The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪

সেলিম আল দীনের জন্মজয়ন্তীতে জাবিতে দিনব্যাপী নানা আয়োজন

জাবি প্রতিনিধি: দিনব্যাপী নানা আয়োজনে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭৪তম জন্মজয়ন্তীতে পালন করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ।

শোভাযাত্রায় অংশ নেন চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং পরিচালক শহীদুজ্জামান সেলিম, কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ইস্রাফিল আহমেদসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সেলিম আল দীনের সমাধিতে এসে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, স্বপ্নদল, আরশিনগর, ঢাকা থিয়েটার, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, অন্বিতা সেলিম আল দীন বিদ্যাপীঠ, শহীদ টিটু থিয়েটার, বাংলাদেশ পুতুলনাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র, তালুকনগর থিয়েটারসহ বিভিন্ন নাট্য সংগঠন সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং পরিচালক শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, সেলিম আল দীন বাংলা সাহিত্যের একজন চিরস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। বাংলা সাহিত্য যতদিন থাকবে, সাহিত্যের প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে তিনি বেঁচে থাকবেন। তিনি ছিলেন বহুমুখী ক্যারিশমার অধিকারী। তিনি অসময়ে চলে যাওয়ায় বাংলা নাটকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ইস্রাফিল আহমেদ বলেন, ‘সেলিম আল দীনের ৭৪ তম জন্মজয়ন্তীতে আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের এ আয়োজনে আপনারা সবাই আমন্ত্রিত। এ আয়োজনের মাধ্যমে সেলিম আল দীনের নাট্যদর্শন আরো বেশি মানুষের মাঝে পৌছে দিতে পারবো বলে আমাদের বিশ্বাস।’

এছাড়া দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে সকাল নয়টায় পুরাতন কলা ভবনে ‘ওরে ভোলা মন’ নাটকের গান ও নৃত্য পরিবেশন করে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দল জাবি’কে সংবর্ধনা দেয়া হয়৷ দুপুর ১২ টায় ‘বারীণ ঘোষের ক্যামেরায় সেলিম আল দীন’ শীর্ষক প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়। অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্কের সভাপতিত্বে ‘সেলিম আল দীনের কথানাট্য চাকা : মঞ্চে ও চলচ্চিত্রে’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার। আলোচনা উপস্থাপন করেন জাবি অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন কবির। পুরাতন কলা ভবনের সেট ল্যাবে বিকাল তিনটায় চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের জন্ম ১৯৪৯ সালে, ফেনীতে। ১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। নাট্যচর্চার জন্য ঢাকা থিয়েটার প্রতিষ্ঠায়ও তার ভূমিকা ছিল। সারাদেশে নাট্যআন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১-৮২ সালে আরেক নাট্যযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. ক্যাম্পাস
  3. সেলিম আল দীনের জন্মজয়ন্তীতে জাবিতে দিনব্যাপী নানা আয়োজন

সেলিম আল দীনের জন্মজয়ন্তীতে জাবিতে দিনব্যাপী নানা আয়োজন

জাবি প্রতিনিধি: দিনব্যাপী নানা আয়োজনে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭৪তম জন্মজয়ন্তীতে পালন করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ।

শোভাযাত্রায় অংশ নেন চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং পরিচালক শহীদুজ্জামান সেলিম, কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ইস্রাফিল আহমেদসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সেলিম আল দীনের সমাধিতে এসে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, স্বপ্নদল, আরশিনগর, ঢাকা থিয়েটার, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, অন্বিতা সেলিম আল দীন বিদ্যাপীঠ, শহীদ টিটু থিয়েটার, বাংলাদেশ পুতুলনাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র, তালুকনগর থিয়েটারসহ বিভিন্ন নাট্য সংগঠন সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং পরিচালক শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, সেলিম আল দীন বাংলা সাহিত্যের একজন চিরস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। বাংলা সাহিত্য যতদিন থাকবে, সাহিত্যের প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে তিনি বেঁচে থাকবেন। তিনি ছিলেন বহুমুখী ক্যারিশমার অধিকারী। তিনি অসময়ে চলে যাওয়ায় বাংলা নাটকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ইস্রাফিল আহমেদ বলেন, ‘সেলিম আল দীনের ৭৪ তম জন্মজয়ন্তীতে আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের এ আয়োজনে আপনারা সবাই আমন্ত্রিত। এ আয়োজনের মাধ্যমে সেলিম আল দীনের নাট্যদর্শন আরো বেশি মানুষের মাঝে পৌছে দিতে পারবো বলে আমাদের বিশ্বাস।’

এছাড়া দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে সকাল নয়টায় পুরাতন কলা ভবনে ‘ওরে ভোলা মন' নাটকের গান ও নৃত্য পরিবেশন করে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দল জাবি'কে সংবর্ধনা দেয়া হয়৷ দুপুর ১২ টায় 'বারীণ ঘোষের ক্যামেরায় সেলিম আল দীন' শীর্ষক প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়। অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্কের সভাপতিত্বে 'সেলিম আল দীনের কথানাট্য চাকা : মঞ্চে ও চলচ্চিত্রে' প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার। আলোচনা উপস্থাপন করেন জাবি অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন কবির। পুরাতন কলা ভবনের সেট ল্যাবে বিকাল তিনটায় চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের জন্ম ১৯৪৯ সালে, ফেনীতে। ১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। নাট্যচর্চার জন্য ঢাকা থিয়েটার প্রতিষ্ঠায়ও তার ভূমিকা ছিল। সারাদেশে নাট্যআন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১-৮২ সালে আরেক নাট্যযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন