ভর্তি ফি ১ হাজার টাকা কম হচ্ছে, সামনে আরও বাড়বে: ঢাবি ভিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি আবেদন ফি ১ হাজার টাকা শিক্ষার্থীপ্রতি খরচের তুলনা কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেছেন সামনের বছরগুলোতে প্রয়োজনে এ ফি আরও বাড়ানো হবে। ভর্তি ফি নিয়ে শুক্রবার গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন।

ঢাবি ভিসি বলেন, বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীপ্রতি আমাদের খরচ পড়ে প্রায় সাড়ে ১৩শ টাকা। এই টাকা হলে মোটামুটি সংকুলান হয় বলে জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ডিনরা। ফলে এই ১০০০ টাকাও কম। যেটা সবচেয়ে ন্যূনতম সেটা আমরা রাখছি। এর মধ্যে একটা অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় ফি নির্ধারণ করা হয়। ১০০০ টাকার মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ফি ৯৫৬ টাকা ৫০ পয়সা, অনলাইন সার্ভিস চার্জ ৩০ টাকা ও ব্যাংক পেমেন্ট সার্ভিস চার্জ ১৩ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, যারা সমন্বয়কারী থাকবেন তাদের পরামর্শ দিয়েছি। যাতে তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সেক্রিফাইস করে। এমনিতেও আমাদের শিক্ষকরা সবসময় সেক্রিফাইস করেন। উনাদের পরামর্শ দিয়েছি যাতে এবার ২০০-৩০০ টাকা কম রাখেন, সামনে প্রয়োজন হলে সামনের বছরগুলোতে আরও বাড়ানো হবে।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ছিল ৩৫০ টাকা। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১০০ টাকা বাড়িয়ে তা করা হয় ৪৫০ টাকা। এরপর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে আরও ২০০ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৬৫০ টাকা। অবশ্য এ বছর থেকে বিভাগী শহরে ভর্তি নেয়া শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ফি আরও ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বছর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভর্তি আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ প্রাপ্ত জিপিএর যোগফল ৮ থাকতে হবে। গতবছর সেটি ৮ দশমিক ৫ ছিল। তবে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের জিপিএ আলাদাভাবে ৩ দশমিক ৫ থাকার সিদ্ধান্ত আগের নিয়মেই বহাল থাকবে।

মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জিপিএ ৭ দশমিক ৫ এবং আলাদাভাবে ৩ থাকতে হবে। গতবছর ছিল জিপিএ ৮ এবং আলাদাভাবে ৩ দশমিক ৫। এছাড়া চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটে আগে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ প্রাপ্ত জিপিএ’র যোগফল ৭ খাকতে হতো। এবার সেটি কমিয়ে ৬ দশমিক ৫ করা হয়েছে।