শিরোনাম
বাকৃবিতে রাতের আঁধারে এ্যানিমেল শেড ভাংচুর
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ফিজিওলজি বিভাগের নির্মাণাধীন এ্যানিমেল শেড ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ভাংচুরের ঘটনার সময় নিরাপত্তাকর্মী উপস্থিত ছিলো না। এমনকি পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ না পাওয়ার অভিযোগ করেছে ঐ বিভাগের ভুক্তভোগী শিক্ষকবৃন্দ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি করে ফিজিওলজি বিভাগের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।
শুক্রবার (২৬ মে) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ব্যাডমিন্টন কোটের সামনে ওই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগপত্রে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া বলেন, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিনের অনুমতিক্রমে এবং বোর্ড অফ স্টাডিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিজিওলজি বিভাগের এ্যানিমেল শেড নির্মাণের গাথুনির কাজ গতকাল শেষ হয়। আজ সকালে শ্রমিকরা প্লাস্টারের কাজ করতে এসে গাঁথুনি ভাংচুর অবস্থায় দেখতে পায় । ফিজিওলজি বিভাগের পক্ষ থেকে ভাংচুরকারীদের সনাক্ত করে বিচারের দাবি এবং প্রতিবাদ জানাই।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফিজিওলজি বিভাগের একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা ডিনের অনুমতি নিয়েই কাজ শুরু করেছি। দুই দিন আগে এ্যানিমেল শেড নির্মাণের সময় শ্রমিকদের বাধা প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি এন্ড হিস্টোলজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক। তারা শ্রমিকদের কাজ বন্ধের জন্য হুমকি দেয়। পরে গতকাল রাতে দুষ্কৃতিকারীরা শেডটি ভাংচুর করে।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা শাখার চীফ সিকিউরিটি অফিসার মো. মহিউদ্দীন হাওলাদার বলেন, ভেটেরিনারি অনুষদে গতকাল বিকাল থেকে দুইজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত ছিলো। নুরুল আমিন বিকাল থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত এবং মনিরুল ইসলাম রাত ১২ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত কর্মরত ছিলো। ঘটনাটি কখন ঘটেছে তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কিছুই বলতে পারে নি। দায়িত্ব পালনে অবহেলায় তাদের বিরুদ্ধে অফিসিয়ালি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ভেটেরিনারি অনুষদের সামনের সিসি ক্যামেরা বর্তমানে বন্ধ আছে। এজন্য কে বা কারা শেড ভাংচুর করেছে এখনো পর্যন্ত আমরা খুঁজে পায় নি। বর্তমানে ১০ টি সিসি ক্যামেরা চালু আছে। অধিকাংশ সিসি ক্যামেরা বন্ধ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম বলেন, সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল দেখবে। ফিজিওলজি বিভাগের এ্যানিমেল শেড ভাংচুরের ঘটনার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, তাদেরকে শেড নির্মাণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুষদীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত সকল প্রজেক্টের শেড নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। শুধু ফিজিওলজি বিভাগ না অন্যান্য বিভাগ থেকেও শেড নির্মাণের আবেদন এসেছে। সকলের মতামত জানার জন্যে পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যেই আন্তঃবিভাগীয় কোন্দলের কারণে ফিজিওলজি বিভাগ তাদের অ্যানিমেল শেড নির্মাণ শুরু করে। এখন কে বা কারা এই ভাঙচুর করেছে সে ব্যাপারে খোজ-খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পা ভাঙলেও ভাঙেনি স্বপ্ন পূরণের তীব্র ইচ্ছা
ইবি প্রতিনিধি : দূর্ঘটনায় পা ভাঙলেও দমে যায়নি মাইসুরা রহমান নামের এক ভর্তি পরীক্ষার্থী। ভাঙা পা নিয়েই এসেছেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে। শনিবার (২৭ মে) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সি ইউনিটের বাণিজ্য বিভাগের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন মাইসুরা রহমান। অসুস্থতা যে স্বপ্ন পূরণে কোনো বাঁধা নয় তারই উদাহরণ হয়ে রইলেন এই পরীক্ষার্থী। ভাঙা পা নিয়ে চেয়ারে বসতে না পারলেও মেঝেতে বসেই পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন তিনি।
এদিন বেলা ১২টা থেকে সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়ে চলে ১টা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদ ভবন কেন্দ্রের নিচতলার ১০৫ নং কক্ষে ঐ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেন কর্তৃপক্ষ। এর আগে ১১ টার দিকে ভর্তি পরীক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক ও বিএনসিসির সহয়তায় মা বাবার কোলে উঠে নিজের হলে প্রবেশ করেন মাইসুরা।
জানা যায়, গত ৫ মে রাজশাহীতে ভর্তি কোচিং করে ফেরার পথে রিকশা উল্টে যাওয়ার কারণে পা ভেঙে যায় মাইসুরার। ভাঙা পা নিয়েই এর আগে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে।
মাইসুরা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী। তার স্বপ্ন ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনা করার। তাই শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও নিজের স্বপ্ন পূরণে লড়াই করছেন তিনি।
পরীক্ষা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষা ভালো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকরা অনেক সাহায্য করেছে। যদি চান্স হয় তাহলে ইবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনা করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমার সাথে আমার মা-বাবা এসেছেন। তারা আমার জন্য সব সময় লড়াই করে যাচ্ছেন। আমার পাশে তারা আছেন বলেই ভরসা পাচ্ছি। মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। তাদের এই কষ্ট সার্থক হবে যদি আমি এই ভর্তিযুদ্ধে সফল হতে পারি।
এ বিষয়ে মাইসুরার বাবা মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কাছ থেকে যথেষ্ট আন্তরিকতা পেয়েছি। তারা আমার মেয়ের পরীক্ষার জন্য সব রকম সাহায্য করেছেন। আমার মেয়ে যেহেতু পা নিয়ে সিটে বসে পরীক্ষা দিতে পারবে না তার জন্য শিক্ষকরা বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, মেয়েটি যেহেতু পা নিয়ে চেয়ারে বসতে পারে না তাই তার পরিক্ষার্থীর সুবিধার্থে নিচে বসে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। উপাচার্য স্যারকে বিষয়টি জানানোর পর তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টির ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
পাবিপ্রবিতে সলভার গ্রীন এর সভাপতি খাইরুল, সম্পাদক ফাতিউর
পাবিপ্রবি প্রতিনিধি : পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) টেকনোলোজি রিলেটেড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সংগঠন " সলভার গ্রীন " এর তৃতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে আইসিই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের জেইড এইচ এম খাইরুল বাসার এবং সাধারণ সম্পাদক সিএসই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বি এম ফাতিউর রহমানকে মনোনীত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬মে) দ্বিতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২১-২০২২ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সাবেক সভাপতি সাফিউল মুজনবীন ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এক বছরের জন্য নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটির অন্য পদগুলোতে আছেন সহ-সভাপতি অংকন শাহা , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছে শেখ ফরিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছে মো: এনায়েত হোসাইন ও সহকারি সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছে অংকন রায়, পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি হয়েছে শাহরিয়ার রহমান নিলয়, অফিস সেক্রেটারি সাব্বির ইফতেখার সাকিব, কোষাধ্যক্ষ প্রান্তিক সরকার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মেহেদি হাসান ও অন্যান্য সদস্যসহ মোট ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়।
নতুন সভাপতি খাইরুল বাসার বলেন, সলভার গ্রীন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্লাব । এটি যে মূলনীতির উপর দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো সেটির কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট সহ অন্যান্য কার্যক্রম যেমন অর্গানাইজেশন এর সাথে কো-ল্যাব , সেমিনার , ওয়ার্কশপ , কম্পিটিশনসহ বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ এবং সেটি সফলভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো ইনশা-আল্লাহ ।
সাধারণ সম্পাদক ফাতিউর রহমান জানান, আমাদের পবিপ্রবি ক্যাম্পাসের একমাত্র প্ৰযুক্তি ভিত্তিক সংগঠন "সলভার গ্রীন"। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে শিক্ষাক্ষেত্র ছাড়াও কর্মক্ষেত্রে বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। তাই আমাদের চেষ্টা থাকবে পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পূর্বেই তথ্য প্রযুক্তির প্রাথমিক জ্ঞানে দীক্ষিত করা। একই সাথে প্রযুক্তি প্রেমীদের জন্য একটি আদর্শ জায়গা তৈরি করা। ইনশাআল্লাহ সকলের সহযোগিতায় আমাদের এই কার্যনির্বাহী পরিষদ এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সফল হবে।
কুয়া নির্বাচনের 'খুরশীদ-আক্তার' প্যানেলের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত
খুবি প্রতিনিধি: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন খুলনা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (কুয়া) নির্বাচন আগামী শুক্রবার (০৯ জুন) অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে আজ ২৬ মে (শুক্রবার) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে খুরশীদ-আক্তার' প্যানেলের পরিচিত সভা ও ইশতেহার উপস্থাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আসন্ন এ নির্বাচনে কেইউ গ্রাজুয়েটস সমর্থিত খুরশিদ-আক্তার প্যানেল এবং 'আমরা খুবিয়ান' প্যানেল ছাড়াও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করবেন।
খুরশিদ-আক্তার প্যানেলের সভাপতি পদে স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের '৯২ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী খুরশিদ আলমেহের তন্ময়, সাধারণ সম্পাদক পদে ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের '৯৬ ব্যাচের মো. আকতার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ৯ জন শিক্ষক প্রতিনিধি সহ মোট ৫০ জন বিভিন্ন পদে নির্বাচন অংশ নিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সভাপতি প্রার্থী তার বক্তব্য তুলে ধরেন এবং পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিনি নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন এবং তার উপরে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রায় ৩ শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
খুরশীদ আক্তার প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী খুরশীদ আলমেহের তন্ময় বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় চারটি ডিসিপ্লিন নিয়ে, এখন সে সংখ্যা ২৯ এ পৌঁছেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিসিপ্লিনের প্রায় ২৫ হাজার এ্যালামনাই রয়েছে, যারা বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর দেশে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে আছেন৷ তাদের সবাইকে নিয়ে একটি যথার্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, কার্যকরী, স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও গতিশীল এ্যলামনাই এ্যসোসিয়েশন গঠন করার জন্য ২০২৩ নির্বাচনে খুরশীদ- আকতার (গ্রাজুয়েটস প্লাটফর্মের) প্যানেলের পক্ষ থেকে আপনাদের সমর্থন ও দোয়া প্রার্থী।
তিনি তাদের প্যানেলের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জাবিতে ছাত্ররাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে সম্পূরক আলাপ অনুষ্ঠিত
জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক সম্পূরক আলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (জাডস) এর আয়োজনে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে আয়োজনের তৃতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজ মিশুর সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: নূরুল আলম, জাবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক বশির আহমেদ, ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান, জাবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ রেজা, সেভ দ্য চিলড্রেনের হেড অব মিডিয়া নুসরাত আমিন, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রেং ইয়ং ম্রো।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্ররাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের মতামত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যাত্রাপথে ছাত্রদের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। স্বাধীনতার পর ৯০ দশকের আন্দোলনেও ছাত্ররা ভূমিকা পালন করেছে। তবে এরপর রাজনীতিতে ছাত্ররা অপাংক্তেয় হয়ে গেছে। অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গড়তে চাইলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ছাত্রদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে আজকের বস্তবতা মিলছে না। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাই প্রধান শ্রেণি হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। তবে পরবর্তীতে সাংঠনিক রাজনীতির ধারা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদ, জাতীয় চার নেতা বয়সে সবাই কম ছিল। রাজনৈতিক দলে কর্মসূচী পালন করা একটা অংশ আর গবেষণা ও পড়াশুনায় মনোযোগী হওয়া অন্য একটা পার্ট। ছাত্রদের শুধু মিছিল মিটিং করলে হবেনা। রাজনীতির কনভেনশনাল ধারা থেকে বের হয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন। যখন শত্রুর মোকাবেলা করতে বলেছেন তখন তিনি তরুণই ছিলেন। কখনকার প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আমি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আট বছর পর সমাবর্তন করেছি। গণরুম প্রথা উঠিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখার জন্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের নির্বাচন দেয়া হবে। জাতীয় নির্বাচনের পর জাকসু নির্বাচনের আয়োজন করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।
ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ রেজা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি যেমন আছে, শিক্ষক রাজনীতিও আছে। রাজনীতির ধারা বহুদিন ধরে চলছে। শিক্ষকদেরও রাজনীতি করার অধিকার আছে। তবে ক্লাস ক্যান্সেলের অপসংস্কৃতি আছে। অনেক শিক্ষকরাই কম ক্লাস নেন। প্রভাষক থেকে সহকারী—সহযোগী হলেই তারা কম ক্লাস নেন। অধ্যাপক হয়ে গেলে একেবারেই আসেনই না। শিক্ষকরা এ স্বাধীনতাকে মনে করেন স্বেচ্ছাচারিতা। আমাদের কর্মসংস্কৃতিতে ফিরে যেতে হবে।
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, বর্তমান সময়ে ছাত্রলীগ সবচেয়ে আলোচিত সংগঠন। ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতিম বলেই আমরা কখনো কখনো অন্যায় আক্রমণের শিকার হই। বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রিয়তার কারণে ছাত্রলীগের আধিপত্য রয়েছে। তবে সংগঠনের নেতিবাচক খবর আমাদের ব্যাথিত করে। কর্মীরা অনেকে ব্যক্তিগত অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সমস্যা কাটিয়ে আমরা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে চাই, দক্ষ মানুষ তৈরি করতে চাই। ছাত্ররাজনীতি গুণগত মান হারাচ্ছে তবুও তরুণতা আকৃষ্ট হচ্ছে। আগের তুলনায় ছাত্রদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।
সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলোর কাছে অনুরোধ আপনারা যেকোন সমস্যা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবেন। নিজেদের ভুল বোঝাবুঝি থেকে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য