The Rising Campus
News Media

শিক্ষার্থীরা নিয়ে এলো ফুল, ফিরিয়ে দিল পুলিশ

ক্যাম্পাসে অবস্থানরত পুলিশ প্রশাসনকে ক্যাম্পাস থেকে চলে যেতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ফুল নিয়ে আসেন। তবে ফুল না নিয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে রাখেন পুলিশের সদস্যরা।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় লাঠিসোটা ও গান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে অভিবাদন জানাতে এবং তাদেরতে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ যতদিন পদত্যাগ করে ক্যাম্পাস ছাড়বে না ততদিন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এদিন সকাল থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছেন বলে দাবি করেন পুলিশ প্রশাসন।

আন্দোলনরত রবিউল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে পুলিশ প্রশাসসতে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে ফুল নিয়ে আসি। কিন্তু তারা আমাদের ফুল না নিয়ে তা ফিরিয়ে দেন। তবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ভিসি পদত্যাগ করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজবাহার আলী শেখ বলেন, আমরা প্রশাসনের নির্দেশে এখানে শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব পালন করছি। তবে, দায়িত্বশীল জায়গা থেকে আমরা ফুল নিতে পারিনি। আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীদের সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। তারা শান্তি থাকলে আমরাও শান্তিভাবে অবস্থান করবো। তবে, অহেতুকভাবে শিক্ষার্থীদের উপর আমরা চড়াও হতে চাই না।

এর আগে, রোববার (১৬ জানুয়ারি) একইভাবে ফুল নিয়ে পুলিশকে দিতে আসেন শিক্ষার্থীরা। তবে, পুলিশে ফুল না নিয়ে হঠাৎ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ভিসিকে মুক্ত করতে শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ পুলিশ কর্মকর্তারা আহত হয়েছেন বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ হামলায় কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে মেডিক্যালে ভর্তি আছেন বলে জানা যায়।

এর আগে, প্রভোস্টের অসদাচরণের কারণ দেখিয়ে বেগম সিরাজজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজাসহ প্রভোস্ট বডির পদত্যাগ ও তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন হলের শিক্ষার্থীরা। পরের দিন শনিবার সন্ধ্যায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন ৬ গ্রুপের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে এবং এ হামলায় ১০-১২ জন শিক্ষার্থী আহত এবং কয়েকজন ছাত্রী হেনস্তার শিকার হয়েছে বলে জানা যায়।

এরপর রোববার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার এক দফা দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয় শিক্ষার্থীরা। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সোয়া ১১টার দিকে প্রথম ছাত্রী হল, বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, সৈয়দ মুজতবা আলী হলে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এরপর পৌঁনে ৩টা দিকে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা দেওয়া হয়। পরে উপাচার্য বাস ভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা। পরে রাতে ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে প্রতিবাদী কনসার্ট আয়োজন করবে বলে ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কারণ বের করতে ফিজিক্যাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশেদ তালুকদারকে সভাপতি, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেনকে সদস্য সচিব এবং সকল ডিনকে সদস্য করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, ক্যাম্পাসের ভেতরে সংঘটিত দুঃখজনক ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য কর্তৃপক্ষ থেকে যাবতীয় খরচ বহনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে চিকিৎসাজনিত যাবতীয় ব্যয় বহন করবে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় শাবি শিক্ষক সমিতি।

এদিকে আন্দোলনের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সুন্দরভাবে চলছে। এমনভাবে বাংলাদেশে আর কোন ক্যাম্পাস চলছে বলে আমার জানা নেই। আমি মনে করি বহিরাগত কিছু মানুষদের ইন্ধনে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন করছে। আশা করি আমরা আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারবো এবং দ্রুত সময়ে ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম ফিরে যেতে পারবেন বলে আশা করেন উপাচার্য।

সর্বশেষ এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। পাশাপাশি রাতে ‘হীরক ভিসির শেষে’ শিরোনামে একটি প্রতিবাদি কনসার্টের আয়োজন করেন তারা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের এক গ্রুপ ক্যাম্পাসের মূল ফটকে এবং আরেক গ্রুপ ভিসির বাস ভবনের সামনে অবস্থান নেন। একসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রদান ফটকের পুলিশ আসলে মূল ফটকে গেইটে তালা মেরে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সন্ধ্যায় গেইটে জলকামান, রায়টকার এবং পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য উপস্থিত হন। এদিকে জলকামান গেইট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে এজন্য ভেতর থেকে বালুর বস্তা, ইট এবং বাঁশ দিয়ে এক ধরনের দেয়াল তৈরি করেদেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে নয়াবাজার এলাকায় র‌্যাব একটু পর পরই টহল দিচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.