প্রাক্‌-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের শ্রেণিকক্ষে যাওয়া আপাতত বন্ধই থাকছে

১ মার্চ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রাক্‌-প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে যাওয়া আপাতত বন্ধই থাকছে। এখন প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হবে।

করোনার সংক্রমণ কমে আসায় সরকার ১ মার্চ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন শুক্রবার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আপাতত ক্লাস হবে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বাভাবিক সময়ের মতো ক্লাসে ফিরে যাওয়া হবে। আর প্রাক্‌-প্রাথমিক স্তরের শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা আপাতত বন্ধই থাকবে। অভিভাবকদেরই এখন তাদের শেখাতে হবে। কারণ, তারা বয়সে আরও ছোট।

উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত শিশুদের এক বছরমেয়াদি প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা নামে একটি স্তর আছে। এটিকে শিশুশ্রেণিও বলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল এবং কিন্ডারগাটরেনে প্লে, নার্সারি, কেজি ইত্যাদি শ্রেণি আছে।

জানা গেছে, চলতি ছুটির আগে যেভাবে বিভিন্ন শ্রেণিতে স্বল্পপরিসরে ক্লাস হতো; অর্থাৎ সপ্তাহের নির্ধারিত বিভিন্ন দিনে একেক শ্রেণির ক্লাস হতো, এখনো প্রাথমিকে সেভাবেই হবে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তবে এসব স্তরেও ক্লাস হবে আগের মতো স্বল্পপরিসরে। যে শিক্ষার্থীরা করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন, তাঁরাই কেবল শ্রেণিকক্ষে যাবেন। বাকিদের দ্বিতীয় ডোজ না নেওয়া পর্যন্ত অনলাইন ও টেলিভিশনেই পাঠদান হবে। ওই সংবাদ সম্মেলনেই জানানো হয়েছিল, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলতে আরও ১০ থেকে ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

করোনার সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। দীর্ঘ ১৮ মাস পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ছুটি আছে।