শিরোনাম
কোম্পানীগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
গিয়াস উদ্দিন রনি, নোয়াখালীঃ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুকুরে ডুবে মো.ইব্রাহীম হোসেন নামে (১৮) মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নে ৪নম্বর ওয়ার্ডের গফুর মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহীম ওই বাড়ির ইমরান হোসেনের ছেলে।
নিহত শিশুর পিতা ইমরান হোসেন জানান, সকালে তিনি পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। একই সময়ে তার স্ত্রী পারিবারিক কাজে ব্যস্ত ছিল। এ সময় পরিবারের লোকজনের অজান্তে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে খুঁজে না পেয়ে খেঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আমার স্ত্রী পুকুরে তার ছেলের লাশ ভাসতে উদ্ধার করে। পরে পরিবারের লোকজন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে নিহত শিশুর পরিবার পুলিশকে অবহিত করেনি।
এক পরিবারে ৬৩ জন কোরআনের হাফেজ
পটুয়াখালীর বাউফল ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামের শাহজাহান হাওলাদার। বাউফল সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭১ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। শাহজাহান হাওলাদার ৩ বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। ৭ বছর বয়সে বাবাকেও হারান। নিজের পৈতৃক সম্পত্তি ও মামাবাড়ির ৩ একর সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি নির্মাণ করেছেন ১২টি মাদরাসা ও ৩টি মসজিদ। তার ৬ ছেলে ও ৪ মেয়ে কোরআনের হাফেজ। তাদের বংশধররা এখন হাফেজ হয়ে সংখ্যাটি বাড়িয়ে চলেছেন। তার পরিবারে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি, নাতজামাইসহ মোট ৬৩ জন কোরআনের হাফেজ রয়েছেন ২ বছর আগেও তাদের পরিবারে হাফেজের সংখ্যা ছিল ৫৭ জন।
শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে হাফেজ জোবায়ের হাওলাদার বলেন, আমার বাবার পঞ্চম সন্তান আমি। আমাদের এই মাদরাসা আমেনা খাতুন মহিলা হেফজখানা আমরা ৬ ভাই ও ৪ বোনের। বড় ভাই সৌদি আরবে জেদ্দায় থাকেন, সেখানে মসজিদের ইমাম। তার ৬ সন্তান হাফেজ। আমাদের অন্যান্য ভাইয়েরা ও বোনেরা তাদের সন্তানদের হাফেজ বানিয়েছেন। আমি এই মাদরাসা পরিচালনা করতেছি। এখানকার প্রধান শিক্ষক আমার স্ত্রী। তার হাতে এখান থেকে শত শত মেয়েরা হাফেজ হয়ে এইসব অঞ্চলে শিক্ষকতা করছেন।
শাহজাহান হাওলাদার বলেন, আমার পরিবারে ১১ জন নাতজামাই, তারা সবাই হাফেজ। এছাড়া আমার পরিবারের ছেলে-মেয়ে, নাতবউসহ ৬৩ জন হাফেজ-হাফেজা রয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জনই আন্তর্জাতিক হাফেজ। আমি সাতখানা কিতাব লিখেছি। সবার কাছে আমার অনুরোধ রইল আপনারা আপনাদের ছেলে-মেয়েদেরকে হাফেজ-হাফেজা বানাবেন। আমার ছেলে ও ছেলের বউয়েরা বিভিন্ন মাদরাসায় এখন হাফেজ বানানোর শিক্ষা দিচ্ছেন। মাদরাসার জন্য আমি কোনো দান বা সহযোগিতা এখন পর্যন্ত পাইনি। আমার পৈতৃক সম্পত্তি ও মামাবাড়ির সম্পত্তি থেকে তিন একর জমি বিক্রি করে মাদরাসা ও মসজিদ করেছি।
নিজে হাফেজ না হয়েও, হাফেজদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রমের কারণ কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বাবা হাফেজদের খুব ভালবাসতেন। ছোটবেলা থেকেই কেমন যেন হাফেজদের প্রতি আমার ভালোবাসা ও সম্মান বেশি ছিল। ছোটবেলায় বাবা-মা মারা যাওয়ায় আমার পক্ষ থেকে হাফেজ হওয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য আমি চিন্তা করি আমার সন্তানদের সবাইকে হাফেজ বানাব। তারা ইসলাম প্রচার করবে। এখন আমার পরিবারের ছেলে-মেয়ে, নাতবউসহ ৬৩ জন হাফেজ-হাফেজা রয়েছেন।
‘সন্তান নিতে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি লাগবে’, এটি গুজব
‘কোনো শিক্ষক সন্তান নিতে চাইলে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি লাগবে’- এমন একটি স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়তে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা মন্তব্য করা হচ্ছে।
তবে বিষয়টি পুরোপুরি গুজব বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এটি পুরোপুরি ভুয়া তথ্য।
শেষ সম্বল গাভী বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি নিলেন বাবা, এলো না বর!
বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন। দুদিন আগে হবু বর ও তার পরিবারের সদস্যরা কনেকে নাকফুল পরিয়ে বাগদানও সম্পন্ন করেছেন। মেয়ের বাবা একজন অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি তার শেষ সম্বল দুটি গাভী বিক্রি করে মেয়ের সুখের জন্য ছেলের দাবিকৃত সোনার গয়না ও হবু জামাইয়ের জন্য একটা পালসার মোটরসাইকেল দিতে রাজি হন। বিয়ের দিন চলছিল নানা আয়োজন, বর পক্ষের জন্য রান্নাবান্না সম্পন্ন করে সবাই অপেক্ষায় ছিলেন বরের। কিন্তু সারাদিন পার হলেও আসেননি বর ও বরপক্ষের কেউ।
অভিযুক্ত ছেলে হুসাইন বর্তমানে বরিশাল লেবুখালী সেনানিবাসে কর্মরত আছেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী ওমর ফারুকের ছেলে।
কনের মামা সাজ্জাত হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, দুই পরিবারের দেখাশোনার পরই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। ছেলে ও তার পরিবারের সিন্ধান্তেই গত রোববার বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। দেনমোহর ধার্য হয়েছিল ৭৫ হাজার টাকা। এর দুদিন আগে ছেলে ও তার পরিবারের সদস্যরা মেয়েকে নাকফুল পরিয়ে গেছেন। রোববার ২০-২৫ জন বরাযাত্রীসহ বর আসার কথা ছিল। সমস্ত আয়োজন করে প্রতীক্ষায় ছিলাম আমরা। শেষমেশ বিকেলে আমরা জানতে পারি বর আসবে না। এ অবস্থায় কনে ও কনের বাবা দুজনই ভেঙে পড়েছেন। দুই থেকে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিয়েতে যদি মত নাই থাকে তাহলে ছেলে নিজ থেকেই আমার ভাগ্নিকে দুবার কেন দেখতে আসল? এছাড়া শুনেছি ছেলে মেয়ের পরিবার ও নিজের বাবার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে। এরপর আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি ছেলে তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে মেয়ে দেখছে। এক মাসে তারা ১৫ থেকে ১৮ জায়গায় মেয়ে দেখে বেড়িয়েছে। সে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমার ভাগ্নির জীবন নিয়ে খেলা করেছে। বিষয়টি আমরাও দেখে নেব। যাবতীয় প্রমাণাদিসহ তার কর্মস্থল সেনানিবাসে যাব।
ফুলবাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য তোফায়েল আহমেদ লিটন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। জেনেছি কর্মস্থল থেকে ছেলের বিয়ের অনুমতি ছিল না। তারপরও পরিবারের সঙ্গে নিজেই দেখাশোনা করে বিয়ের দিন ধার্য করে এখন উধাও। এটা মোটেও ঠিক হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে একটা মেয়ে ও তার পরিবারের কী পরিমাণ কষ্ট হয় সেটা আমরা বুঝি। কেন এমন হলো বিস্তারিত জানতে ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলব। এটা মোটেও ঠিক হয়নি
‘লোকলজ্জার ভয়ে’ নবজাতককে ডোবায় ফেলে হত্যা করলেন মা
হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নবজাতকের পিতৃপরিচয় না থাকায় ‘লোকলজ্জার ভয়ে’ ডোবায় ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। সোমবার হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দাবকাই চৌমুহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নবজাতকেকে ডোবায় ফেলার পরে ওই তরুণী তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন। আজ বিকেলে প্রেমিকের বিরুদ্ধে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন তরুণী
নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে গুরুতর অবস্থায় ওই তরুণীকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরখানেক আগে বাদীর পরিচয় হয় বানিয়াচং উপজেলার এক তরুণের সঙ্গে। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি ওই যুবককে জানালে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
রবিবার হবিগঞ্জ শহরের একটি বাসায় সন্তান জন্ম দেন ওই তরুণী। কিন্তু পিতৃপরিচয় না থাকায় ‘লোকলজ্জার ভয়ে’ নবজাতককে ডোবায় ফেলে দেন। পরে স্থানীয়রা ডোবায় নবজাতককে দেখে ৯৯৯-এ কল করে জানালে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে পলাতক যুবকের বিরুদ্ধে আজ ধর্ষণ মামলা করেছেন তরুণী। বাদীর দাবি, প্রেমিক তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। বিষয়টি প্রেমিককে জানালে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘নবজাতকের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তরুণী গুরুতর অসুস্থ থাকায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে কী করা যায় তার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
এছাড়া এ ঘটনায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য