The Rising Campus
News Media
শুক্রবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জবি নীলদলের ওয়েবিনার

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, জবিঃ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীলদলের ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে ‘একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যা: বাঙালি জাতিকে মেধাহীন করার নীল নকশা’ শীর্ষক ওয়েবিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়েবিনারে প্রধান আলোচক ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহীদ কদের চৌধুরী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সূর্য সন্তাননের নীল নকশার মাধ্যমে হত্যা করেছিল পাক বাহিনী ও এদেশীয় দোসররা। তাঁরা দেশকে মেধা শূন্য করতেই এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের একান্ন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি। যার ফলে বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে নানান সময়ে বিভ্রান্ন্তির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।’

এছাড়াও ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবু রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর এর উপাচার্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন।

তিনি বলেন, দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুসহ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদানকে অস্বীকার করার ব্যর্থ চেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখতে হবে এবং এর সঠিক ইতিহাসকে কখনও বিধ্বস্ত করা যাবে না। রাজাকার-আলবদর, যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশের যে কোনো রাষ্ট্রীয় পদে যেন আসীন হতে না পারে। অতীতে এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। এখন যাতে আর এমন না ঘটে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির বিকল্প নেই। এই প্রজন্মের অনেকেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানেনা, তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান জানেনা। দেশের সঠিক ইতিহাস না জানলে কখনোও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠা যায়না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আরও বেশি গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের অবদান সম্পর্কেও সবাইকে জানাতে হবে।’

নীল দলের সভাপতি অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ড. নাফিস আহমদের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান, নীল দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন, শিক্ষক সমিতির সদস্য ড. একেএমএম গোলাম আদম সহ নীলদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. হোম
  2. ক্যাম্পাস
  3. শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জবি নীলদলের ওয়েবিনার

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জবি নীলদলের ওয়েবিনার

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, জবিঃ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীলদলের ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে 'একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যা: বাঙালি জাতিকে মেধাহীন করার নীল নকশা' শীর্ষক ওয়েবিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়েবিনারে প্রধান আলোচক ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহীদ কদের চৌধুরী বলেন, 'মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সূর্য সন্তাননের নীল নকশার মাধ্যমে হত্যা করেছিল পাক বাহিনী ও এদেশীয় দোসররা। তাঁরা দেশকে মেধা শূন্য করতেই এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের একান্ন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি। যার ফলে বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে নানান সময়ে বিভ্রান্ন্তির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।'

এছাড়াও ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবু রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর এর উপাচার্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন।

তিনি বলেন, দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুসহ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদানকে অস্বীকার করার ব্যর্থ চেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখতে হবে এবং এর সঠিক ইতিহাসকে কখনও বিধ্বস্ত করা যাবে না। রাজাকার-আলবদর, যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশের যে কোনো রাষ্ট্রীয় পদে যেন আসীন হতে না পারে। অতীতে এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। এখন যাতে আর এমন না ঘটে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।'

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির বিকল্প নেই। এই প্রজন্মের অনেকেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানেনা, তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান জানেনা। দেশের সঠিক ইতিহাস না জানলে কখনোও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠা যায়না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আরও বেশি গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের অবদান সম্পর্কেও সবাইকে জানাতে হবে।'

নীল দলের সভাপতি অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ড. নাফিস আহমদের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান, নীল দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন, শিক্ষক সমিতির সদস্য ড. একেএমএম গোলাম আদম সহ নীলদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন