছে আসন ফাঁকা রয়েছে। কম জিপিএ প্রাপ্তদের ভর্তির জন্য ডাকা হলে আসন ফাঁকা থাকত না।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তারা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়া। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অনেক আগেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বড় বড় কলেজগুলোতে ভর্তি হয়ে যাওয়ায় তারা এখন আর গুচ্ছে আসতে চাচ্ছে না। এই অবস্থায় শিক্ষার্থী পাচ্ছে না গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
সবশেষ কারণ হিসেবে ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত শিক্ষকরা বলছেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়ে গেছে। তাদের ভর্তির প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। বেসরকারিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও এক বছর অতিক্রম হয়ে যাওয়ায় তারা এখন আর গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টেকনিক্যাল কিমিটির আহবায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর জানান, প্রথমবার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। তবে সেগুলো ঠিক করলে এই সমস্যাগুলো আর থাকবে না। আমরা বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।
প্রসঙ্গত, গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪০১ জন। তবে সিলেকশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করায় ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে এই মাসেই
করোনা শনাক্তের হার কমতে শুরু করায় এ মাসেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার চিন্তা করছে সরকার। গত ২১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের এই ছুটি শেষ হবে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি। এরপর ছুটি বাড়ানোর পক্ষে নন শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গতকাল শুক্রবার সিলেট সার্কিট হাউজে এক মতবিনিময় সভায় এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ কমতে থাকায় শীঘ্রই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হবে। এসময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিং বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। শনাক্ত ও মৃত্যর সংখ্যা কমেছে। গতকাল ২৪ ঘণ্টার হিসেবে করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছিলেন ৫ হাজার ২৬৮ জন। এই দিন পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। যা বৃহস্পতিবারের তুলনায় কম। মৃত্যর সংখ্যাও কমেছে। বৃহস্পতিবার করোনায় মারা গেছেন ৪১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সেই সংখ্যা নেমে আসে ২৭ এ। করোনার কারণে দ্বিতীয় ধাপের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় ২০ জানুয়ারি। ওইদিন করোনা শনাক্তের হার ছিলো ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বর্তমানে করোনার শনাক্ত ও মৃত্যর হার কমতে থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আর বাড়বে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাসও শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন করে সরকারি বিধি নিষেধ না আসলে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে সশরীরে ক্লাস চালু করার ঘোষণা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা শুরু থেকেই ভালোভাবে নেয়নি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শেষ বর্ষের তিনটি ও ডিগ্রি পাস কোর্সের মাত্র একটি পরীক্ষা বাকি ছিলো। এর মধ্যেই ২০ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, করোনার মধ্যে বাণিজ্য মেলা চলেছে। অফিস-আদালত খোলা রয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ভিসি ফরিদের ভাগ্য রাষ্ট্রপতির হাতে
ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন রাষ্ট্রপতি ও আচার্য আব্দুল হামিদ। গতকাল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা ও উপাচার্যের সঙ্গে আধা ঘণ্টা বৈঠক করে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তবে বৈঠকের বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি শিক্ষার্থীরা। আজ সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন তারা।
১৩ জানুয়ারি গভীর রাতে সিরাজুন্নেসা হলের প্রভোস্ট বডির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রীরা। পরে সেই আন্দোলনে যোগ দেন ছাত্ররাও। ছাত্রলীগ হামলা ও পুলিশের অ্যাকশনের পরে আন্দোলন ভিসির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন ভিসি অধ্যাপক ফরিদ। হল খালি করে দেয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে ১৭ জানুয়ারি ভিসির বাসার সামনে অবস্থায় নেয় শিক্ষার্থীরা। ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন তারা। এসময় অবরুদ্ধ ছিলেন ভিসি। অবরোধ তুলে নিলেও ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাসা থেকে বের হননি ভিসি। দাবি আদায়ে অনশন করেন ২৮ শিক্ষার্থী। সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দিয়েও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে একচুলও নড়ানো যায়নি। পরে সরকারের আশ্বাস পেয়ে ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান সাবেক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক। ওইদিন শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়া হবে বলে সরকারের আশ্বাসের কথা জানান ড. জাফর ইকবাল।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। তাদের সব দাবি যৌক্তিক মনে হয়েছে। কিছু প্রস্তাবনাও ছিলো। কিছু দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। বাকিগুলাও আস্তে আস্তে মেনে নেয়া হবে। তবে ভিসির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। এ বিষয়ে আমরা তাকে অবহিত করবো। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
বৈঠকের পর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী জানান, তারা শিক্ষামন্ত্রীকে সবকিছুই পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেন নি। যার কারণে তাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা কাজ করছে। আজ বিকালে সভা করে সব বিষয়ে আবারও আলোচনা করা হবে। সন্ধ্যায় প্রেস বিফ্রিং করা হবে।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে কার্যালয়ে যান সরকারের একটি বিশেষ সংস্থার গাড়িতে। ওই সংস্থার সদস্যরা তাকে পুরো সময় ঘিরে রেখেছিলেন। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাীর্থীরা। তারা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। ভিসি বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন তার জীবন হুমকির মুখে। একটা সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে তাকে কার্যালয়ে আসতে হচ্ছে।
বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী ভিসি ফরিদকে পরবর্তী নির্দেশনা আসা পর্যন্ত ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
খালেদা জিয়ার জন্ম ও পুরস্কার পাওয়ার তারিখ, কোনোটিই ঠিক নেই: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ, পুরস্কারের তারিখ কোনোটাই ঠিক নেই। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তার জন্মের তারিখ যেমন ঠিক নেই, পুরস্কারের তারিখও ঠিক নেই, পুরস্কারদাতাদের ওয়েবসাইটেও তার নাম নেই।’
শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ পাঁচটা—বিবাহ রেজিস্টারে একটা, পাসপোর্টে একটা, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্রেডেনশিয়ালসে একটা, ম্যাট্রিকুলেশনে যেটাতে তিনি ফেল করেছেন সেখানে একটা, আবার কোভিড সনদে একটা। আবার তিনি পুরস্কার পেয়েছেন ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই, আর জানা গেলো ২০২২ সালে। আর যে সংস্থা থেকে সেই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলা হচ্ছে, তাদের ওয়েবসাইটেও তার নাম নেই।’
‘এ ধরনের তেলেসমাতি দেখার পর জনগণ যখন তাদের নিয়ে হাসছে, তখন খালেদা জিয়ার সভাসদরা উদভ্রান্তের মতো কথা বলছেন’, উল্লেখ করেন ড. হাছান।
বিএনপির অপর এক বক্তব্য—‘ইসি সার্চ কমিটি গঠন আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় বসানোরই ষড়যন্ত্র’, এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির উন্মেষটাই তো ষড়যন্ত্র, অস্ত্র আর মানুষের লাশের ওপর দিয়ে। তারা সবসময় ষড়যন্ত্রের মধ্যেই থাকেন বলে সবকিছুতেই ষড়যন্ত্র দেখতে পান।’
‘পৃথিবীর অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও সার্চ কমিটির মাধ্যমে এত স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় না’, উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বরং অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন করা হয়েছে এবং সেই কমিটি কাজ শুরু করেছে।’ তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কখনও সরকারের অধীনে হয় না, নির্বাচন কমিশনের অধীনে হয়। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর পুলিশের একজন কনস্টেবল বদলির ক্ষমতাও সরকারের হাতে থাকে না। মির্জা ফখরুল সাহেবরা এগুলো ভালো করেই জানেন। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন বলেই এসব কথা বলছেন। তাদের ‘না’ বলা বাতিক নিয়ে আমি শঙ্কিত।’’
এর আগে বিআইসিসি হলে আহবাবুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ‘জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ২০২১’-এর চূড়ান্ত পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
এ সময় হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা আলেম সমাজকে ধোঁকা দিয়েছে, তাদের শিক্ষা পদ্ধতির স্বীকৃতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করেছে, তাদের ‘না’ বলতে হবে। আর যারা আলেমদের জন্য কাজ করেছে, প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে, তাদের হ্যাঁ বলতে হবে।’
শায়েখ হাফেজ কারি আব্দুল হকের সভাপতিত্বে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী দোয়া পরিচালনা এবং আল্লামা শায়খ সাজিদুর রহমান ও মাওলানা উবায়দুর রহমান অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী। খবর: বাসস
‘শাবিপ্রবি উপাচার্যকে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শাবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন।
শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সাথে বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় বসেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
এর আগে বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউজে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে ভিসির পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আচার্য। এ বিষয়টি আচার্যের কাছে তুলে ধরা হবে।
ওই বৈঠকে শাবিপ্রবির চলমান ইস্যু ছাড়াও নতুন করে চারটি প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের নতুন চারটি প্রস্তাবনা হলো- অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার সহধর্মিণী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হককে শাবিপ্রবিতে এমিরেটাস অধ্যাপক করা। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাখাতে প্রয়োজনীয় বাজেট বাড়ানো এবং সঠিক ব্যয় নিশ্চিতকরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পদ্ধতিতে কোডিং সিস্টেম চালু করা। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পিএইচডিসহ ডেমো ক্লাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মতামত যাচাই করা।
শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠকে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলে ছিলেন- মোহাইমিনুল বাশার রাজ, ইয়াসির সরকার, নাফিসা আনজুম, সাব্বির আহমেদ, আশিক হোসাইন মারুফ, সাবরিনা শাহরিন রশীদ, সুদীপ্ত ভাস্কর অর্ঘ, শাহরিয়ার আবেদিন, আমেনা বেগম, মীর রানা ও জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য