মেডিকেলে আবেদন করতে পারছেন না মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি আবেদন শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে আবেদন করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, আবেদন করতে ওয়েবসাইটে গেলে তাদের ‘আবেদনের জন্য যোগ্য নয়’ বলে জানাচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে শোয়েবুর রহমান নামে এক ভর্তিচ্ছু জানান, মাদ্রাসা বোর্ড থেকে যারা পাস করেছে তারা কেউই মেডিকেলে আবেদন করতে পারছে না। আবেদন করতে গেলে ‘আপনি আবেদনের যোগ্য নয়’ লেখা দেখাচ্ছে। এসএসসি ও এইচএসসির একটি অথবা দুইটাই মাদ্রাসা বোর্ড থেকে যারা পাস করেছেন তারা এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষা বোর্ড থেকে যারা পাস করেছে তারা আবেদন করতে পারছে। একই অভিযোগ করেছেন আবদুল্লাহ মাহমুদ নামে আরেকজন ভর্তিচ্ছু।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আহসান হাবিব বলেন, এ ধরনের কোনো সমস্যার কথা এখনো জানি না। তবে বিষয়টি নিয়ে টেলিটকের সাথে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে। এ বিষয়ে জানতে টেলিটক কর্তৃপক্ষকে কল দিলেও ধরেন নি তারা।

আজ থেকে শুরু হওয়া আবেদন চলবে ১০ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আবেদন ফি এক হাজার টাকা। ১১ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত টেলিটকের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে।

মেডিকেল ভর্তি সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। আর ১ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশি নাগরিক যারা বিদেশি শিক্ষা কার্যক্রম থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের সার্টিফিকেট সমতাকরণ করতে হবে। এজন্য দুই হাজার টাকা জমা দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) বরাবর আবেদন করতে হবে।

পূর্ববর্তী বছরের ন্যায় এইচএসসি পাস প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর এবং পূর্ববর্তী বছরের সরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৭ দশমিক ৫ নম্বর কেটে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।

যারা ২০২০ বা ২০২১ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানসহ) উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর এইচএসসি পাসের পূর্ববর্তী তিন বছরের মধ্যে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীরা আবেদনের করতে পারবেন না।

এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ মোট ২০০ নম্বর হিসাবে নির্ধারণ করে মূল্যায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ এর জন্য ৭৫ নম্বর এবং এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএর জন্য ১২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষা ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটির প্রশ্নের মান ১। এমসিকিউ পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টায়। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ১০ নম্বরের (মোট ১০০) প্রশ্ন থাকবে।

এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে। এর কম পেলে অকৃতকার্য বলে বিবেচিত হবে। কেবল কৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মেধাতালিকাসহ ফলাফল প্রকাশ করা হবে।