বিসিএস প্রস্তুতি কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের সাক্ষাৎকার, প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম থাকলেও সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে তা নেই। সাধারণ ক্যাডারে আবেদন করলেই যে স্নাতকপঠিত বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হবে না, অথবা প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের সাক্ষাৎকারে স্নাতকপঠিত বিষয় থেকে প্রশ্ন করবেই—এমনটি নয়। তাই ভাইভা বোর্ডে আপনাকে সব বিষয়ের ওপর একটা স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ ধারণা নিয়ে যেতে হবে।

১) আপনার স্নাতকে পঠিত বইগুলো থেকে পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করে যাবেন। আপনার পছন্দ যদি সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার (উদাহরণস্বরূপ পঠিত বিষয়—হিসাববিজ্ঞান) হয়, তাহলে শিক্ষা ক্যাডার কেন একমাত্র পছন্দ, জাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষা কমিশন, শিক্ষা ক্যাডারের পদায়ন ও পদসোপান–সম্পর্কিত তথ্য, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা ও সম্ভাবনা, শিক্ষা খাতে সরকারের অর্জন ও পরিকল্পনা, হিসাববিজ্ঞানের জনক, সুনাম মূল্যায়ন পদ্ধতি, অবচয়সংক্রান্ত ধারণা, সম্পত্তি ও দায় ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে পড়াশোনা করতে হবে। আবার আপনার পছন্দ স্বাস্থ্য ক্যাডার হলে, একজন জরুরি রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমিত রিসোর্স দিয়ে কীভাবে চিকিৎসাসেবা দেবেন, কোন রোগে কী কী ওষুধ দেবেন, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি, জরুরি চিকিৎসা ও সিস্টেমভিত্তিক সাধারণ বিষয়, কোভিড–সংক্রান্ত বিষয়াবলি থেকে প্রশ্ন করা হতে পারে। আপনার পছন্দ কৃষি ক্যাডার হলে, ধান ও বিভিন্ন ফসলের জাত, জাতগুলোর মধ্যে পার্থক্য, ফসলের রোগ ও এর প্রতিকার, বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়, খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি, জেলাভিত্তিক বিখ্যাত ফসল, প্রখ্যাত কৃষিবিদ, কৃষি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও অর্জন ইত্যাদি বিষয়–সম্পর্কিত প্রশ্ন করা হতে পারে। আপনার পছন্দ পশুসম্পদ ক্যাডার হলে, আপনার করা গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও এর ফলাফল, বিভিন্ন ধরনের পশুরোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি, বিভিন্ন ধরনের রোগ (যেমন জলাতঙ্ক, অ্যানথ্রাক্স ইত্যাদি), মাংস আমদানি–রপ্তানিসংক্রান্ত তথ্য, গত পাঁচ বছরের দুধ-মাংস-ডিমের চাহিদা, উৎপাদন ও ঘাটতি, কোন প্রাণীর তাপমাত্রা ও পালস রেইট কত, ইনকিউবেশন পিরিয়ড, প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প ও অর্জন সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হতে পারে। আপনার পঠিত বিষয় সম্পর্কে কোনো ধরনের অজ্ঞতা, ভাইভা বোর্ডে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দিতে পারে।

২) সাধারণ বা উভয় ক্যাডারের মতো প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের সাক্ষাৎকারেও প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান–সম্পর্কিত তথ্য, নিজ জেলা–সম্পর্কিত তথ্য (যেমন জেলার নামকরণের ইতিহাস, বিখ্যাত ব্যক্তি, দর্শনীয় স্থান ইত্যাদি) থেকে প্রশ্ন করা হতে পারে। সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতির প্রথম থেকেই ওপরের তথ্যগুলো নোট বইয়ে টুকে রাখতে হয়, যেন সাক্ষাৎকারের আগের দিন সেগুলো একপলক দেখে নেওয়া যায়।

৩) যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকরির সাক্ষাৎকারে সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সাম্প্রতিক তথ্য প্রভৃতি সাধারণ জ্ঞান যাচাই করা খুব সাধারণ বিষয়। প্রজাতন্ত্রের একজন সম্ভাব্য কর্মকর্তা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধসংশ্লিষ্ট তথ্য (যেমন বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, অপারেশন সার্চলাইট, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুজিবনগর সরকার ইত্যাদি) সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর জীবন ও সংগ্রাম, স্বাধীনতাসংগ্রামে তাঁর অবদান, তাঁর লিখিত বই–সম্পর্কিত তথ্য থেকেও আপনাকে প্রশ্ন করা হতে পারে। এ ছাড়া সংবিধান, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা (যেমন অমিক্রন) সম্পর্কে আপডেট থাকতে হবে। শুভকামনা রইল।