The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
শনিবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪

বাংলাদেশে কাজী নজরুল ইসলামের আগমনের ৫১ বছর পূর্তি পালন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ কবি নজরুল ১২৪ তম জন্ম জয়ন্তী ও কবির বাংলাদেশে আগমনের ৫১ তম বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তীতে চার গুণী ব্যাক্তিকে নজরুল পদক- ২০২৩ প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ মে) গাহি সাম্যের গান মঞ্চে ‘বঙ্গন্ধুর বাংলাদেশে নজরুল’ শীর্ষক সেমিনারে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন।

নজরুল পদক প্রাপ্ত গুণী চারজন হলেন- নজরুল সংগীতে সঙ্গীত শিল্পী নীলুফার ইয়াসমিন (মরণোত্তর), কবি কাজী নজরুল ইসলাম দৌহিত্রী খিলখিল কাজী, নজরুল স্মৃতি সংরক্ষণ ও প্রচারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ ও নজরুল গবেষণায় আমেরিকান নজরুল গবেষক উইনস্টন ই. ল্যাংলি।
এসময় জাতীয় কবির দৌহিত্রী খিলখিল কাজী ও অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ স্বশরীরে উপস্থিত থেকে পদক ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। বিজয়ীদের হাতে পদক ও পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী ও উপাচার্যসহ অন্যরা।

পদকপ্রাপ্ত খিলখিল কাজী বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আমরা যেমন অনেক কাজ করছি তেমনি তাঁর অনেক কাজ এখনো বাকী রয়ে গেছে। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলার মধ্যে বেঁধে রাখার কবি নন।এখন সময় এসেছে কবি নজরুলের বিদ্রোহীসহ অন্যান্য কবিতাগুলো অনুবাদের মধ্যদিয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে হবে।

সেমিনারে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এম.পি.। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রবর্তিত নজরুল পদক প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, আমরা ২০০৯ সাল থেকে যে সম্মাননা প্রদান করেছি সেটাকে এবার পদকে রূপান্তর করা হয়েছে। নজরুল পদককে একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত পদক হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেজন্য যাকে তাকে আমরা এই পদক দিতে চাই না। এবারেও যে চারজনকে নজরুল পদক দেওয়া হয়েছে তাদের নাম অত্যন্ত নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করে নির্বাচিত করা হয়েছে। কোয়ালিটির ব্যাপারে কোন আপোষ করা হয় না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে. এম. খালিদ এমপি বলেন, ১০ জ্যৈষ্ঠ কবি নজরুল দেশে এসেছিলেন, ১১ জ্যৈষ্ঠ তাঁর জন্ম বার্ষিকী। ৫১ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে কবির প্রত্যবর্তন হয়েছিল। সেই দিনকে আমরা কবি জন্মজয়ন্তীর সঙ্গে মিলিয়ে একদিন আগে থেকেই আমরা ভবিষ্যতে সরকারিভাবে উদযাপন করা শুরু করবো। আর এ জন্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।

এরপর আমন্ত্রিত অতিথিরা জয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত বই মেলার উদ্বোধন করেন। বই মেলায় নজরুল সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রন্থ, প্রকশনা স্থান পেয়েছে। এছাড়া জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল শ্রেণীকক্ষে একটি আর্ন্তজাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে মুখ্য আলোচনা করেন ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুমিতা চক্রবর্তী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শোয়াইব জিবরান। আলোচনা করেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কল্পনা হেনা রুমি।

এরপর সন্ধ্যা ছয়টায় জয়ন্তী উপলক্ষ্যে নাটক, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. ক্যাম্পাস
  3. বাংলাদেশে কাজী নজরুল ইসলামের আগমনের ৫১ বছর পূর্তি পালন

বাংলাদেশে কাজী নজরুল ইসলামের আগমনের ৫১ বছর পূর্তি পালন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ কবি নজরুল ১২৪ তম জন্ম জয়ন্তী ও কবির বাংলাদেশে আগমনের ৫১ তম বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তীতে চার গুণী ব্যাক্তিকে নজরুল পদক- ২০২৩ প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ মে) গাহি সাম্যের গান মঞ্চে 'বঙ্গন্ধুর বাংলাদেশে নজরুল’ শীর্ষক সেমিনারে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন।

নজরুল পদক প্রাপ্ত গুণী চারজন হলেন- নজরুল সংগীতে সঙ্গীত শিল্পী নীলুফার ইয়াসমিন (মরণোত্তর), কবি কাজী নজরুল ইসলাম দৌহিত্রী খিলখিল কাজী, নজরুল স্মৃতি সংরক্ষণ ও প্রচারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ ও নজরুল গবেষণায় আমেরিকান নজরুল গবেষক উইনস্টন ই. ল্যাংলি।
এসময় জাতীয় কবির দৌহিত্রী খিলখিল কাজী ও অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ স্বশরীরে উপস্থিত থেকে পদক ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। বিজয়ীদের হাতে পদক ও পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী ও উপাচার্যসহ অন্যরা।

পদকপ্রাপ্ত খিলখিল কাজী বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আমরা যেমন অনেক কাজ করছি তেমনি তাঁর অনেক কাজ এখনো বাকী রয়ে গেছে। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলার মধ্যে বেঁধে রাখার কবি নন।এখন সময় এসেছে কবি নজরুলের বিদ্রোহীসহ অন্যান্য কবিতাগুলো অনুবাদের মধ্যদিয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে হবে।

সেমিনারে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এম.পি.। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রবর্তিত নজরুল পদক প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, আমরা ২০০৯ সাল থেকে যে সম্মাননা প্রদান করেছি সেটাকে এবার পদকে রূপান্তর করা হয়েছে। নজরুল পদককে একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত পদক হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেজন্য যাকে তাকে আমরা এই পদক দিতে চাই না। এবারেও যে চারজনকে নজরুল পদক দেওয়া হয়েছে তাদের নাম অত্যন্ত নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করে নির্বাচিত করা হয়েছে। কোয়ালিটির ব্যাপারে কোন আপোষ করা হয় না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে. এম. খালিদ এমপি বলেন, ১০ জ্যৈষ্ঠ কবি নজরুল দেশে এসেছিলেন, ১১ জ্যৈষ্ঠ তাঁর জন্ম বার্ষিকী। ৫১ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে কবির প্রত্যবর্তন হয়েছিল। সেই দিনকে আমরা কবি জন্মজয়ন্তীর সঙ্গে মিলিয়ে একদিন আগে থেকেই আমরা ভবিষ্যতে সরকারিভাবে উদযাপন করা শুরু করবো। আর এ জন্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।

এরপর আমন্ত্রিত অতিথিরা জয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত বই মেলার উদ্বোধন করেন। বই মেলায় নজরুল সংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রন্থ, প্রকশনা স্থান পেয়েছে। এছাড়া জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল শ্রেণীকক্ষে একটি আর্ন্তজাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে মুখ্য আলোচনা করেন ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুমিতা চক্রবর্তী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শোয়াইব জিবরান। আলোচনা করেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কল্পনা হেনা রুমি।

এরপর সন্ধ্যা ছয়টায় জয়ন্তী উপলক্ষ্যে নাটক, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন