The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
শনিবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে School of Earth & Environment এর উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৩ উপলক্ষে School of Earth & Environment-SEE এর উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালীর দুমকি নাসিমা কেরামত আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রীদের নিয়ে School Of Earth & Environment-SEE এর উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আফিয়া তাহমিন জাহিন এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফারদিন হাসানের দিকনির্দেশনা, পরিশ্রম এবং আগ্রহে সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের অধ্যবসায় এবং নিরলস প্রচেষ্টায় একটি ফলপ্রসু ও গঠনমূলক আলোচনা সভার সফল আয়োজন হয় বলে সংগঠনটি জানিয়েছেন।

School of Earth & Environment কর্তৃপক্ষ জানান, এই আয়োজনের মূল বিষয়বস্তু ছিল যথাক্রমে-

১.পরিবেশ দূষণ সম্পর্কিত একটি ছোট গল্প উপস্থাপন। মূলত কিশোরীদের প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করার জন্য অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন সংগঠনের সদস্যরা। যখন তারা জানতে পারে এধরণের আয়োজন হবে তখন তাদের পক্ষ থেকেই গল্পের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণের ব্যাপারটা ফুটিয়ে তোলার ধারণা প্রদান করা হয়। যার নেপথ্যে ছিল পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ২১-২২ সেশনের ছাত্রীরা।

২.পরিবেশ দিবসের সূচনা, পরিবেশ দিবস কেন উৎযাপিত হয়, আমাদের জীবনে পরিবেশের তাৎপর্য সম্পর্কে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সামনে কথা বলেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ২০-২১ এবং ২১-২২ সেশনের ছাত্রীরা। তাদের বাস্তবমুখী, তথ্য নির্ভর এবং অনুসন্ধানী আলোচনা থেকে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পরিবেশগত দূষণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা জন্মাবে। যা তাদের আগামী জীবনে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে।

৩. এ পর্যায়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার কেন ক্ষতিকর, এটি কিভাবে আমাদের পরিবেশ ধ্বংস করছে, কিভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনা যায় এ বিষয়ে কথা হয়। ছাত্রীদের মতামত গ্রহণ করা হয়। কিভাবে প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহার করা যায়, ব্যবহার করা প্লাস্টিক রিসাইকেল করা যায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

৪. আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়। কুইজে বিজয়ী হন দশম শ্রেণির ছাত্রী নীলিমা।

৫. এ পর্যায়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। পুরস্কার বিতরণ শেষে তিনি ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “অনেক সংগঠন আমাদের বিদ্যালয়ে আসে, কিন্তু বাচ্চাদের চিন্তায় প্রভাব ফেলতে পারে না। আপনাদের কর্মকাণ্ড বাস্তবমুখী এবং কল্যাণকর বলেই বাচ্চাদের চিন্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পেরেছে। আপনাদের এবং আপনাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।”

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক প্রদানের মাধ্যমে। সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আফিয়া তাহমিন জাহিন।

এ বিষয়ে আফিয়া তাহমিন জাহিন বলেন, “পরিবেশ দিবস কথাটি শুনে আমরা অভ্যস্ত কিন্তু এর যাত্রা, উদ্দেশ্য এবং আমাদের করণীয় সম্পর্কে আমরা উদাসীন! প্রতিদিন অজ্ঞতাবশত আমাদের সংক্ষিপ্ত এবং ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড পরিবেশ এবং প্রকৃতিকে অসুস্থ করে তুলছে। যেদিন প্রকৃতি এই অসুস্থতার সাথে লড়াইয়ে হেরে যাবে সেদিন মানব সভ্যতার বিপর্যয় হবে”; আফিয়া তাহমিন জাহিন বলেন। অভ্যাস গড়ে তোলার আদর্শ বয়স এদের। এ বয়সে যে বিষয়গুলো তারা মানবে জীবনের কঠিন মূহুর্তেও তাদের এ অভ্যাস টিকে থাকবে। আজ যদি পরিবেশ বিষয় সম্পর্কে এদের সচেতন করা যায়, পরিবেশের প্রতি যত্নশীল করতে পারি তবে আগামীর পরিবেশ হবে সুস্থ, যেখানে আমি আপনি প্রাণ খুলে বাঁচব। আমাদের সন্তানের জন্য নিশ্চিত করা যাবে মুক্ত বায়ু, নিরাপদ জল এবং দূষণমুক্ত মাটি। তাই আমার এবং আমাদের কাজে প্রাধান্য পাই বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।”

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. জাতীয়
  3. বিশ্ব পরিবেশ দিবসে School of Earth & Environment এর উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে School of Earth & Environment এর উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৩ উপলক্ষে School of Earth & Environment-SEE এর উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালীর দুমকি নাসিমা কেরামত আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রীদের নিয়ে School Of Earth & Environment-SEE এর উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আফিয়া তাহমিন জাহিন এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফারদিন হাসানের দিকনির্দেশনা, পরিশ্রম এবং আগ্রহে সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের অধ্যবসায় এবং নিরলস প্রচেষ্টায় একটি ফলপ্রসু ও গঠনমূলক আলোচনা সভার সফল আয়োজন হয় বলে সংগঠনটি জানিয়েছেন।

School of Earth & Environment কর্তৃপক্ষ জানান, এই আয়োজনের মূল বিষয়বস্তু ছিল যথাক্রমে-

১.পরিবেশ দূষণ সম্পর্কিত একটি ছোট গল্প উপস্থাপন। মূলত কিশোরীদের প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করার জন্য অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন সংগঠনের সদস্যরা। যখন তারা জানতে পারে এধরণের আয়োজন হবে তখন তাদের পক্ষ থেকেই গল্পের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণের ব্যাপারটা ফুটিয়ে তোলার ধারণা প্রদান করা হয়। যার নেপথ্যে ছিল পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ২১-২২ সেশনের ছাত্রীরা।

২.পরিবেশ দিবসের সূচনা, পরিবেশ দিবস কেন উৎযাপিত হয়, আমাদের জীবনে পরিবেশের তাৎপর্য সম্পর্কে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সামনে কথা বলেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ২০-২১ এবং ২১-২২ সেশনের ছাত্রীরা। তাদের বাস্তবমুখী, তথ্য নির্ভর এবং অনুসন্ধানী আলোচনা থেকে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পরিবেশগত দূষণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা জন্মাবে। যা তাদের আগামী জীবনে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে।

৩. এ পর্যায়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার কেন ক্ষতিকর, এটি কিভাবে আমাদের পরিবেশ ধ্বংস করছে, কিভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনা যায় এ বিষয়ে কথা হয়। ছাত্রীদের মতামত গ্রহণ করা হয়। কিভাবে প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহার করা যায়, ব্যবহার করা প্লাস্টিক রিসাইকেল করা যায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

৪. আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়। কুইজে বিজয়ী হন দশম শ্রেণির ছাত্রী নীলিমা।

৫. এ পর্যায়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। পুরস্কার বিতরণ শেষে তিনি ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "অনেক সংগঠন আমাদের বিদ্যালয়ে আসে, কিন্তু বাচ্চাদের চিন্তায় প্রভাব ফেলতে পারে না। আপনাদের কর্মকাণ্ড বাস্তবমুখী এবং কল্যাণকর বলেই বাচ্চাদের চিন্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পেরেছে। আপনাদের এবং আপনাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।"

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক প্রদানের মাধ্যমে। সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আফিয়া তাহমিন জাহিন।

এ বিষয়ে আফিয়া তাহমিন জাহিন বলেন, "পরিবেশ দিবস কথাটি শুনে আমরা অভ্যস্ত কিন্তু এর যাত্রা, উদ্দেশ্য এবং আমাদের করণীয় সম্পর্কে আমরা উদাসীন! প্রতিদিন অজ্ঞতাবশত আমাদের সংক্ষিপ্ত এবং ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড পরিবেশ এবং প্রকৃতিকে অসুস্থ করে তুলছে। যেদিন প্রকৃতি এই অসুস্থতার সাথে লড়াইয়ে হেরে যাবে সেদিন মানব সভ্যতার বিপর্যয় হবে"; আফিয়া তাহমিন জাহিন বলেন। অভ্যাস গড়ে তোলার আদর্শ বয়স এদের। এ বয়সে যে বিষয়গুলো তারা মানবে জীবনের কঠিন মূহুর্তেও তাদের এ অভ্যাস টিকে থাকবে। আজ যদি পরিবেশ বিষয় সম্পর্কে এদের সচেতন করা যায়, পরিবেশের প্রতি যত্নশীল করতে পারি তবে আগামীর পরিবেশ হবে সুস্থ, যেখানে আমি আপনি প্রাণ খুলে বাঁচব। আমাদের সন্তানের জন্য নিশ্চিত করা যাবে মুক্ত বায়ু, নিরাপদ জল এবং দূষণমুক্ত মাটি। তাই আমার এবং আমাদের কাজে প্রাধান্য পাই বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।"

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন