শিরোনাম
বিদুৎ নিয়ে আদানির সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ
বিদুৎ নিয়ে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল চেয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
বুধবার (৬ নভেম্বর) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ব্যারিস্টার এম কাইয়ুম এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
নোটিশে অবিলম্বে অন্যায্য একতরফা চুক্তি পুনর্বিবেচনা অথবা পুরাটাই বাতিল চাওয়া হয়েছে।
তিন দিনের মধ্যে চুক্তি পুনর্বিবেচনার কার্যক্রম শুরু না করলে হাইকোর্টে রিট করবেন বলেও জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
জ্বালানি ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশের জবাব দিতে পিডিবির চেয়ারম্যান ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ৩ তিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় আদানির সঙ্গে তাড়াহুড়া করে ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি হয়। ওই সময় দেশে আমদানি করা কয়লানির্ভর কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়নি।
এসব চুক্তির একটি ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে করা ২৫ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খন্ডে আদানির ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মূলত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির সভায় ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এসব তথ্য-উপাত্ত ও নথি কমিটিকে সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে ভারতের আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৯ দফা নির্দেশনা
দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এরইমধ্যে সব সচিবের কাছে ৯ দফা নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মো. মোখলস উর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব নির্দেশনার তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় সচিবসহ দফতর-সংস্থার প্রধান এবং মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার আগে কয়েকটি বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমন্ত্রণ এসেছে, অনুষ্ঠানের পেছনে কারা আছে। এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নিতে প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বর্তমানে শীর্ষ পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা কম হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদেরকে সচিবালয় এবং মাঠ প্রশাসনের নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে। এরইমধ্যে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রম ঘটনায় বিব্রত হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। এসব সমস্যা এড়িয়ে চলতেই মূলত ৯ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। সম্প্রতি মাঠপর্যায়ের কিছু অফিসের কর্মকাণ্ডের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা অনভিপ্রেত। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আপনার মন্ত্রণালয়/বিভাগের আওতাধীন সংযুক্ত দফতর ও মাঠপর্যায়ের অফিসসমূহের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়ে অথবা আপনার বিবেচনায় আরও কিছু বিষয় সংযোজিত করে একটি নির্দেশনা জারি করা যেতে পারে, মর্মে আমি মনে করি।
১. নিজ অধিক্ষেত্রের যেকোনো অনুষ্ঠানে যোগদানের চূড়ান্ত আমন্ত্রণ গ্রহণের পূর্বে আয়োজক প্রতিষ্ঠান/সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে নিবিড়ভাবে তথ্য সংগ্রহপূর্বক আমন্ত্রণ চূড়ান্ত করা; ২. বিতর্ক এড়ানোর লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা; কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় থাকলে ওই অনুষ্ঠান পরিহার করা; ৩. আয়োজিত অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র/ব্যানার/লিফলেট/পতাকা/অন্যান্য যেকোনো ছাপানো কাগজের বর্ণনা, লোগো বা স্লোগান ইত্যাদি বিষয়ে কোনো আপত্তিকর/ বিতর্ক সৃষ্টিকারী কোনো উপাদান রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা; ৪. অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা গ্রহণ; ৫. নিজস্ব অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র/ ব্যানার/ চিঠি/ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন/ সাজসজ্জা/ সার্টিফিকেট/ট্রফি-মেডেল/স্যুভেনির ইত্যাদি ভালোভাবে পরীক্ষা করা; এসব ডকুমেন্ট অথবা স্মারকে যাতে কোনো প্রকার আপত্তিকর বা বিতর্ক সৃষ্টিকারী কোনো উপাদান বা বক্তব্য না থাকে, তা নিশ্চিত করা; ৬. সরকারের গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে যে সব দিবস বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব দিবস যাতে পালিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা; ৭. সরকারের বাতিল ঘোষিত দিবসসমূহের পূর্ববর্তী বছরগুলোর সকল স্মারক/ক্রেস্ট/ছবি/ স্যুভেনির ইত্যাদি সব অফিস থেকে অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ৮. আনুষ্ঠানিক প্রতিটি সভা/অনুষ্ঠানের জন্য লিখিত বক্তব্য প্রস্তুতপূর্বক পাঠ করা; লিখিত বক্তব্যের বাইরে কোনো কথা/স্লোগান/জয়ধ্বনি/বাক্য বলা থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকা; ৯. যে কোনো প্রকারের গুজব থেকে নিজে এবং নিজ অধিক্ষেত্রের সব সহকর্মীকে দূরে রাখা।
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আশা করছি- উল্লিখিত বিষয়ে আপনার আওতাধীন দফতর/সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ের অফিসসমূহের জন্য আপনার পক্ষ হতে একটি উপানুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে নির্দেশনা জারি করা হলে, সহকর্মীরা অধিক সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনে যত্নবান হবেন। এ বিষয়ে আপনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ কামনা করছি।
জানা গেছে, গত ২৫ অক্টোবর যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজহারুল ইসলামের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে নৃত্যের সঙ্গে বাজানো গানে পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ছিল। ওইদিন বিষয়টিতে বিব্রত হয়ে ডিসির নির্দেশে অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে আটক করা হয়। একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিরা আট ঘণ্টা পর মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পান।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যেসব দিবস বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো যাতে পালন না হয় তা নিশ্চিত করা। বাতিল করা দিবস বা ব্যক্তি সম্পর্কে থাকা বই, স্যুভেনির, ক্রেস্ট, স্মারক অফিসে থাকলে সেগুলো সরানোর জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখিত বক্তব্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলেছে, সব ধরনের অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যের বাইরে কোনো স্লোগান বা জয়ধ্বনি থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া, নিজ নিজ আওতাধীন দফতর-সংস্থার কর্মচারীরা যাতে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচিব বলেন, জনপ্রশাসন থেকে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা সচিবদের জন্য মানা সহজ। যারা মাঠ প্রশাসনে কাজ করছেন, বিশেষ করে ইউএনও, ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের জন্য কঠিন হবে।
সরকারের সব সচিব বরাবর পাঠানো জনপ্রশাসন সচিবের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারের এসব নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সচিব তার আওতাধীন দফতর, সংস্থা বা অফিসের সবাইকে অবহিত করতে উপানুষ্ঠানিক চিঠি দেবেন, যাতে সব পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীরা বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।
জামিন মেলেনি সচিবালয়ে ঢুকে পড়া সেই ২৬ এইচএসসি শিক্ষার্থীর
ডেস্ক রিপোর্ট: এইচএসসি পরীক্ষায় বৈষম্যহীন ফলাফল প্রকাশের দাবিতে সচিবালয়ে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় চকবাজার থানার দায়ের করা মামলায় ফেল করা সেই ২৬ শিক্ষার্থীর জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরীর আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন। অপরদিকে জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।
জামিন নামঞ্জুর হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন: জহিরুল ইসলাম (২০), মো. ফয়সাল হাসান (২১), মো. রায়হান হোসেন (২১), মো. রুবেল আহাম্মেদ (১৮), মো. রিয়াদ মাহমুদ (২১), মো. মেজবাউর রহমান (১৮), মেহেদী হাসান (১৮), সোহান (২১), ইমরান হোসেন আরমান (১৮), মেহেদী হাসান অন্তর (১৯), সাগর (১৮), রোহান (১৮), শাহরিয়ার হোসেন (১৮), আহাদ মোল্লা (২২), সোহান (১৮), মাসনুন (১৮), নাঈম (১৮), ইমাম হাসান (১৮), শাকিল (১৮), সেলিম (১৮), সাকলাইন মুস্তাক (১৮), হানজালাল (২২), মশিউর রহমান (১৮), প্রান্তিক (১৮), তাছিম রহমান (১৮) ও রবিন মিয়া (১৮)।
এর আগে গত রোববার (৩ নভেম্বর) এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গত ২০ অক্টোবর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধাদানের বিষয়ে চকবাজার থানায় মামলা হয়। রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২৬ জনকে গ্রেফতারের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ অক্টোবর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জের ধরে কিছু শিক্ষার্থী বিভিন্ন দাবি নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে আন্দোলন করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর বেলা ১.৩০ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জন উচ্ছৃংখল শিক্ষার্থী দলবদ্ধ হয়ে চকবাজার মডেল থানাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মূল গেটে অবস্থান নেয়।
পরে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে প্রধান গেইট ভেঙে অতর্কিতভাবে ভেতরে প্রবেশ করে তারা। অতঃপর তারা বোর্ডের প্রশাসনিক ভবনের সপ্তম তলায় চেয়ারম্যান মহোদয়ের দফতরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করে এবং আসবাপত্র ভাঙচুর করে। এসময় তাদের নিক্ষিপ্ত পাথরে পরিচ্ছন্নকর্মী রতন চন্দ্র রায়সহ (৩৫) কয়েকজন জখম হন। এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-সচিব খলিলুর রহমান বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটা মামলা দায়ের করেন।
স্বপ্ন ছিল বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যাব : সারজিস
ডেস্ক রিপোর্ট: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলমের স্বপ্ন ছিল কোনো মন্ত্রণালয়ের সচিব হওয়ার। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি তার স্বপ্নের কথা জানান।
সারজিস বলেন, মাস দু’এয়েক আগেও চাকরির জন্যে পড়াশোনা করছিলাম। স্বপ্ন ছিল- বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যাব। এরপর চাকরি জীবনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে হয়তো কোনো মন্ত্রণালয়ের সচিব হবো। এমন একটা স্বপ্নের মধ্যে বসবাস ছিল। কিন্তু বর্তমান জীবনের সম্পূর্ণ বিপরীত। ৫ আগস্টের আগের জীবন আর বর্তমান জীবন- ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে গেছে। ওই জীবনের ওপর আমার নিয়ন্ত্রণ ছিলো, রুটিন আমি ঠিক করতাম। কিন্তু এরপর থেকে আমার আর ঠিক করা হয়ে উঠেনি।
কাজ করতে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরবর্তী জীবন ঠিক হয়েছে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার দাবির প্রেক্ষিতে। ছাত্র-জনতা যেভাবে চেয়েছে- যখন প্রয়োজন হয়েছে, আমাদের যেতে হয়েছে। আমাদের রুটিনগুলো ঠিক হয়েছে। এই জীবন দু’মাস আগেও আমরা প্রত্যাশা করিনি। স্বপ্নেও ভাবিনি এমন কোনো কিছু হবে। একদম নতুন একটা জীবন, প্রতিটা দিনই নতুন। নতুন নতুন প্রোগ্রাম, নতুন নতুন সিচ্যুয়েশন; যেগুলো আমরা ফেস করছি। বেশিরভাগ প্রোগ্রাম যেগুলো হয়- সেগুলো আমরা প্রথম ফেস করছি। দু’মাস আগের জীবনে সচরাচর এই জীবনে অভ্যস্ত তো ছিলামই না। ফেসও করা হয়নি সেভাবে। সে জায়গা থেকে আমাদের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে- মানুষকে, সিচ্যুয়েশনকে, প্রতিষ্ঠানকে, দেশকে, সিস্টেমগুলোকে নতুন করে চিনছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা যেভাবে দেখে এসেছি, আসলে তো এগুলো এমন না। পর্দার পেছনের গল্প একটু আলাদা। অনেক ক্ষেত্রে একদমই ভিন্ন। এমন অনেক কিছুই রয়েছে- যেগুলো দেখানো হয় আসলে সেগুলো তেমন না। ভেতরের জিনিসটা আলাদা। অনেক সময় মনে করি, এইগুলোই ইউনিভার্সাল ট্রুথ; এভাবেই হয় কিন্তু আসলে পেছন থেকে এভাবেই দেখানো হয়।
কোন জিনিসটা দেখে আকাশ থেকে পড়ার মতো সিচ্যুয়েশন হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আকাশ থেকে কখনো পড়িনি। সৃষ্টিকর্তা হয়তো সেই সাহস-আত্মবিশ্বাসটা দিয়েছেন। কিন্তু প্রায় প্রতিটি-ই নতুন সিচ্যুয়েশন, যেগুলো ফেস করতে হয়। আমরা যে, এগুলো ফেস করবো, দু’মাস আগেও অপ্রত্যাশিত ছিলো না। যেমন ধরুন- আমরা চাকরির পড়াশোনা করছিলাম। আমাদের প্রত্যাশা ছিলো- বিসিএস দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যাব। এরপর চাকরি জীবনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে হয়তো কোনো মন্ত্রণালয়ের সচিব হবো। এমন একটা স্বপ্নের মধ্যে বসবাস ছিলো। কিন্তু বর্তমানে ওই জীবনের সম্পূর্ণ বিপরীত। এই জিনিসগুলো বিচিত্র অভিজ্ঞতা। এটাই অবাক হয়ে যাওয়ার মতো।
হাছান মাহমুদের বক্তব্য ভূতের মুখে রামনাম : ফখরুল
ডেস্ক রিপোর্ট: ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটাকে ভূতের মুখে রামনাম বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘তাদের (আওয়ামী লীগ) মুখে গণতন্ত্রের কথা মানুষ বিশ্বাস করে না।’
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী শাসনের পতন হয় গত ৫ আগস্ট। শেখ হাসিনাসহ দলের নেতাদের একটা বড় অংশ বিদেশে পালিয়ে গেছেন।
অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেছেন। বাকি নেতা–কর্মীরা রয়েছেন আত্মগোপনে। বিপর্যস্ত এই পরিস্থিতিতে হাছান মাহমুদ যখন বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে আওয়ামী লীগের আগ্রহের কথা বলছেন, তখন দলটির ভেতরে এ ধরনের চিন্তা থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন। তবে বিএনপি নেতারা তা নাকচ করে দিয়েছেন।
লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন ‘চ্যানেল এস’ হাছান মাহমুদের এক সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে গত রবিবার। তাঁর সেই সাক্ষাৎকার দেশের কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে তিনি বলেছেন, বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে না পারা আওয়ামী লীগের বড় রাজনৈতিক ভুল ছিল।
এ ছাড়া হাছান মাহমুদ বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে তাঁর দল (আওয়ামী লীগ) আগ্রহী। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে তিনি একমত বলেও মন্তব্য করেন। তবে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনে দলটির নেতাদের যাঁরা বিএনপির কড়া সমালোচক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হাছান মাহমুদ। এখন হাছান মাহমুদ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কাজ করার আগ্রহের বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভূতের মুখে রামনাম। আমরা আগেও বলেছি এবং এখনো বলছি, তারা (আওয়ামী লীগ) এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলে। এ কথা শুনলে ঘোড়াও হাসবে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, গণতন্ত্র আনতে দেশের মানুষ তাদের (আওয়ামী লীগ) তাড়িয়ে দিয়েছে। তারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। তাদের মুখে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা শোভা পায় না।
আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার কথা বললে সেটা জনগণ বিশ্বাস করে না বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য