The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
রবিবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪

মাত্র ১ হাজার টাকায় শুরু: তার খামারে এখন ৪ লাখ টাকার মুরগী!!

বগুড়া শহরের সেউজগাড়ীর একটি ছাত্রাবাসে থেকে আমি পড়ালেখা করতাম। করোনাকালিন সময় বাড়ি চলে এলাম। ঘরবন্দী সময়ে একদিন ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে কিছু শৌখিন মুরগি চোখে পড়ল। সেটা দেখে বেশ ভালো লাগল। সিল্কি জাতের দুটি মুরগি কিনব বলে ভাবছিলাম। কিন্তু কোথায় পাই? খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেল ‘বগুড়া বিজনেস কেয়ার’ নামের বগুড়াভিত্তিক একটি ফেসবুক গ্রুপে।

খুব বেশি টাকা তো হাতে ছিল না। মায়ের দেওয়া এক হাজার টাকায় দুটি দেড় মাস বয়সী মুরগির বাচ্চা কিনে আনি। বাচ্চা দুটি বড় হয়ে ছয় মাসের মাথায় ডিম দেওয়া শুরু করে। ডিম থেকে আবার বাচ্চা ফোটানো হয়। এভাবেই আমার শুরু। এমনটিই বলছিলেন সরকারি আজিজুল হক কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাজ্জাদুল আলম।

শখের বশে করোনাকালে মুরগি পালন শুরু করেছিলেন। এখন তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি পুরোদস্তুর একজন সফল খামারি। এলাকায় ‘শখের মুরগিওয়ালা’ হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। কারণ, এটিই তাঁর ফেসবুক পেজের নাম। গাবতলী শহরের কলেজপাড়ায় গিয়ে ‘মুরগিওয়ালার’ খোঁজ করলে সবাই সাজ্জাদুলের বাড়ি দেখিয়ে দেয়। এতে অবশ্য তিনি মন খারাপ করেন না। বলেন, ‘শখ থেকে শুরু করেছিলাম। এখন আমি নিজেই আয়রোজগার করে ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া ও নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারছি। এটাতেই শান্তি।’

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুরগি ও মুরগির বাচ্চা পৌঁছে দেন সাজ্জাদুল। দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে তাঁর কাছে  আসেন মুরগি কিনতে। ভিনদেশি ১৫টি বিরল জাতের মুরগি আছে সাজ্জাদুলের খামারে—সিল্কি, ফাইটার,  রোসকম্প, ব্রাহামা, কোচিন, বেনতাম, পলিশকেপ, সেব্রাইট, শো-শেরেমা, হোয়াইট ফেস,ফ্রিজেল, ফনিক্স, ইয়োকোহামা, অনাগাদুরি ও সুমাত্রা। মুরগিগুলো নিয়মিত ডিম দেয়। সাজ্জাদুল জানান, সব মিলিয়ে এখন তাঁর খামারে প্রায় চার লাখ টাকার মুরগি আছে।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কলেজ রোডে এই তরুণ উদ্যোক্তার বাড়ি। বাড়ির আশপাশে গেলেই কানে আসে মুরগির ডাক। কাঠ ও লোহার নেট দিয়ে তিনতলা তাক তৈরি করেছেন সাজ্জাদুল। এখানেই মুরগিগুলো থাকে। তাকের প্রতিটি ঘরে জাতভেদে আলাদা মুরগি রাখা। সাজ্জাদুল জানান, দুই মাস আগেও মালয়েশিয়ার তিনটি শো-শেরেমা জাতের মুরগি ৩০ হাজার টাকায় কিনেছেন। এগুলো এখন ডিম দিচ্ছে। ডিম থেকে বাচ্চা তুলে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। প্রতি জোড়া শো-শেরেমা জাতের মুরগির বাচ্চা দুই–তিন হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।

সাজ্জাদুল বলেন, ‘কেউ যদি শখ থেকে এই মুরগি লালন–পালন করতে চান, তাহলে আমার পরামর্শ থাকবে, শুরুতেই সব বড় মুরগি কেনার দরকার নেই। দু–একটি দেশি জাতের মুরগি দিয়ে শুরু করতে পারেন। তারপর বিদেশি জাতের এক জোড়া বাচ্চা কিনতে পারেন। আগে মুরগি পালনের কৌশলগুলো শিখতে হবে, অভ্যস্ত হতে হবে।’ সাজ্জাদুলের পরামর্শ আমলে নিতেই হয়।

সাজ্জাদুল এরই মধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে দুটি পুরস্কার পেয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ২০২২-এ অংশ নিয়ে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন। এবার গাবতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে পোলট্রি ক্যাটাগরিতে জিতেছেন দ্বিতীয় পুরস্কার। সাজ্জাদুল ইসলামের বাবা আবদুল কাইয়ূম তরফদার পেশায় ব্যবসায়ী। ছেলে পড়ালেখার পাশাপাশি আয় করছে দেখে তিনি বেশ আনন্দিত।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. উদ্যোক্তা ও সফলতার গল্প
  3. মাত্র ১ হাজার টাকায় শুরু: তার খামারে এখন ৪ লাখ টাকার মুরগী!!

মাত্র ১ হাজার টাকায় শুরু: তার খামারে এখন ৪ লাখ টাকার মুরগী!!

বগুড়া শহরের সেউজগাড়ীর একটি ছাত্রাবাসে থেকে আমি পড়ালেখা করতাম। করোনাকালিন সময় বাড়ি চলে এলাম। ঘরবন্দী সময়ে একদিন ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে কিছু শৌখিন মুরগি চোখে পড়ল। সেটা দেখে বেশ ভালো লাগল। সিল্কি জাতের দুটি মুরগি কিনব বলে ভাবছিলাম। কিন্তু কোথায় পাই? খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেল ‘বগুড়া বিজনেস কেয়ার’ নামের বগুড়াভিত্তিক একটি ফেসবুক গ্রুপে।

খুব বেশি টাকা তো হাতে ছিল না। মায়ের দেওয়া এক হাজার টাকায় দুটি দেড় মাস বয়সী মুরগির বাচ্চা কিনে আনি। বাচ্চা দুটি বড় হয়ে ছয় মাসের মাথায় ডিম দেওয়া শুরু করে। ডিম থেকে আবার বাচ্চা ফোটানো হয়। এভাবেই আমার শুরু। এমনটিই বলছিলেন সরকারি আজিজুল হক কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাজ্জাদুল আলম।

শখের বশে করোনাকালে মুরগি পালন শুরু করেছিলেন। এখন তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি পুরোদস্তুর একজন সফল খামারি। এলাকায় ‘শখের মুরগিওয়ালা’ হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। কারণ, এটিই তাঁর ফেসবুক পেজের নাম। গাবতলী শহরের কলেজপাড়ায় গিয়ে ‘মুরগিওয়ালার’ খোঁজ করলে সবাই সাজ্জাদুলের বাড়ি দেখিয়ে দেয়। এতে অবশ্য তিনি মন খারাপ করেন না। বলেন, ‘শখ থেকে শুরু করেছিলাম। এখন আমি নিজেই আয়রোজগার করে ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া ও নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারছি। এটাতেই শান্তি।’

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুরগি ও মুরগির বাচ্চা পৌঁছে দেন সাজ্জাদুল। দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে তাঁর কাছে  আসেন মুরগি কিনতে। ভিনদেশি ১৫টি বিরল জাতের মুরগি আছে সাজ্জাদুলের খামারে—সিল্কি, ফাইটার,  রোসকম্প, ব্রাহামা, কোচিন, বেনতাম, পলিশকেপ, সেব্রাইট, শো-শেরেমা, হোয়াইট ফেস,ফ্রিজেল, ফনিক্স, ইয়োকোহামা, অনাগাদুরি ও সুমাত্রা। মুরগিগুলো নিয়মিত ডিম দেয়। সাজ্জাদুল জানান, সব মিলিয়ে এখন তাঁর খামারে প্রায় চার লাখ টাকার মুরগি আছে।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কলেজ রোডে এই তরুণ উদ্যোক্তার বাড়ি। বাড়ির আশপাশে গেলেই কানে আসে মুরগির ডাক। কাঠ ও লোহার নেট দিয়ে তিনতলা তাক তৈরি করেছেন সাজ্জাদুল। এখানেই মুরগিগুলো থাকে। তাকের প্রতিটি ঘরে জাতভেদে আলাদা মুরগি রাখা। সাজ্জাদুল জানান, দুই মাস আগেও মালয়েশিয়ার তিনটি শো-শেরেমা জাতের মুরগি ৩০ হাজার টাকায় কিনেছেন। এগুলো এখন ডিম দিচ্ছে। ডিম থেকে বাচ্চা তুলে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। প্রতি জোড়া শো-শেরেমা জাতের মুরগির বাচ্চা দুই–তিন হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।

সাজ্জাদুল বলেন, ‘কেউ যদি শখ থেকে এই মুরগি লালন–পালন করতে চান, তাহলে আমার পরামর্শ থাকবে, শুরুতেই সব বড় মুরগি কেনার দরকার নেই। দু–একটি দেশি জাতের মুরগি দিয়ে শুরু করতে পারেন। তারপর বিদেশি জাতের এক জোড়া বাচ্চা কিনতে পারেন। আগে মুরগি পালনের কৌশলগুলো শিখতে হবে, অভ্যস্ত হতে হবে।’ সাজ্জাদুলের পরামর্শ আমলে নিতেই হয়।

সাজ্জাদুল এরই মধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে দুটি পুরস্কার পেয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ২০২২-এ অংশ নিয়ে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন। এবার গাবতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে পোলট্রি ক্যাটাগরিতে জিতেছেন দ্বিতীয় পুরস্কার। সাজ্জাদুল ইসলামের বাবা আবদুল কাইয়ূম তরফদার পেশায় ব্যবসায়ী। ছেলে পড়ালেখার পাশাপাশি আয় করছে দেখে তিনি বেশ আনন্দিত।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন