The Rising Campus
News Media
শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩

শীতের আগমনে রাবিতে জমেছে পিঠা খাওয়ার ধুম

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি: চলছে শীতকাল। আর শীত মানেই পিঠা খাওয়ার ধুম। পিঠার ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস জুড়ে। শীত আসতে না আসতেই এরই মধ্যে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় বসেছে পিঠার দোকান। আর এসব দোকানের গরম পিঠায় জমে উঠেছে পিঠা প্রেমি শিক্ষার্থীদের আড্ডা। কেউ পিঠা খাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে ঘন্টার ঘন্টা, আবার কেউবা কতটা পিঠা একাই খেতে পারবে তা নিয়ে ধরছে বাজি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের সামনে, রোকেয়া হলের সামনে পিঠার দোকান, শেখ রাসেল স্কুল মাঠে বসলেও সবচেয়ে বেশি জমে উঠেছে রোকেয়া হলের সামনের দোকানগুলো। বিকাল হলেই পিঠার দোকানের আশপাশে বসে ছোট ছোট আড্ডার আসর। এখানে তিন রকমের পিঠা পাওয়া যায়। চিতই পিঠা ১০ টাকা, ভাপা পিঠা ১০ টাকা এবং তেলের পিঠা ১৫ টাকা। এছাড়াও ভর্তার জন্য আলাদা দাম পরিশোধ করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারিসারি পাতানো আছে চুলা। তাতে তৈরি হচ্ছে পিঠা। সিদ্ধ চাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভাপা পিঠা আর আতপ চালের আটা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে চিতই পিঠা। গরম গরম পিঠা খেতে দলে দলে আসছে শিক্ষার্থীরা। সাত রকমের ভর্তা তৈরি করে প্লেট সাজিয়ে দিচ্ছেন তারা। ভর্তাগুলোর মধ্যে হচ্ছে চিংড়ি ও মাছের শুঁটকি, ধনিয়া পাতা, কালিজিরা ভর্তা, বেগুনও কাঁচামরিচ। পিঠার সঙ্গে সঙ্গে ভর্তার প্লেটও পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসের ছোট্ট পিঠার দোকানে বন্ধুরা মিলে যখন একসঙ্গে পিঠা খাওয়া হয়, তখন নিজের অজান্তেই ক্ষণিকের জন্য মনে পড়ে যায় গ্রামের বাড়িতে চুলার ধারে বসে মায়ের হাতের পিঠা খাওয়ার কথা। তাই তো পরিবার-পরিজন থেকে শত শত মাইল দূরে ক্যাম্পাস যেন আরেকটা পরিবার।

পিঠা খেতে খেতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বলেন, এখানকার পিঠা খেতে অসাধারণ। আমরা আমাদের পরিবারের সঙ্গেও পিঠা খেয়ে থাকি। কিন্তু সেখানকার মজা আর এখানকার পিঠা খাওয়ার মজা আলাদা। নানা ধরনের পিঠার আমেজে মনকে বাঁধা দিতে না পেরে পশ্চিমপাড়ায় আসলাম পিঠা খেতে। সন্ধ্যায় কুয়াশায় মোড়ানো এই শীতে উষ্ণ কাপড় জড়িয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পিঠা খাওয়ার মজায় আলাদা। যদিও পিঠা পেতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। তবুও এটা আমার কাছে বেশ উপভোগ্য।

প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, শীত মানেই পিঠা খাওয়ার মৌসুম। তেমনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালের শীতের সন্ধ্যা মানেই পশ্চিম পাড়ার পিঠা উৎসব। যেখানে পিঠা খেতে হলে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়। একটু পরে গেলেই যেনো সিরিয়াল মেলা ভাড়। পশ্চিম পাড়াতে চিতই এবং ভাপা পিঠা খুবই জনপ্রিয়। সঙ্গে বেশ কয়েক প্রকারের ভর্তা। বন্ধু-বান্ধবী, বড়-ছোট ভাইদের সঙ্গে মিলে পশ্চিম পাড়ায় রোকেয়া হলের সামনে পিঠা খাওয়াটা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সাথে জুড়ে গেছে।

পিঠা বিক্রেতা শুকুর আলী জানান, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে চার বছর ধরে পিঠা বিক্রি করছি। এখানে ভাপা ও চিতই পিঠা বিক্রি করি। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও পিঠা খেতে আসেন। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও অনেকে আসেন পিঠা খেতে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে দোকান তুলে ফেলতে হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রতিদিন ভাপা পিঠার জন্য ২০ কেজি এবং চিতই পিঠার জন্য ৩০-৩৫ কেজি চাল লাগে। প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়। শীত বাড়লে আরো বিক্রি বাড়বে।

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. হোম
  2. ক্যাম্পাস
  3. শীতের আগমনে রাবিতে জমেছে পিঠা খাওয়ার ধুম

শীতের আগমনে রাবিতে জমেছে পিঠা খাওয়ার ধুম

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি: চলছে শীতকাল। আর শীত মানেই পিঠা খাওয়ার ধুম। পিঠার ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস জুড়ে। শীত আসতে না আসতেই এরই মধ্যে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় বসেছে পিঠার দোকান। আর এসব দোকানের গরম পিঠায় জমে উঠেছে পিঠা প্রেমি শিক্ষার্থীদের আড্ডা। কেউ পিঠা খাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে ঘন্টার ঘন্টা, আবার কেউবা কতটা পিঠা একাই খেতে পারবে তা নিয়ে ধরছে বাজি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের সামনে, রোকেয়া হলের সামনে পিঠার দোকান, শেখ রাসেল স্কুল মাঠে বসলেও সবচেয়ে বেশি জমে উঠেছে রোকেয়া হলের সামনের দোকানগুলো। বিকাল হলেই পিঠার দোকানের আশপাশে বসে ছোট ছোট আড্ডার আসর। এখানে তিন রকমের পিঠা পাওয়া যায়। চিতই পিঠা ১০ টাকা, ভাপা পিঠা ১০ টাকা এবং তেলের পিঠা ১৫ টাকা। এছাড়াও ভর্তার জন্য আলাদা দাম পরিশোধ করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারিসারি পাতানো আছে চুলা। তাতে তৈরি হচ্ছে পিঠা। সিদ্ধ চাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভাপা পিঠা আর আতপ চালের আটা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে চিতই পিঠা। গরম গরম পিঠা খেতে দলে দলে আসছে শিক্ষার্থীরা। সাত রকমের ভর্তা তৈরি করে প্লেট সাজিয়ে দিচ্ছেন তারা। ভর্তাগুলোর মধ্যে হচ্ছে চিংড়ি ও মাছের শুঁটকি, ধনিয়া পাতা, কালিজিরা ভর্তা, বেগুনও কাঁচামরিচ। পিঠার সঙ্গে সঙ্গে ভর্তার প্লেটও পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসের ছোট্ট পিঠার দোকানে বন্ধুরা মিলে যখন একসঙ্গে পিঠা খাওয়া হয়, তখন নিজের অজান্তেই ক্ষণিকের জন্য মনে পড়ে যায় গ্রামের বাড়িতে চুলার ধারে বসে মায়ের হাতের পিঠা খাওয়ার কথা। তাই তো পরিবার-পরিজন থেকে শত শত মাইল দূরে ক্যাম্পাস যেন আরেকটা পরিবার।

পিঠা খেতে খেতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বলেন, এখানকার পিঠা খেতে অসাধারণ। আমরা আমাদের পরিবারের সঙ্গেও পিঠা খেয়ে থাকি। কিন্তু সেখানকার মজা আর এখানকার পিঠা খাওয়ার মজা আলাদা। নানা ধরনের পিঠার আমেজে মনকে বাঁধা দিতে না পেরে পশ্চিমপাড়ায় আসলাম পিঠা খেতে। সন্ধ্যায় কুয়াশায় মোড়ানো এই শীতে উষ্ণ কাপড় জড়িয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পিঠা খাওয়ার মজায় আলাদা। যদিও পিঠা পেতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। তবুও এটা আমার কাছে বেশ উপভোগ্য।

প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, শীত মানেই পিঠা খাওয়ার মৌসুম। তেমনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালের শীতের সন্ধ্যা মানেই পশ্চিম পাড়ার পিঠা উৎসব। যেখানে পিঠা খেতে হলে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়। একটু পরে গেলেই যেনো সিরিয়াল মেলা ভাড়। পশ্চিম পাড়াতে চিতই এবং ভাপা পিঠা খুবই জনপ্রিয়। সঙ্গে বেশ কয়েক প্রকারের ভর্তা। বন্ধু-বান্ধবী, বড়-ছোট ভাইদের সঙ্গে মিলে পশ্চিম পাড়ায় রোকেয়া হলের সামনে পিঠা খাওয়াটা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সাথে জুড়ে গেছে।

পিঠা বিক্রেতা শুকুর আলী জানান, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে চার বছর ধরে পিঠা বিক্রি করছি। এখানে ভাপা ও চিতই পিঠা বিক্রি করি। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও পিঠা খেতে আসেন। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও অনেকে আসেন পিঠা খেতে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে দোকান তুলে ফেলতে হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রতিদিন ভাপা পিঠার জন্য ২০ কেজি এবং চিতই পিঠার জন্য ৩০-৩৫ কেজি চাল লাগে। প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়। শীত বাড়লে আরো বিক্রি বাড়বে।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন