শিরোনাম
সেন্টমার্টিন ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে হাজারো মানুষ
কক্সবাজার প্রতিনিধি: সেন্টমার্টিন ছাড়তে শুরু করেছে স্থানীয়রা। গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'মোখা' হিংস্র রূপ ধারণ করার আগেই দ্বীপ ছাড়ছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাত ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার মানুষ সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফ সদরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুবর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা সংকেত জারি হওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যাপক মাইকিং করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে টেকনাফে চলে গেছে প্রায় হাজার খানেক মানুষ।
তিনি বলেন, সার্ভিস বোট, ফিশিং বোটসহ বিভিন্ন নৌ-যানে করে দ্বীপের বাসিন্দারা নিরাপদে চলে যাচ্ছে । শুক্রবার দ্বীপের আরো কিছু মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নিবেন।
ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার হাবিব খান বলেন, হক পরিবার, ইউরো বাংলা রেস্টুরেন্টের মালিক ও কাঁচামাছ ব্যবসায়ী মাহবুবসহ ১৫টি পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, উপকূলের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার সেই পরিস্থিতি এখনও হয়নি। তবে দ্বীপবাসীকে সতর্ক থাকতে প্রত্যেক গ্রামে সচেতন করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রসহ হোটেল গুলোর পাশাপাশি দ্বীপে সিপিপির ১৩০০ স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বীপের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাগরের বুকে জেগে ওঠা এই প্রবাল দ্বীপসহ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদের তীরে অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীও।
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন বলছে, দুর্যোগে স্থানীয়দের জন্য উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও ডাকবাংলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ জোন হিসেবে সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপের জন্য নৌবাহিনীসহ বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিমসহ স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান বলেন, সাগরের বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্বীপের জন্য আমাদের নৌবাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি দ্বীপে বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপে হোটেল-মোটেলসহ অর্ধশতাধিক আশ্রয়কেন্দ্ৰ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হটলাইন খোলা হয়েছে। বিশেষ করে দুই দ্বীপের (সেন্টমার্টিন ও শাহপরী) বাসিন্দাদের সচেতনতার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য আগে থেকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’য় পরিণত হয়েছে।এর ফলে বৃহস্পতিবার (১১ মে) আবহাওয়া অধিদফতর থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে এক নম্বর দূরবর্তী সতকর্তা নামিয়ে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে বিধ্বংসী কিছু ঘূর্ণিঝড়: ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমাদের করণীয়
বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় অবস্থিত। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, পাহাড়ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায় হানা দেয় এই জনপদে। এই জনপদে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা প্রায় হানা দেয়। এই জনপদের অবস্থানগন কারনে প্রাকৃতিক দুর্যোগুলো এড়ানোও যায় না। কিছুদিন আগেও বন্যায় পুরো সিলেট বিভাগ তলিয়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে কিছু প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় লন্ডভন্ড করেছে এই জনপদকে। রেখে গেছে ধ্বংসের ইতিহাস।
গত কয়েকদিন যাবত দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’য় পরিণত হয়েছে। মোখার অগ্রভাগ ১৪ মে সকাল ৬টার পর থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় আসলে কি, কিভাবে সৃষ্টি হয়?
কোন একটি স্থানে যখন বাতাস অতিমাত্রায় গরম হয়ে যায় তা তখন স্থান পরিবর্তন করে উপরে উঠে যেতে থাকে। এটাই বাতাসের ধর্ম। এর ফলে ওই নির্দিষ্ট স্থানে বাতাসের চাপ কমে যায় সৃষ্টি হয় নিম্নচাপের। নিম্নচাপের অঞ্চলটিতে বায়ুশূন্যতার কারনে আশপাশের এলাকা থেকে প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে বাতাস ধেয়ে আসে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে। বায়ুশূন্য নিম্নচাপ কেন্দ্রে বাতাস ঘূর্ণির মতো ঘুরতে ঘুরতে আসার ফলে এই বায়ুপ্রবাহকে বলা হয় ঘূর্ণিঝড়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮০টির মতো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। তবে তার বেশিরভাগ উপকূলে আঘাত হানে না। অধিকাংশ সময় এই ঘূর্ণিঝড় গুলো সাগরেই হারিয়ে যায়। সাধারণত সাগরের পানি যখন ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি উত্তপ্ত হলে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশংকা সৃষ্টি হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণঃ
পূর্বে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হতো সাধারণত অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের ওপর ভিত্তি করে। এতে করে করে তৈরি হতো নানা জটিলতা ও বিভ্রান্তি। জটিলতা ও বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পেতে ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের প্রয়োজন দেখা দেয়। আর এই নামকরণের জন্য বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অধীনে থাকে বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটি, যা তৈরি করা হয় সমুদ্রের ওপর ভিত্তি করে। যেমন উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সব ঝড়ের নামকরণ করবে আঞ্চলিক কমিটির ৮টি সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ওমান।
এবার দেখা যাক বাংলাদেশে আঘাত হানা কয়েকটি প্রলয়ংকারী, বিধ্বংসী ঝড়ের ইতিহাস।
দ্যা গ্রেট বাকেরগঞ্জ ঘূর্ণিঝড় (১৮৭৬)
বরিশালের বাকেরগঞ্জে এই ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে ১৮৭৬ সালের ৩১ অক্টোবর। ব্রিটিশ শাসনামলে আঘাত হানা এই ঝড়কে ‘দ্যা গ্রেট বাকেরগঞ্জ ঘূর্ণিঝড়’ নামে ডাকা হয়। এই ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতার হিসাবে এটি পৃথিবীর ষষ্ঠ প্রলয়ংকারী, ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে। ভয়াবহ ওই ঝড়ে প্রাণ হারায় অন্তত দুই লাখ মানুষ। বরিশালের বাকেরগঞ্জ পুরোপুরি প্লাবিত হয়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে। ঘূর্ণিঝড়ে মেঘনা নদীর মোহনা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল উপকূলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি ছিল।
তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ভয়াবহ খাদ্য সংকট ও মহামারি দেখা দিলে আরও দুই লাখ মানুষের প্রাণ সংহার হয়। ১৮৭৬ সালের ‘দ্যা গ্রেট বাকেরগঞ্জ ঘূর্ণিঝড়’ এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে ওই অঞ্চলের মানুষের কয়েক বছর সময় লেগে যায়।
গোর্কি (১৯৭০)
১৯৭০ সালের ভায়াবহ এ ঘূর্ণিঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’ নামে পরিচিত। এটিই বাংলাদেশে এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়টি পৃথিবীর সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী ঝড় হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ।
ভোলা সাইক্লোনে কত সংখ্যক মানুষ মারা যায় তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। তবে হিস্ট্রিকমের হিসাব অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে সংঘটি ওই দুর্যোগে তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। লাখ লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাস্তুহারা হয় কোটি মানুষ। চারদিকে শুধুই ধ্বংসলীলা। উদ্ধার হয় লাশের পর লাশ। গোর্কি বা ভোলা সাইক্লোনে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় ভোলা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভোলার তজুমদ্দিন উজজেলার ১,৬৭,০০০ জন অধিবাসীর মধ্যে ৭৭,০০০ জনই প্রাণ হারান। ২০ ফুটেরও বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূল। জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়। দাফনের জায়গা নেই, রাস্তার পাশে গণকবর করে চাপা দেওয়া হলো বহু লাশের।
ঘূর্ণিঝড়টি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয় ১৯৭০ সালের ৮ নভেম্বর। প্রবল শক্তিশালী হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির গতিবেগ সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে (১১৫ মাইল) পৌঁছায়। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে এই ঝড়টি আঘাত হানে। ভোলা ছাড়াও বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী এলাকায় অনেক মানুষ মারা যান। গবাদিপশু কত মারা গেছে তার তো কোনো হিসাবই নেই।
বব ০১ (১৯৯১)
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলের মানুষের জন্য ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ছিল এক ভয়ানক রাত। ওই দিন রাত ১২টা নাগাদ ঘন্টায় ২৪০ কিমি গতিবেগের বাতাস সাথে ২০ ফুটের জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আসরে পড়ে উপকূলে। মুহূর্তের মধ্য উপকূলীয় জনপদ মৃতপুরীতে পরিনত হয়।
বিবিসির করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘূর্ণিঝড়ে নিহতে সংখ্যা ছিল দেড় লাখ । এদের বেশিরভাগই নিহত হয় চট্টগ্রাম জেলার উপকূল ও উপকূলীয় দ্বীপগুলোয়। এ ছাড়া সন্দ্বীপ, মহেশখালী, হাতিয়াসহ অন্যান্য দ্বীপেও নিহতের সংখ্যা ছিল অনেক। বেশ কয়েক সপ্তাহ লেগে গিয়েছিল নিহতদের লাশ কবরস্ত করতে। প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়।
বন্দরে নোঙর করা বিভিন্ন ছোট-বড় জাহাজ, লঞ্চ ও অন্যান্য জলযান নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধারণা করা হয়, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সেসময় প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।
সিডর (২০০৭)
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ভয়াবহ এক ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ আঘাত হানে দেশের উপকূলীয় এলাকায়। ভয়াবহতার দিক দিয়ে এটিও কম ছিলো না। ঘূর্ণিঝড় সিডরে উপকূলিয় ৩০টি জেলা ব্যপক ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখিন হয়। ৯ নভেম্বর আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে উৎপত্তি হয়ে ১৫ নভেম্বর এটি দেশের উপকূলীয় এলকায় আছড়ে পড়ে। এসময় বাতাসের গতিববেগ ছিল ২২০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়া আকারে আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তার সঙ্গে ছিল ২০ থেকে ২৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হিসাব মতে, ঝড়ে দশ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। গবাদিপশু মারা যায় প্রায় বিশ লাখ। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জমির ফসল, বাড়ি, সড়ক এবং বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেদিনের পর নিখোঁজ রয়েছে এখনো অনেক মানুষ।
আইলা (২০০৯)
সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট, পটুয়াখালী, খুলনা, ভোলা, বরগুনা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, হাতিয়ার উপকূলীয় জনপদের মানুষের কাছে এই দিনটি এক প্রলয়ংকারী ও ভয়ংকর দিন। ২০০৯ সালের ২৫মে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় আইলার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ। ঘূর্ণিঝড় আইলার নামকরণ করেন মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা। ‘আইলা’ শব্দের অর্থ ডলফিন বা শুশুকজাতীয় জলচর প্রাণী।
২৫ মে সংঘটিত আইলার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। আইলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এ অঞ্চলের হাজার হাজার বসতভিটা, আবাদি জমি। এই ঝড়ে প্রাণ যায় দুইশোরও বেশি মানুষের। এছাড়া ভারতেও প্রাণহানি ঘটে এই ঝড়ে। সেখানে প্রাণ হারায় ১৪৯ জন।
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার লাখো মানুষ গৃহহীন হয় । আইলার প্রভাবে নিঝুম দ্বীপ এলাকার সব পুকুরের পানি লবণাক্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ২,০০,০০০ একর কৃষিজমি লোনাপানিতে তলিয়ে যায়। কাজ হারায় ৭৩,০০০ কৃষক ও দিনমজুর।
প্রবল ঝড়ে অঞ্চলজুড়ে গাছ উপড়ে পড়ায় রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ৭৬ কিলোমিটার বাঁধ পুরোপুরি এবং ৩৬২ কিলোমিটার বাঁধ আংশিকভাবে ধসে পড়ে। পর পর দুই মৌসুম কৃষিকাজ না হওয়ায় প্রায় ৮,০০,০০০ টন খাদ্যঘাটতি সৃষ্টি হয় আইলার প্রভাবে।
রুয়ানু (২০১৬)
২০১৬ সালে ২১ মে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে বাংলাদেশের উপকূলে এবং ভারতে আংশিক আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রুয়ানু। মালদ্বীপ এ ঘূর্ণিঝড়ের নাম প্রস্তাব করেছিল। ‘রুয়ানু’ শব্দটিও মালদ্বীপের। এর অর্থ হচ্ছে নারিকেলের ছোবড়ার তৈরি দড়ি।
চট্টগ্রাম, ভোলা ও পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, বরিশালসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝড়ে ২৪ জন নিহত হয়। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা দাঁড়ায় লক্ষাধিকে। আর পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার। জলোচ্ছ্বাসে অধিকাংশ উপকূলীয় জেলার বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মাছের ঘের ইত্যাদি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সুপার সাইক্লোন আমফান (২০২০)
সুপার সাইক্লোন আম্পান একটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়, যা বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী ভারতের পূর্বাংশে এবং বাংলাদেশে আঘাত হানে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকির মধ্যে ছিল। এ শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এটিই প্রথম সুপার ঘূর্ণিঝড়। ‘আম্পান’ কথার অর্থ আকাশ। এটি একটি থাই শব্দ।
উপকূলীয় এলাকায় পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়ে ঝড়ের আগেই ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব শুরু হয়। বাংলাদেশের মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতেই আম্পানের আঘাত তীব্র ছিল। বাঁধগুলির ভাঙ্গার ফলে পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত গলাচিপা, কলাপাড়া, এবং রাঙ্গাবালী সহ ১০টি গ্রাম ডুবে যায়। নোয়াখালী জেলার একটি দ্বীপে ঝড়ের তীব্রতায় কমপক্ষে ৫০০ টি ঘর নষ্ট হয়। মারা যায় ১৬ জন মানুষ।
এছাড়া, বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ, রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্টসহ অবকাঠামোর পাশাপাশি ঘরবাড়ি, কৃষি এবং চিংড়ি ঘেরসহ মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মৌসুমী ফল আম এবং উত্তরের অন্য জেলাগুলোয় ধান এবং সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে প্রায় সাড়ে এগারোশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির কথা জানা যায়।
ঘূর্ণিঝড়ের আগে কী করবেন?
>>>> যথাসম্ভব নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অযথা আতঙ্কিত হওয়া চলবে না।
>>>> পরিস্থিতি বুঝে মাথা ঠান্ডা রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
>>>> দুর্যোগের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়কেন্দ্রে যাবে, গবাদিপশু কোথায় থাকবে, তা আগে ঠিক করে রাখুন।
>>>> গুজবে কান দেবেন না। গুজব রটাবেন না। লোকের মুখের কথা না শুনে শুধু সরকারি বার্তায় বিশ্বাস রাখুন।
>>>> জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী হাতের নাগালে রাখুন।
>>>> ঝড়ে গাছ পড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে। তাই নিজের মোবাইল ফোন আগেই সম্পূর্ণ চার্জ দিয়ে রাখুন। বিপদের সময় যে কোনো মুহূর্তে মোবাইলের দরকার হতে পারে।
>>>> নির্ভরশীল ও ছোটদের বাড়ির ভিতর নিরাপদ স্থানে রেখে দিন।
>>>> আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্ধারিত বাড়ির আশপাশে গাছের ডালপালা আসন্ন ঝড়ের আগেই কেটে রাখুন, যাতে ঝড়ে গাছগুলো ভেঙে বা উপড়ে না যায়।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় করণীয়
>>>> ঝড় শুরু হলে পরিস্থিতি বুঝে বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ করে দিন।
>>>> ঘরের দরজা-জানলা ভালো করে বন্ধ রাখুন। ফোটানো বা ক্লোরিন দেওয়া জল পান করুন।
>>>> ঝড়ের সময় যদি রাস্তায় থাকেন, তা হলে যত দ্রুত সম্ভব কোনো সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নিন। গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নীচে দাঁড়াবেন না।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে বেড়েছে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা। আগে যে পরিমাণ প্রাণহানির ঘটনা ঘটত এখন তা কমে এসেছে অনেক। ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে, এমটাই জানানো হয়েছে সরকারের তরফে।
নদী রক্ষায় তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পদযাত্রা রাকিবের
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ দেশে নদী দখলদারদের উচ্ছেদ ও নদীর প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করে তালিকা প্রনয়ণের দাবিতে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছেন রাকিব হাসান (২৪)। রাকিব হাসান কক্সবাজারের মহেশখালীর শাপলাপুরের ষাইটমারা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।
"দূরত্ব ও সীমাবদ্ধতাকে পরাজিত কর" শিরোনামে গত ২০ এপ্রিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাংলাবান্দা জিরোপয়েন্ট থেকে তিনি এ যাত্রা শুরু করেন। শেষ করবেন টেকনাফ জিরো পয়েন্ট গিয়ে। আগামী ১০ মে তিনি পর্যন নগরী কক্সবাজারে পৌঁছবেন। ১১মে ভোর ৬ টায় টেকনাফের উদ্দেশ্যে মেরিন ড্রাইভ সড়ক পথে যাত্রা করবেন।১২ মে অর্থাৎ ২৪ তম দিনে তিনি টেকনাফ গিয়ে যাত্রা বিরতি শেষ করবেন।
এই প্রতিবেদন লেখা অব্দি তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ও কক্সবাজার জেলার চকরিয়া সীমান্তবর্তী আজিজ নগরে অবস্থান করছেন। পায়ে হেটে এখন পর্যন্ত সে পথ অতিক্রম করেন ৮৪৫ কিলোমিটার। ভোর ৬টা থেকে শুরু করে রাত ৮/৯টা পর্যন্ত হাঁটেন রাকিব । রাতে যেখানে হাঁটা বন্ধ হয়ে যেত, ওই এলাকায় পরিচিত কারও বাসায় নয়তো কোনো হোটেল, মসজিদ, পেট্রোল পাম্প এর রেস্ট হাউজে রাতযাপন করেন।
দূরত্ব ভীতির কারনে কেউ সঙ্গী না হওয়ায় একাকী সে পদযাত্রা শুরু করে। রাকিব জানান- দেশে নদী দখল, নদীর উপর অন্যায় - অত্যাচার ও নদী বাঁচাতে আমার এই দীর্ঘ পদযাত্রা। এটা আমার প্রথম দীর্ঘ একাকী পদযাত্রা। দূরত্ব ও দিনের হিসেব করে আমি ২৪ দিনে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবো। আমি একাই ১০০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রাকিব জানান- আমি একাকী পদযাত্রায় বিচলিত নই । বরং দেশের নদী দখল ও নদীর বিলীন হয়ে যাওয়া নিয়ে বিচলিত, নদী আমাদের দেশের রক্তনালীর মত। দেশে প্রবাহমান সমস্ত নদী এখন শুকিয়ে গেছে। আগামি এক দশকের মধ্যে অনেক নদী হয়তো মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাবে। যদি এই সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নদী রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে দেশের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়বে। এতে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর বিপর্যয় নেমে আসবে। যা আমাকে চরমভাবে উদ্ধিগ্ন করেছে। তাই সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েই পদযাত্রার পথ বেছে নিয়েছি আমি । রাকিব জানান, ঐক্যবদ্ধ হয়ে নদী রক্ষায় সবার জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
পদযাত্রার সীমাবদ্ধতার প্রশ্নে রাকিব জানান, প্রথম কয়েকদিন হাটার পর পা ব্যথা ও ফুলে গেলেও এখন তা সুস্থ হয়ে গেছে। আমি মনোবলের উপর জোর দিয়ে এতটা পথ হেঁটে এসেছি। এতে করে আমি গন্তব্যের দিকে প্রায় এগিয়ে যাচ্ছি।
বাঁচতে হলে মহাশয়, রক্ষা করুন জলাশয়। বাঁচলে নদী, বাঁচবে দেশ,আলোর হবে পরিবেশ। দখল দূষণ বন্ধ করি, নদীর মতন জীবন গড়ি। এ স্লোগানকে সামনে রেখে নদী রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান সচেনতন মহলের প্রতি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান- নদী, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে রাকিবের একক আন্দোলন ও প্রতিবাদ অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য যে বার্তা দিচ্ছেন এতে নদী ও পরিবেশ বাঁচাতে নতুন প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হবেন।তার এই কাজে সবার সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে নদী রক্ষায় দেশবাসীকে সচেতন করেছে সে ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন- নদী,পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনতে তাঁর এ পদযাত্রা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ২৪ বছরের এ যুবক একজন শিক্ষার্থী। তাঁর দেশপ্রেম, অদম্য সাহস ও নদী বাঁচাও আন্দোলনের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণে রাখবে।
নোয়াখালীতে বিশ রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবসে র্যালি-আলোচনা সভা
নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস উৎযাপন করা হয়েছে।
সোমবার (০৮ মে) সকালে নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় পতাকা ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়ানোর মধ্যদিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে, জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গন থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা শহর মাইজদীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্তরে গিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পন শেষে পুনরায় শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা শেষে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নোয়াখালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও রেডক্রিসেন্ট নোয়াখালী জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টুর সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আনম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম, কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদ সদস্য ও জেলা ইউনিটের সেক্রেটারী এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন।
এসময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুর উদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর, জেলা ইউনিটের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজুল করিম বাচ্চু, আবু তাহের, ফুয়াদ হোসেন, সামছুল হাছান মিরন, যুব প্রধান সানুচিং মারমা বীথীসহ সহ¯্রাধিক যুব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের ৭টি মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ করে আর্তমানবতার সেবায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, টর্নেডো, খরা, শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও অন্যান্য সংকট ও জরুরী মুহুর্তে যেমন- অগ্নিকান্ড, ভবনধ্বস, অভ্যন্তরীণ সংঘাত ইত্যাদি পরিস্থিতিতে সোসাইটির সেবা কার্যক্রম সর্ব মহলে প্রশংসা অর্জন করেছে।
উবারে মূল্যবান জিনিসপত্র ভুলে রেখে যাওয়ার শীর্ষে আছে ঢাকা
২০১০ সালে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে উবার। বাংলাদেশে এই অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১৫০০ কোটিরও বেশি সংখ্যক রাইড সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও রাইডশেয়ারিং অ্যাপ উবার লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ইনডেক্সের সপ্তম সংস্করণ প্রকাশ করেছে আজ বুধবার। যেখানে গেল বছর বাংলাদেশের উবার ব্যবহারকারীরা কোন জিনিসগুলো উবারে সবচেয়ে বেশি ফেলে রেখে গেছেন এবং দিনের কোন সময়ে, সপ্তাহের কোন দিনে ও বছরের কোন সময়ে হারানো জিনিস রিপোর্ট করেছেন এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
রিপোর্টে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ফেলে রেখে আসার ঘটনাটি ঘটেছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে। যাত্রীদের ভুলে যাওয়া জিনিসের তালিকায় প্রথম দু’টি স্থানে ছিল ফোন এবং ব্যাগ। তালিকায় এর পরেই ছিল ওয়ালেট, হেডফোন ও কাগজপত্র।
উবারের বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারত প্রধান আরমানুর রহমান বলেন, চলার পথে গাড়িতে কিছু হারিয়ে ফেলার দুঃখজনক অনুভূতির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। প্রত্যেক যাত্রীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের গুরুত্ব আমরা বুঝি। তাই তাদের একটি সুন্দর অভিজ্ঞতা প্রদানে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হারানো জিনিস খুঁজে পেতে উবারের কিছু ইন-অ্যাপ অপশন আছে।
তিনি আরো বলেন, গাড়ি থেকে নামার আগে সব জিনিসপত্র সাথে নিয়ে নামতে ভুলবেন না। যদি ভুল করে কিছু ফেলেও যান, জানবেন যে আপনাকে সাহায্য করতে আমরা সবসময় প্রস্তুত।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য