The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
রবিবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪

৪১তম বিসিএস ফল প্রকাশের দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা

পরীক্ষকদের ভুলের কারণে ফল প্রকাশে দেরি হওয়া ৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেরি হওয়ার পর প্রার্থীদের দেরির কথা বিবেচনা করে পিএসসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানতে চাইলে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষকদের ভুলে ফল দিতে দেরি হয়ে গেল। এই সময় কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পিএসসি ফল প্রকাশের পর মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের খুব বেশি দিন অপেক্ষা করাবে না। দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় দিয়ে মৌখিক পরীক্ষা শুরু

এদিকে পরীক্ষকদের সবার ভুল সংশোধন হলেই ৪১তম বিসিএসের ফল প্রকাশ করবে পিএসসি। পিএসসি বলছে, কিছুটা দেরি হলেও তারা নির্ভুল ফল প্রকাশ করতে চায়। এ জন্যই কিছুটা দেরি হচ্ছে।

পিএসসি সূত্র জানায়, ৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখতে গিয়ে ৩১৮ পরীক্ষক দায়িত্ব অবহেলা করেছেন। তাঁদের ভুলের কারণে পিএসসি এই বিসিএসের ফল প্রকাশ করতে পারেনি। নিয়ম অনুসারে এই পরীক্ষকদের সশরীর পিএসসিতে আসতে হচ্ছে ও ভুল সংশোধন করে তাঁদের স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। এভাবে একে একে সব পরীক্ষকের আসতে সময় লাগায় ফল প্রকাশে সময় লাগছে।

পিএসসি সূত্র জানায়, পরীক্ষকদের ভুল সংশোধন করলেই পিএসসি পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। এই সপ্তাহে ফল প্রকাশ হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিএসসির এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ৮৮ হাজার খাতা। সেখান থেকে ভুল খাতাগুলো বের করা সহজ ব্যাপার নয়। আবার পরীক্ষক সশরীর এসে সংশোধন না করলে ফলও প্রকাশ করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, পিএসসির খাতা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। খাতা যেকোনো সময় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সে জন্য সেখানে ভুল রাখা সম্ভব নয়।

এতে পিএসসির সম্মান ক্ষুণ্ন হবে। তাই এগুলো নির্ভুল করতেই সব পরীক্ষককে ডাকা হচ্ছে। যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীরাও যাতে সঠিক মূল্যায়ন ও ন্যায়বিচার পান, সে জন্য পিএসসি কাজ করছে।

৯ মাস আগে শেষ হয়েছে ৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা। তবে এখনো ফল পাননি চাকরিপ্রার্থীরা। পিএসসি বলছে, তিন শতাধিক পরীক্ষকের অবহেলার জন্য ফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে।

পিএসসির একাধিক সূত্র জানায়, ফল প্রকাশে দেরির কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ৩১৮ পরীক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গুরুতর অবহেলাকারী পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর। এত দিনেও ফল প্রকাশ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রার্থীরা।

পিএসসি সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৪১তম বিসিএসের ফল প্রকাশের লক্ষ্যে পিএসসির বিশেষ সভায় আলোচনা হয়েছে। এমন তিনটি সভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ ফল প্রকাশে দেরি হবে বলে জানায়। পরে দেরির কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করে পিএসসি। কমিটি তদন্ত শেষে ফল দেরির বেশ কিছু কারণ তুলে ধরে।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেউ কেউ পরীক্ষার্থীর কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তরের জন্য নম্বরই দেননি। অনেকে খাতার শেষে থাকা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। কোনো কোনো খাতায় পরীক্ষক নম্বরের যোগফলে ভুল করেছেন। অনেকে আবার এমনভাবে নম্বর দিয়েছেন, যা পুনর্মূল্যায়নের জন্য তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠাতে হয়েছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. ক্যাম্পাস
  3. ৪১তম বিসিএস ফল প্রকাশের দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা

৪১তম বিসিএস ফল প্রকাশের দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা

পরীক্ষকদের ভুলের কারণে ফল প্রকাশে দেরি হওয়া ৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেরি হওয়ার পর প্রার্থীদের দেরির কথা বিবেচনা করে পিএসসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানতে চাইলে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষকদের ভুলে ফল দিতে দেরি হয়ে গেল। এই সময় কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পিএসসি ফল প্রকাশের পর মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের খুব বেশি দিন অপেক্ষা করাবে না। দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় দিয়ে মৌখিক পরীক্ষা শুরু

এদিকে পরীক্ষকদের সবার ভুল সংশোধন হলেই ৪১তম বিসিএসের ফল প্রকাশ করবে পিএসসি। পিএসসি বলছে, কিছুটা দেরি হলেও তারা নির্ভুল ফল প্রকাশ করতে চায়। এ জন্যই কিছুটা দেরি হচ্ছে।

পিএসসি সূত্র জানায়, ৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখতে গিয়ে ৩১৮ পরীক্ষক দায়িত্ব অবহেলা করেছেন। তাঁদের ভুলের কারণে পিএসসি এই বিসিএসের ফল প্রকাশ করতে পারেনি। নিয়ম অনুসারে এই পরীক্ষকদের সশরীর পিএসসিতে আসতে হচ্ছে ও ভুল সংশোধন করে তাঁদের স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। এভাবে একে একে সব পরীক্ষকের আসতে সময় লাগায় ফল প্রকাশে সময় লাগছে।

পিএসসি সূত্র জানায়, পরীক্ষকদের ভুল সংশোধন করলেই পিএসসি পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। এই সপ্তাহে ফল প্রকাশ হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিএসসির এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ৮৮ হাজার খাতা। সেখান থেকে ভুল খাতাগুলো বের করা সহজ ব্যাপার নয়। আবার পরীক্ষক সশরীর এসে সংশোধন না করলে ফলও প্রকাশ করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, পিএসসির খাতা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। খাতা যেকোনো সময় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সে জন্য সেখানে ভুল রাখা সম্ভব নয়।

এতে পিএসসির সম্মান ক্ষুণ্ন হবে। তাই এগুলো নির্ভুল করতেই সব পরীক্ষককে ডাকা হচ্ছে। যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীরাও যাতে সঠিক মূল্যায়ন ও ন্যায়বিচার পান, সে জন্য পিএসসি কাজ করছে।

৯ মাস আগে শেষ হয়েছে ৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা। তবে এখনো ফল পাননি চাকরিপ্রার্থীরা। পিএসসি বলছে, তিন শতাধিক পরীক্ষকের অবহেলার জন্য ফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে।

পিএসসির একাধিক সূত্র জানায়, ফল প্রকাশে দেরির কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ৩১৮ পরীক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গুরুতর অবহেলাকারী পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর। এত দিনেও ফল প্রকাশ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রার্থীরা।

পিএসসি সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৪১তম বিসিএসের ফল প্রকাশের লক্ষ্যে পিএসসির বিশেষ সভায় আলোচনা হয়েছে। এমন তিনটি সভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ ফল প্রকাশে দেরি হবে বলে জানায়। পরে দেরির কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করে পিএসসি। কমিটি তদন্ত শেষে ফল দেরির বেশ কিছু কারণ তুলে ধরে।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেউ কেউ পরীক্ষার্থীর কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তরের জন্য নম্বরই দেননি। অনেকে খাতার শেষে থাকা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। কোনো কোনো খাতায় পরীক্ষক নম্বরের যোগফলে ভুল করেছেন। অনেকে আবার এমনভাবে নম্বর দিয়েছেন, যা পুনর্মূল্যায়নের জন্য তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠাতে হয়েছে।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন