The Rising Campus
News Media
শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩

অঘোষিত মহামারীর আরেক নাম ‘সড়ক দুর্ঘটনা’

বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা এখন এক মহামারীর নাম। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এই মৃত্যুফাঁদে পা দিয়ে লাশ কিংবা জীবন্ত লাশ হওয়ার ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলছে। বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা গুলো। প্রতিদিনই কারও না কারও স্বজন হারানোর হাহাকার বা দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস।

সড়ক দুর্ঘটনা একজন সড়ক ব্যবহারকারীর সাথে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস, যদিও সেগুলি প্রায়শই ঘটে থাকে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হল আমরা রাস্তায় আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নেই না। বেশিরভাগ রাস্তা ব্যবহারকারীরা রাস্তা ব্যবহার করার সময় সাধারণ নিয়ম এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন কিন্তু এটি শুধুমাত্র রাস্তা ব্যবহারকারীদের অংশের শিথিলতা, যা দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনা ঘটায়। এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ মানবিক ত্রুটি। আমরা মানুষের কিছু সাধারণ আচরণ বর্ণনা করছি যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। দূর্ঘটনার স্বাভাবিক কারণ গুলো অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, ড্রাইভারের প্রতি বিভ্রান্তি, রেড লাইট জাম্পিং, সিট বেল্ট এবং হেলমেটের মত নিরাপত্তা গিয়ার এড়িয়ে চলা কিংবা লেন না মানা এবং ভুল পদ্ধতিতে ওভারটেকিং করা।

আমাদের দেশে এ কারণ গুলিকে রাস্তার চালকদের সবচেয়ে সাধারণ আচরণ হিসাবে পাওয়া যায়, যা দুর্ঘটনার দিকে ধাবিত করে। আমরা যদি বিগত পাচঁ বছরের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবিম্ব দেখি তাহলে দেখা যাবে যে, ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৭৩৭৯ জনের এবং মারাত্মক ভাবে আহত হয় ১৬১৯৩। কিন্তু ২০১৯ সালে এর মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৫৫ জন এবং আহতের সংখ্যা কিছুটা কবে দাঁড়ায় ১৩৩৩০ জনে। আবার ২০২০ সালে আহত ও মৃত্যুর ও আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪৩১ ও ৭৩৭৯ জনে। আবার ২০২১ এবং ২০২২ এ এর সংখ্যা আশংকাজনক ভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা ৬২৮৪ ও ৯৯৫১ জন এবং আহতের সংখ্যা ৭৪৬৮ ও ৬৭৪৯ জন।

এ মহামারীর শেষ কোথায়? এর সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য আমাদের কি করা উচিত? পথিক হিসাবে আমাদের কি করা উচিত কিংবা বাহনচালক হিসাবে আমাদের কি করা উচিত?

সর্বপরি আমাদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রশাসনের আইনের কঠোর প্রয়োগ করে বাংলাদেশের রাস্তায় মানায় এমন যানবাহনের নকশা করা, রাস্তার অবকাঠামো ও আপনার দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। সামনে গাড়ি থেকে পিছনে যথেষ্ট দূরত্ব রেখে গাড়ি চালাতে হবে যাতে নিরাপদে থামানো যায়। চালকদের আরো কৌশলগতভাবে ড্রাইভ করা ও তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত যেনো তারা এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলে যার ফলে হঠাৎ ব্রেক ব্যবহার করা থেকে বাঁচা যায়। বিভ্রান্ত হয়ে বা তন্দ্রাচ্ছন্ন বা প্রভাবের অধীনে গাড়ি না চালালে দূর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।

লেখক: সোহায়েব ভূঁইয়া, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. হোম
  2. জাতীয়
  3. অঘোষিত মহামারীর আরেক নাম ‘সড়ক দুর্ঘটনা’

অঘোষিত মহামারীর আরেক নাম 'সড়ক দুর্ঘটনা'

বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা এখন এক মহামারীর নাম। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এই মৃত্যুফাঁদে পা দিয়ে লাশ কিংবা জীবন্ত লাশ হওয়ার ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলছে। বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা গুলো। প্রতিদিনই কারও না কারও স্বজন হারানোর হাহাকার বা দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস।

সড়ক দুর্ঘটনা একজন সড়ক ব্যবহারকারীর সাথে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস, যদিও সেগুলি প্রায়শই ঘটে থাকে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হল আমরা রাস্তায় আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নেই না। বেশিরভাগ রাস্তা ব্যবহারকারীরা রাস্তা ব্যবহার করার সময় সাধারণ নিয়ম এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন কিন্তু এটি শুধুমাত্র রাস্তা ব্যবহারকারীদের অংশের শিথিলতা, যা দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনা ঘটায়। এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ মানবিক ত্রুটি। আমরা মানুষের কিছু সাধারণ আচরণ বর্ণনা করছি যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। দূর্ঘটনার স্বাভাবিক কারণ গুলো অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, ড্রাইভারের প্রতি বিভ্রান্তি, রেড লাইট জাম্পিং, সিট বেল্ট এবং হেলমেটের মত নিরাপত্তা গিয়ার এড়িয়ে চলা কিংবা লেন না মানা এবং ভুল পদ্ধতিতে ওভারটেকিং করা।

আমাদের দেশে এ কারণ গুলিকে রাস্তার চালকদের সবচেয়ে সাধারণ আচরণ হিসাবে পাওয়া যায়, যা দুর্ঘটনার দিকে ধাবিত করে। আমরা যদি বিগত পাচঁ বছরের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবিম্ব দেখি তাহলে দেখা যাবে যে, ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৭৩৭৯ জনের এবং মারাত্মক ভাবে আহত হয় ১৬১৯৩। কিন্তু ২০১৯ সালে এর মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৫৫ জন এবং আহতের সংখ্যা কিছুটা কবে দাঁড়ায় ১৩৩৩০ জনে। আবার ২০২০ সালে আহত ও মৃত্যুর ও আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪৩১ ও ৭৩৭৯ জনে। আবার ২০২১ এবং ২০২২ এ এর সংখ্যা আশংকাজনক ভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা ৬২৮৪ ও ৯৯৫১ জন এবং আহতের সংখ্যা ৭৪৬৮ ও ৬৭৪৯ জন।

এ মহামারীর শেষ কোথায়? এর সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য আমাদের কি করা উচিত? পথিক হিসাবে আমাদের কি করা উচিত কিংবা বাহনচালক হিসাবে আমাদের কি করা উচিত?

সর্বপরি আমাদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রশাসনের আইনের কঠোর প্রয়োগ করে বাংলাদেশের রাস্তায় মানায় এমন যানবাহনের নকশা করা, রাস্তার অবকাঠামো ও আপনার দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। সামনে গাড়ি থেকে পিছনে যথেষ্ট দূরত্ব রেখে গাড়ি চালাতে হবে যাতে নিরাপদে থামানো যায়। চালকদের আরো কৌশলগতভাবে ড্রাইভ করা ও তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত যেনো তারা এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলে যার ফলে হঠাৎ ব্রেক ব্যবহার করা থেকে বাঁচা যায়। বিভ্রান্ত হয়ে বা তন্দ্রাচ্ছন্ন বা প্রভাবের অধীনে গাড়ি না চালালে দূর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।

লেখক: সোহায়েব ভূঁইয়া, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন