The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪

কোচিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ, নদীতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ

মানিকগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সামিয়া ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার কুশেরচর এলাকায় কালিগঙ্গা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সামিয়া ইসলাম এসকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা সাইফুল ইসলাম মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লাইনম্যান হিসেবে চাকরি করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা গ্রামে। তার বাবা পরিবার নিয়ে জেলা শহরের গঙ্গাধরট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২ মার্চ) দুপুরে বাসা থেকে কোচিং করার জন্য রেব হয় সামিয়া। কোচিং শেষে বাসায় না ফেরায় তার মা কোচিং সেন্টারে গিয়ে জানতে পারেন সামিয়া কোচিংয়ে আসেনি। এরপর বিভিন্ন স্থানে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ওই দিন সন্ধ্যার দিকে লোক মারফতে জানতে পারেন পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের চরবেউথা এলাকায় সামিয়ার স্কুল ব্যাগ পাওয়া গেছে। খরব পেয়ে সামিয়ার পরিবারের লোকজন গিয়ে ওই স্কুল ব্যাগ নিয়ে আসেন। এরপর তার বাবা সাইফুল ইসলাম মেয়ে নিখোঁজের বিষয়ে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আজকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার কুশেরচর এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খরব দেন। পরে পুলিশ গিয়ে সেখানে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

রবেউথার এলাকার নয়াব আলীর স্ত্রী হাবেজা বেগম জানান, গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে কলস নিয়ে নদীতে পানি আনতে যাই। এ সময় নদীর পারে একটি-দুটি কুকুর একটি ব্যাগ নিয়ে কামড়া কামড়ি করতে দেখি। পরে কুকুরকে তাড়া করে ওই ব্যাগটি বাড়িতে নিয়ে যাই। এরপর আমার ছেলের বউয়ের কাছে ওই ব্যাগটি দেই। তখন ওই ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, একটি খাতা, কয়েকটি কলম, ত্রিশ টাকা, হাতের ব্যাসলাইট (রূপার) ও একটি রূপার আংটিসহ কিছু কসমেটিকস এবং স্কুলের পরিচয়পত্র ছিল। ওই পরিচয়পত্রে থাকা মোবাইল নম্বরের ফোন করে মেয়েটির বাবার কাছে ওই স্কুল ব্যাগটি বুঝিয়ে দেয় এলাকাবাসী।

মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিল হোসেন জানান, সকালের দিকে কুশেরচর এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খরব দেন। পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের বাবাকে খরব দেয় পুলিশ। তিনি ঘটনাস্থালে যাওয়ার পর ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহটি তার মেয়ে সামিয়া ইসলামের বলে শনাক্ত করেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. অপরাধ ও শৃঙ্খলা
  3. কোচিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ, নদীতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ

কোচিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ, নদীতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ

মানিকগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সামিয়া ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার কুশেরচর এলাকায় কালিগঙ্গা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সামিয়া ইসলাম এসকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা সাইফুল ইসলাম মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লাইনম্যান হিসেবে চাকরি করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা গ্রামে। তার বাবা পরিবার নিয়ে জেলা শহরের গঙ্গাধরট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২ মার্চ) দুপুরে বাসা থেকে কোচিং করার জন্য রেব হয় সামিয়া। কোচিং শেষে বাসায় না ফেরায় তার মা কোচিং সেন্টারে গিয়ে জানতে পারেন সামিয়া কোচিংয়ে আসেনি। এরপর বিভিন্ন স্থানে মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ওই দিন সন্ধ্যার দিকে লোক মারফতে জানতে পারেন পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের চরবেউথা এলাকায় সামিয়ার স্কুল ব্যাগ পাওয়া গেছে। খরব পেয়ে সামিয়ার পরিবারের লোকজন গিয়ে ওই স্কুল ব্যাগ নিয়ে আসেন। এরপর তার বাবা সাইফুল ইসলাম মেয়ে নিখোঁজের বিষয়ে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আজকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার কুশেরচর এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খরব দেন। পরে পুলিশ গিয়ে সেখানে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

রবেউথার এলাকার নয়াব আলীর স্ত্রী হাবেজা বেগম জানান, গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে কলস নিয়ে নদীতে পানি আনতে যাই। এ সময় নদীর পারে একটি-দুটি কুকুর একটি ব্যাগ নিয়ে কামড়া কামড়ি করতে দেখি। পরে কুকুরকে তাড়া করে ওই ব্যাগটি বাড়িতে নিয়ে যাই। এরপর আমার ছেলের বউয়ের কাছে ওই ব্যাগটি দেই। তখন ওই ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, একটি খাতা, কয়েকটি কলম, ত্রিশ টাকা, হাতের ব্যাসলাইট (রূপার) ও একটি রূপার আংটিসহ কিছু কসমেটিকস এবং স্কুলের পরিচয়পত্র ছিল। ওই পরিচয়পত্রে থাকা মোবাইল নম্বরের ফোন করে মেয়েটির বাবার কাছে ওই স্কুল ব্যাগটি বুঝিয়ে দেয় এলাকাবাসী।

মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিল হোসেন জানান, সকালের দিকে কুশেরচর এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খরব দেন। পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের বাবাকে খরব দেয় পুলিশ। তিনি ঘটনাস্থালে যাওয়ার পর ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহটি তার মেয়ে সামিয়া ইসলামের বলে শনাক্ত করেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন