ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ১ বৈশাখ ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আয়োজনে সেমিনার অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আয়োজনে সেমিনার অনুষ্ঠিত

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (ব্র্যাক আইইডি) এর আয়োজনে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, রোববার বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারটি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

"আশা, প্রশান্তি এবং পদক্ষেপ বিষয়ক আলাপন' শীর্ষক এই সেমিনারে সমাজে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর সাথে জড়িত সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে সকলের সম্মলিত প্রচেষ্টাকে একত্রিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এই সেমিনার আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল, সমাজে যারা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা৷

সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. একিউএম শফিউল আজম, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের রিসার্চ লিড ও প্রোগ্রাম হেড সমীর রঞ্জন নাথ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি’র উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মাহমুদুর রহমান, বরেণ্য অভিনয়শিল্পী, পরিচালক, উদ্যোক্তা এবং সমাজকর্মী সারা যাকের এবং ব্র্যাক আইইডি’র মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা টিম লিড ও সহকারি অধ্যাপক ড. তাবাসসুম আমিনা।

ড. তাবাসসুম আমিনা বলেন, ‘‘ব্র্যাক আইইডি’র এমএইচপিএসএস উদ্যোগের মূলনীতি হলো সমাজের সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করা যা প্রমাণভিত্তিক ও আমাদের সংস্কৃতির সাথে প্রাসঙ্গিক এবং যার লক্ষ্য হলো দেশ ও বিশ্বের মানুষের সেবা করা ও তাদের ক্ষমতায়িত করা। আমাদের ৪৫ জনের ও বেশি মনোবিজ্ঞানী ও ৭০০'র ও বেশি প্যারাকাউন্সেলর দেশের বিভিন্ন জায়গাসহ মানবিক প্রেক্ষাপটে এ সকল উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।’’

ব্র্যাক আইইডি’র রিসার্চ লিড ও প্রোগ্রাম হেড সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, “একজন মা যখন গর্ভধারণ করেন তখন থেকে শিশুর জন্ম ও বেড়ে উঠা প্রত্যেকটি ধাপে শিশুর জন্য যদি আমরা একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে চাই তাহলে শিশুকে ঘিরে যে বাস্তুসংস্থান রয়েছে সেখানে শিশুর মা-বাবা, অভিভাবক, বিদ্যালয়, সমাজ, সম্প্রদায় ও রাষ্ট্র সকলের প্রচেষ্টায় কাজ করতে হবে যাতে করে শিশু সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে উঠে এবং শিশুর সামাজিক আবেগিক বিকাশ নিশ্চিত হয় যার ফলে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা নিশ্চিত হবে।”

মাউসি’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. একিউএম শফিউল আজম বলেন, “আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা পেশাগত দিক থেকে অনেক হতাশায় ভুগে থাকেন। এই হতাশাগুলোই পরবর্তীতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। এই পেশাগত হতাশা দূরীকরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার শিশুকাল থেকে শিশুদের জীবন দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এমন একটি শিক্ষাক্রমকে শিশুদের কাছে পরিচিত করার চেষ্টা করেছেন যেখানে তারা সব বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাদের আগ্রহের বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে পারবে।”

সারা যাকের বলেন, “মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের তাদের নিজের জীবনের হতাশার ঘটনাগুলো মিডিয়াতে আরও বেশি করে শেয়ার করতে হবে এবং এর পাশাপাশি এই হতাশা থেকে তারা কী প্রক্রিয়ায় বের হয়ে আসতে পেরেছিলেন সেগুলো আরও বেশি গণমাধ্যমে প্রচার করতে হবে, যাতে করে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী হয় এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের দিক নির্দেশনা পায়।”

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা একটি বহুমুখী প্রচেষ্টার উপর জোর দেন যা ব্যক্তি, সমাজ এবং জনসংখ্যাসহ বহুস্তরে কাজ করে। সমন্বিত এই প্রচেষ্টাই ছিল সেমিনারের মূল প্রস্তাবনা৷ বাংলাদেশের আত্নহত্যার ঝুঁকির কারণসমূহকে বোঝা ও কিশোর এবং তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিশেষায়িত মানসিক সচেতনতা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ ব্র্যাক ও এর অঙ্গসংগঠনসমূহ আগামী বছরগুলোর জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে বেশ কিছু দূরদর্শী কৌশলগত অগ্রাধিকারের রূপরেখা নির্ধারণ করেছে। এই অগ্রাধিকারসমূহ সমাজে বিদ্যমান মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং সেবাসমূহ কীভাবে ব্যক্তি ও সম্প্রদায় নতুন চ্যালেঞ্জসমূহের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং সাড়া দিতে পারে তা নিশ্চিত করবে।

ব্র্যাক আইইডি’র লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য এমন একটি সহমর্মিতাপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া যেখানে মানুষ মানুষের পাশে থাকবেন। এই সেমিনারের মাধ্যমে ব্র্যাক আইইডি’র এই দর্শন সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকবৃন্দ।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মামলা প্রত্যাহার সহ ৪ দাবিতে চবিতে অবস্থান, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৮:৩৯
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    মামলা প্রত্যাহার সহ ৪ দাবিতে চবিতে অবস্থান, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

    চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাটল ট্রেন দুর্ঘটনার পর ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি সহ ৪ দফা দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির পর উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।

    রোববার( ১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় উপাচার্য বরাবর দেয়া স্বারকলিপি গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুরুল আজিম সিকদার।

    শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি, সাধারন শিক্ষার্থীদের নামে দেওয়া অজ্ঞাতনামা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, আহত শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ সুস্থতার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে, শাটল ট্রেনে সকলের সিট নিশ্চিত, ফিটনেস বিহীন বগি ও ইঞ্জিন সংস্করণ এবং ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করতে হবে এবং চবি মেডিকেলে অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং পর্যাপ্ত মেডিসিন ও পরিবহন বৃদ্ধি করতে হবে।

    এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুরুল আজিম সিকদার বলেন, শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে এবং স্মারকলিপি দিয়েছে। মামলা প্রত্যাহারের যে বিষয়টি তারা বলছে সেখানে এব্যাপারে কোন নিরপরাধ ছেলে শাস্তি যেন না পায় এটা আমরা নিশ্চিত করবো। আর বাকি বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তীতে জানানো হবে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে শাটল ট্রেন দুর্ঘটনার পর ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১ হাজার জনকে আসামি করে হাটহাজারি থানায় দুটি মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাদের এ অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ইবিতে ফের নবীন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং; তদন্ত কমিটি গঠন

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৭:২৩
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ইবিতে ফের নবীন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিং; তদন্ত কমিটি গঠন

      নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) তাহমিন ওসমান নামে এক নবীন শিক্ষার্থীকে ফের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। তামিম ২০২২-২৩ (স্নাতক) প্রথম বর্ষের হিউমান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আলীবদ্দীন খানকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

      তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন,ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শেলিনা নাসরিন, আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আনিচুর রহমান ও ফিনান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক মিথুন বৈরাগী। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।

      এর আগে আজ (রবিবার) সকালে ভুক্তভোগী তার বাবাকে সাথে নিয়ে রেজিস্ট্রার, ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টর ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা শওকত খান।

      অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের পর ২০২১-২২ সেশনের কিছু সিনিয়র ছাত্র ভুক্তভোগীকে র‍্যাগিং করেন এবং চরম খারাপ ব্যবহার করেন। এদিন ভুক্তভোগীকে দেড়টার দিকে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের পর জিমনেশিয়ামের পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় পরিচয় কীভাবে দিতে হয় তা শেখানো শুরু করে। অভিযুক্তরা তার হাত-পা সোজা রাখতে বলেন। কিন্তু ভুক্তভোগীর হাত একটু মুঠ করায় অভিযুক্তরা বলেন, ‘তোর কী আমাদেরকে থাপড়াইতে ইচ্ছে করছে তাই না? তোর খুব জিদ উঠছে তাই তো?’ এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী সরি বললে তারা পাল্টা বলেন, ‘সরি বলিস কেন? তুই কী ভুল করেছিস বল? আমাদেরকে ভয় করবি কেন? আমরা কী ভূত ? বল আমরা ভূত?’

