The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
সোমবার, ২২শে জুলাই, ২০২৪

১৬ দফা দাবিতে ইবি কর্মকর্তাদের লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  ১৬ দফা দাবি জানিয়ে লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি’। রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ও ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এ টি এম এমদাদুল আলম এবং কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. ওয়ালিদ হাসান মুকুট স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে, ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির ১৬ দফা দাবীসমূহ বাস্তবায়নের জন্য নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ৩০ জুলাই থেকে অদ্যাবধি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কর্মবিরতির কর্মসূচী পালন করছে ইবি কর্মকর্তারা। শোকের মাস আগষ্ট মাসে কঠোর কোন কর্মসূচী প্রদান করেনি ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি। তবে শীঘ্রই তাদের দাবীসমূহ বাস্তবায়িত না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচী প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে তারা ভিসিকে উদ্দেশ্য করে বলে, এই দাবী সমূহ আইনগতভাবে ন্যায্য হওয়া সত্ত্বেও আপনি তা পুরণ না করে বরং জিয়ে রেখে আমাদেরকে আন্দোলনের মুখে ঠেলে দিয়ে একদিকে পরোক্ষভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার ইন্ধন জোগাচ্ছেন অন্যদিকে সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছেন বলে আমরা মনে করি। আপনার এহেন কর্মকাণ্ডে আমাদের মধ্যে চরমক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে দাবীসমূহ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত “ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি’ আগামী ২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে লাগাতার কর্মবিরতির কর্মসূচী পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ও ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এ টি এম এমদাদুল আলম বলেন, আমাদের বঞ্চিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি। অথচ তারা যেসব কর্মকান্ড করছে বিশ্ববিদ্যালয় একটি শান্তির জায়গা থেকে সংকটের দিকে চলে যাচ্ছে। আমরা আমাদের দাবি জানিয়ে বহুবার স্মারকলিপি দিয়েছি অথচ তারা তাদের পবিত্র দায়িত্ব পালন না করে পরিকল্পিতভাবে এ সরকারের বদনাম যেন হয় সে জন্য তারা ক্যাম্পাসকে একটি অস্থিতিশীল জায়গায় ঠেলে দিয়েছে। এ জন্য আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান বলেন, আমি সিন্ডিকেটে যাওয়ার সময় ভিসি বাংলোর সামনে থেকে কর্মকর্তারা আমাকে নিয়ে আসছে। আমি এখন অফিসেই আছি। কর্মকর্তারা আমাকে ঘেরাও করে রেখেছে। তারা প্রশাসন ভবনের নিচেই আছে। আমার মন ভালো নেই, আর কিছু বলতে পারছিনা।

এ বিষয়ে জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালামকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

১৬ দফা দাবিসমূহ হলো: ১. অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় চাকরি হতে অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর করতে হবে। ২. সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের সেশন বেনিফিট বহাল রাখতে হবে। ৩. উপ-রেজিস্ট্রার হাসিনা মমতাজকে চাকরি অব্যাহতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। ৪.GST এর অধীনে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে পোষ্যদের ভর্তি করা হয়েছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির আলোকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পোষ্যদেরকে ভর্তি করতে হবে। ৫. কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছর না হওয়া পর্যন্ত ৮(II) ধারা বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬.সিনিয়র ইমাম মোঃ মনিরুজ্জামান এবং মোঃ বেলায়েত হোসেনগণের পদোন্নতি ও বাতিলকৃত উচ্চতর স্কেল প্রদান করতে হবে। ৭.প্রকৌশল অফিসের ২জনের পদোন্নতির সমস্যা সমাধান করতে হবে। ৮. বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরতাবস্থায় মৃত্যুজনিত কারণে কর্মচারীবৃন্দের পরিবারের যোগ্যতম ব্যক্তিকে সিণ্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মৃত্যুর ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যেই চাকুরী প্রদানের বিষয়টি বাস্তবায়নের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ৯. সিণ্ডিকেটের অনুমোদিত কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালার বিশেষ টিকার আলোকে ১১ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে শাখা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে। ১০. চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্মরত সকল স্তরের টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করতে হবে। ১১. অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় শিক্ষাগত যোগ্যতা বৃদ্ধির কারণে কর্মচারীবৃন্দের অনর্জিত ইনক্রিমেন্ট প্রদান করতে হবে। ১২. পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরীক্ষার পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করতে হবে। ১৩. অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় গাড়ী চালকদেরকে সাত ধাপের সুবিধা বাস্তবায়ন করতে হবে। ১৪. সাধারণ কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালানুযায়ী বছরে চার বার পদোন্নতি/আপগ্রেডিং এর মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে। ১৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যুগোপযোগী অর্গানোগ্রাম করতে হবে। ১৬. ৬ জন কর্মকর্তার ৭ বছর পূর্তিতে পদোন্নতি/ আপগ্রেডিং কার্যকর করার বিষয়ে অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সুপারিশ দ্রত বাস্তবায়ন করতে হবে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.