The Rising Campus
News Media

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম তাজিনঃ তার মুখোমুখি বসে আমরা আজ শুনবো তারই সাফল্যগাথা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নূর ইসরাত জাহান তাজিন ৪০তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে (সুপারিশপ্রাপ্ত) প্রথম হয়েছেন। তাজিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেছেন। সম্প্রতি তার ক্যাডার হওয়ার গল্প, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নতুনদের পরামর্শ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ।

প্রশ্নঃ আপনার পড়াশোনা সম্পর্কে বলুন-
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: আমি ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়েছি আদমজী গার্লস হাই স্কুলে। এরপর এসএসসি পাস করি সিদ্ধিরগঞ্জ রেবতী মোহন পাইলট হাই স্কুল থেকে। আমি ইন্টারমিডিয়েট, অনার্স ও মাস্টার্স সব দিয়েছি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে। আমার আম্মুও এ কলেজেই পড়তেন।

প্রশ্নঃ আপনার শৈশব কেমন কেটেছে?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: আমার শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে। আমার নানা ভাই আদমজী হাই স্কুলের গণিতের শিক্ষক ছিলেন। আমার জীবনের ভিত গড়েছেন আমার নানা ভাই ও নানু।

প্রশ্নঃ পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল কি?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: না। পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তবে মেডিকেল চান্স না পেয়ে প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। এমনও ভেবেছি যে, আর পড়াশোনাই করব না। এমনকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চেষ্টাও করিনি। ওই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসাটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল।

প্রশ্নঃ বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: আমি যখন কলেজে অনার্সে ভর্তি হই; তখন আমার ডিপার্টমেন্টের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। নতুন করে শুরু করার জন্য এবং মূলত তখন থেকেই বিসিএসের স্বপ্ন দেখা শুরু। আর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রত্যাশা তো ছিলই।

আরো পড়ুনঃ বেরোবি সাংবাদিক সমিতির ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

প্রশ্নঃ বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই, পাশাপাশি প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছেন?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: অনার্স তৃতীয় বর্ষ থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ার কারণে বিসিএসের জন্য সিরিয়াসলি প্রিপারেশন নিতে আমার অনেক দেরি হয়। ৩৮তম প্রিলিমিনারি ফেল করার পর আমি বুঝতে পারি, আমাকে পড়াশোনায় আরও বেশি সময় দিতে হবে। সে সময়ই টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং বাদ দিয়ে বাসায় বসে প্রিপারেশন নেওয়া শুরু করি। ৪০তমের প্রিলিমিনারির আগের ছয় মাস থেকে লিখিত পরীক্ষা পর্যন্ত আমি কেবল তিনটি কাজই করেছি—খাওয়া, ঘুম আর পড়াশোনা।

প্রশ্নঃ পর্দার আড়াল থেকে কেউ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: বিসিএস একটি দীর্ঘ যাত্রা। এ সময় পরিবারের সাপোর্ট খুবই জরুরি। আমার পরিবারের আম্মু-আব্বু, মনি-চাচা, ভাই-বোনরা, বন্ধু-বান্ধব, কলিগ, বিশেষ করে আমার বান্ধবী ডিনু ও আমার স্বামী সব সময় আমার পাশে ছিল।

প্রশ্নঃ নতুনরা বিসিএস প্রিলির জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: নতুনদের বলবো, সবার আগে মাইন্ড সেট করতে হবে। আমি কি সত্যিই সিভিল সার্ভিসে যেতে চাই কি না। কেননা একটা দীর্ঘ সময় ধৈর্য সহকারে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হয়। প্রিলিমিনারির জন্য সিলেবাস ধরে প্রতিটি টপিকের ওপর স্বচ্ছ ধারণা নিতে হবে। নিজের স্ট্রং জোনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া যেসব টপিক থেকে প্রায়ই প্রশ্ন হয়, সেগুলো বারবার পড়তে হবে। যাতে কোনো কনফিউশন না থাকে। কমন প্রশ্নের উত্তর ভুল করা যাবে না। যেহেতু নেগেটিভ মার্ক আছে। বেশি বেশি এমসিকিউ সলভ করতে হবে ও মডেল টেস্ট দিতে হবে।

প্রশ্নঃ প্রিলি শেষ করার পর বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি নিয়ে আপনার পরামর্শ কী?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসের ব্যাপকতা অনেক। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাই যেমন অনেক পড়তে হবে, তেমনই সেগুলো খাতায় যথাযথভাবে উপস্থাপন করার কৌশলও রপ্ত করতে হবে। এ জন্য পয়েন্ট ধরে লেখা, প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা, উক্তি, ম্যাপ, চিত্র, তথ্য-উপাত্ত সংযোজন, দ্রুত ও স্পষ্ট লেখা জরুরি। লিখিত পরীক্ষার নম্বর যেহেতু যোগ হয়, তাই সব প্রশ্নের উত্তর করে আসার মানসিকতা থাকতে হবে। আর অবশ্যই নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে এবং খবর শুনতে হবে।

আরো পড়ুনঃ র‌্যাংকিংয়ে নর্থ সাউথের সমপর্যায়ে আসতে পারায় ঢাবিকে নর্থ সাউথের ভিসির অভিনন্দন: বিতর্কের সৃষ্টি

প্রশ্নঃ বিসিএস ভাইবার প্রস্তুতি কেমন হতে হয়?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: ভাইভার জন্য সামগ্রিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে অন্যের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে জানতে হবে। মার্জিত পোশাক, স্পষ্ট উচ্চারণে সাবলীলভাবে কথা বলা, নম্র আচরণ, সৎ চিন্তা ও যে বিষয় নিয়ে কথা বলবো সে বিষয় নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা—এসব কিছুর সম্মিলনেই একজন প্রার্থী নিজেকে ভাইভার জন্য প্রস্তুত করতে পারে। এ ছাড়া নিজের সম্পর্কে, নিজের পঠিত বিষয়, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, চলমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

প্রশ্নঃ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কঠিন বিষয়ে করণীয় কী?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: আমি বলবো, কঠিন বিষয়গুলো ভয় পেয়ে এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলো সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা রাখা উচিত। এ জন্য কারো সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। তবে কোনো কিছু একেবারেই আয়ত্তে আনতে না পারলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সে ক্ষেত্রে প্রার্থী তার স্ট্রং জোনের ওপর ফোকাস করবে, যাতে তিনি ওই বিষয়গুলোয় সর্বোচ্চ নম্বর পান।

প্রশ্নঃ পুরো প্রস্তুতিতে যেসব বিষয় এড়িয়ে চলা উচিত?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: পুরো প্রস্তুতির সময়টাতে একাগ্রতা জরুরি। ধৈর্যহারা হলে চলবে না। দুদিন খুব পড়লাম তারপর আবার দুদিন পড়লাম না, এমন যেন না হয়। ভালো না লাগলেও পত্রিকা পড়তে হবে, খবর শুনতে হবে। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা পরিহার করতে হবে। মোবাইলে আসক্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। দরকার হলে স্মার্ট ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। সর্বোপরি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। অতি আত্মবিশ্বাসী হওয়া যাবে না। এটা কখনোই ভাবা যাবে না যে, বিসিএস না হলে আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ বিসিএস যাত্রায় সোশ্যাল মিডিয়া কি কোনো ভাবে কাজে এসেছে?
নূর ইসরাত জাহান তাজিন: আমরা এখন ডিজিটাল যুগে বাস করছি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাছে আমাদের যেতেই হয়। আমিও চাকরির প্রস্তুতির বিভিন্ন গ্রুপ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছি। তবে সময়ের দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে, যাতে তা প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত না ঘটায়। সবশেষে এটাই বলবো, আল্লাহর ওপর এবং রিজিকের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। একজন প্রার্থীর কাজ হলো লক্ষ্য ঠিক রেখে, ধৈর্য সহকারে নিয়মিত পড়াশোনা করা ও সুস্থ থাকা। তাহলে সফলতা আসবেই।

আরো পড়ুনঃ নকল রুখতে আজব পদ্ধতি ! অন্তর্বাস, ডিমের খোলা মাথায় পরিয়ে…

তথ্যসূত্রঃ জাগো নিউজ

9
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.