      সেইদিন পরিচয় গ্রহণ শেষে ভুক্তভোগীকে অভিযুক্ত শুভ বলেন, ‘ঠিক সন্ধ্যা ৭ টায় এই স্থানেই আসবি, না আসলে আলাদা রুমে ডেকে নিয়ে যাবো।’ ওইদিন ভুক্তভোগী সন্ধ্যায় হাজির হন এবং সিনিয়ররা তাকে সাদ্দাম হোসেন হলের বিপরীতে নিয়ে বসেন। এ সময় পূনরায় পরিচয় দিতে বললে সে পরিচয় দেওয়া শুরু করে। এসময় ভুক্তভোগী সবার দিকে তাকিয়ে সালাম দিতে না পারায় অভিযুক্ত মিজানুর ইমন তাকে বলেন, ‘তুই শুধু ওদের দিকে তাকিয়েই সালাম দিলি, আমাদের দিকে তাকালি না। এর মানে শুধু ওরাই তোদের বড়ভাই আর আমরা তো তোর.... (প্রকাশে অযোগ্য) ভাই।’

      তখন আরেক অভিযুক্ত আকিব তাকে বলেন, ‘তুই তো আমাদের বড় ভাই তাই না? আমাদের সালাম দেওয়া লাগবে না।’ এমতাবস্থায় অভিযুক্তদের মধ্যে কোনো একজন চলে যাচ্ছিলেন যা ভুক্তভোগীর দৃষ্টিতে আসেনি। এসময় উপস্থিত অভিযুক্ত শুভ তাকে বলেন, ‘ওই দেখ তোর বড় ভাই চলে যাচ্ছে, তাকে সালাম দিলি না কেন? সে তো রাগ করেছে। এখন যা ওকে গিয়ে কনভিন্স কর যা। কীভাবে করবি তোর ব্যাপার।’ তখন ভুক্তভোগী তাদের এই কথা না শোনায় অভিযুক্ত মিজানুর ইমন তাকে বলেন, ‘তুই বলবি যে তুই একটা.....(প্রকাশে অযোগ্য)।’ সে অনুরুপ তাই করলো । এবার ওই অভিযুক্ত বলেন, ‘এমন ভাবে নিজেকে.... (প্রকাশে অযোগ্য) বল যেন তুই উল্লাস করছিস।’ সে তাই করলো। এবার আরেক অভিযুক্ত পুলক তাকে বলেন, ‘তুই বলবি যে তুই একটা.... (প্রকাশে অযোগ্য), অনুরূপভাবে ৩ বার বলবি।’ এগুলো করার পর অভিযুক্ত মিজানুর ইমন তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোর কী....(প্রকাশে অযোগ্য) আছে?’ ভুক্তভোগী কোনো জবাব দেয়নি। এবার ওই অভিযুক্ত বলেন, ‘....(প্রকাশে অযোগ্য) মানে কী বল।’ সে (ভুক্তভোগী) গাম্ভীর্য অবলম্বন করেন। এতে ওই অভিযুক্ত রেগে গিয়ে তাকে বলেন, ‘তুই কি মুখে.....(প্রকাশে অযোগ্য) ঠুসে রেখেছিস? কথা বলিস না কেন?.....(প্রকাশে অযোগ্য) মুখে ঠুসে রেখেছিস। তুই ১০ রকমের হাসি দিবি, নাম সহ। ভুক্তভোগী এরুপ করতে অসম্মতি জানাই। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাকে আটকে রাখেন তারা।

      ওইদিন দুপুরে তাকে যখন র‍্যাগ দেওয়া হচ্ছিল, তখন ক্যাম্পাসে মাইকিং হচ্ছিল, ‘র‍্যাগিং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে’। একথা শুনে সে হেসে দেওয়ায় অভিযুক্তরা তাকে বলেন, ‘আমাদেরকে হাস্যকর মনে হয় তোর? অনেক বন্ধুসূলভ আচরণ করে ফেলেছি তাই তো? তুই তো আমাদের বড় ভাই।’

      অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়, গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩ টায় হিউমান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ক্রিকেট ম্যাচ ছিল। ওইদিন ভুক্তভোগী যেতে দেরি করেন। খেলা শেষে অভিযুক্ত শুভ ও সাকিব তাকে জিমনেশিয়ামের সামনে নিয়ে যান এবং জিজ্ঞেস করেন, ‘কেন দেরী করেছি।’ সে বলেন, ‘আমি ক্লান্ত ছিলাম।’ প্রত্যুত্তরে অভিযুক্ত শুভ বলেন, ‘আমরাও তো সকালে না খেয়ে খেলাধুলা করে তোকে নিয়ে বসলাম, আমাদের কী ক্লান্ত লাগে না? তোর আসতে এত অসুবিধা কেন? বেশ ভালো ব্যবহার করে ফেলেছি ? আমাদের সাথে আমাদের বড়ভাইরা যা করেছিলো, তোর ওপরও সেরকম করতে বাধ্য করিস না।’ ওইদিন ভুক্তভোগী মাগরিব-এর পর অভিযুক্তদের সাথে আর দেখা করেন নি।

      গত ৫ সেপ্টেম্বর ক্লাস শেষে ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় জিমনেশিয়ামের পাশে। এসময় ভুক্তভোগী কেন অভিযুক্তদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেয় নি এজন্য তাকে বকা দেওয়া হয়।

      অভিযুক্তরা বলেন, ‘যদি আমাদের কথা না মানিস, তোকে ব্যাচ-আউট করে দেওয়া হবে। ব্যাচ-আউট কী বুঝিস? তুই এইচআরএম বিভাগের ছাত্র হিসেবে কোনো সুযোগ সুবিধা পাবি না। সবাই বলে বেড়াবে যে তুই ব্যাচ-আউট স্টুডেন্ট । আর আমাদের মধ্যে কাউকে চিনিস? আমাদের অনেকেই অনেক উঁচু পজিশনে আছে। তাদের ক্ষমতা জানিস?’ তারা এগারোটা হতে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত ভুক্তভোগীকে এসকল কথার মাধ্যমে হয়রানি করেন। এসময় ভুক্তভোগী মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলেন, ‘আমার দুপুর ৩ টায় ট্রেন আছে।’ এটা বলে কোনোরকম মুক্তি নিয়ে ফিরে আসেন ওই ভুক্তভোগী।

      তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনেই এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। রবিবার প্রক্টর ও এন্টি র‍্যাগিং ভিজিলেন্স কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

      তিনি বলেন, আমি ওই শিক্ষার্থীর বিভাগের সভাপতির নিকট পত্র প্রেরণ করেছি। যাতে করে তার ক্লাস-পরীক্ষায় সভাপতিসহ ওই বিভাগের শিক্ষকগণ তার দেখভাল করেন। সহকারী প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে শিক্ষার্থীর সার্বিক নিরাপত্তার জন্য খোঁজ খবর রাখতে নির্দেশনা দিয়েছি। ইবি থানার ওসিকে পত্র প্রেরণ করেছি যাতে তার নিরাপত্তার বিষয়টি দেখে। এছাড়া ওই শিক্ষার্থীর বাবা তার সন্তানের নিরাপত্তার জন্য হলে একটি সিটের বিষয়ে বলেছিলো ফলে আমরা হল প্রভোস্টকে পত্র প্রেরণ করেছি। হল প্রভোস্ট মিটিং করে আগামীকাল ওই ছেলেকে হলে তোলার কথা রয়েছে।

      তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ডিন প্রফেসর সাইফুল ইসলাম বলেন, চিঠিটা আমি এখনো পাইনি। রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে জেনেছি। চিঠিটি হাতে পাওয়ার পর আগামীকাল থেকে আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করবো।

      এ বিষয়ে জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসানকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায় নি।

      উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাহমিন ওসমানের বাবা তার সন্তানকে র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি উল্লেখপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান বরাবর মেইল করেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ছাত্রলীগ নেতাদের পেটানো এডিসি হারুন প্রত্যাহার

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৫:৪৩
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ছাত্রলীগ নেতাদের পেটানো এডিসি হারুন প্রত্যাহার

        থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে পেটানোর ঘটনায় পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

        রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন ডিবিসি নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এডিসি হারুনকে রমনা জোন থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) শাখায় বদলি করা হবে।

        অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

        ভুক্তভোগী দুজন হলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ মুনিম এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈম।

        এর আগে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নারী ঘটিত একটি ঘটনা জেরে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে  শাহবাগ থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন এডিসি হারুন।

        শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নারীঘটিত একটি ঘটনার জেরে শাহবাগ থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে তাদের মারধর করা হয়। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার জেরে রাতে শাহবাগ থানার সামনে ভিড় করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে মধ্যরাতে থানায় গিয়ে ঘটনার মীমাংসা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশের কর্মকর্তারা।

        ঢাবি ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র জানায়, শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আরেক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বারডেম হাসপাতালে আড্ডা দিচ্ছিলেন এডিসি হারুন। ওই সময় নারী কর্মকর্তার স্বামী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। নারী কর্মকর্তার স্বামীও একজন সরকারি কর্মকর্তা। তার সঙ্গে এডিসি হারুনের বাগবিতণ্ডা হয়।

        পরে দুই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাকে শাহবাগ থানায় তুলে আনেন এডিসি হারুন। সেখানে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এরপর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়লে ওই দুইজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

         

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          দুর্ঘটনার পর আজ বিকেল থেকে চলবে চবির শাটল ট্রেন

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৫:৬
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          দুর্ঘটনার পর আজ বিকেল থেকে চলবে চবির শাটল ট্রেন

          বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাটল ট্রেন বিকেল থেকে স্বাভাবিক নিয়মেই চলাচল করবে। রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

          বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রোকন উদ্দিন বলেন, আমরা রেলওয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছি, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী বিকেল ২টা ৫০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন বটতলী স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে। লোকোমাস্টাররা (ট্রেনচালক) তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

          এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর শাটল ট্রেনের ছাদে গাছের আঘাতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রেনের লোকোমাস্টারদের মারধর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে ট্রেন স্টেশনে রেখেই দুই লোকোমাস্টার ও গার্ড পালিয়ে যান। এরপর থেকেই মূলত নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন লোকোমাস্টাররা।

          ঘটনার পর থেকে রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ শাটল ট্রেন চালু করতে পারেনি। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোনো ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে শহর ছেড়ে যায়নি। যদিও আগের দিন শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন ও অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

          শাটল চলাচল না করায় ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এ সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে ৮টি বাসের ব্যবস্থা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার সকাল ৯টায় নগরীর বটতলী থেকে ৩টি ও ষোলশহর থেকে ৫টি বাস শিক্ষার্থীদের বহন করে।

          রেলওয়ের কর্মচারীদের দেওয়া ছয়টি শর্ত হলো— ১) পাহাড়তলী থেকে প্রতিটি ইঞ্জিন সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশের (জিআরবি) কমপক্ষে চারজন সদস্য দিতে হবে;

          ২) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে কর্মচারীদের প্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন মিলে বৈঠক করতে হবে। ওই বৈঠকে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে হবে;

          ৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা;

          ৪) ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে শিক্ষার্থী উঠলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে;

          ৫) ছাত্রদের সচেতনতা বাড়াতে শ্রেণিকক্ষে কাউন্সেলিং করতে হবে এবং

          ৬) গত বৃহস্পতিবার লোকমাস্টারদের লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

          প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ট্রেন দুর্ঘটনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন এবং অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ভাঙচুরের ঘটনায় শনিবার রাত ৮টায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে দুটি মামলা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে প্রায় নয় শতাধিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কেএম নূর আহমেদ এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত