The Rising Campus
News Media

প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘বাংলাদেশের জনগণকে স্যালুট জানাই’

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে আর কিছুক্ষণ বাদেই। বহু কাঙ্ক্ষিত সেই সেতুর উদ্বোধন করতে সেতুর মাওয়া প্রান্তে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি দেশবাসীকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি দেশবাসীর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত জানানোর পর বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে সে কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষকে স্যালুট জানাই।’

৯ টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে মাওয়া সমাবেশ স্থলে এসে পৌঁছান । মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশে ভাষণ শেষে তিনি উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। অমনি খুলে যাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অপরাপর অংশের জন্য সংযোগ, যোগাযোগ ও সম্ভাবনার অনন্ত দুয়ার।

আজ ভোর থেকেই সেতুর দুই প্রান্তে দলে দলে মানুষ আসতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী মাওয়া প্রান্তে সেতুর উদ্বোধন করে টোল দিয়ে গাড়িতে সেতু পার হবেন। যাবেন অপর প্রান্তে। সেখানে ফলক উন্মোচনের পর বেলা ১২টায় হবে সমাবেশ। সেখানে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগমের কথা বলেছেন আয়োজকেরা। সেখানে আজ ভোর থেকে নেমেছে মানুষের ঢল। দক্ষিণের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হচ্ছে সেখানে। নানা রঙের টি শার্টে, নেচে গেয়ে সমাবেশে আসছে মানুষ।

আজ সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে মাওয়ার ও জাজিরা উভয় প্রান্তে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আজ সুধী সমাবেশে প্রথমেই পদ্মা সেতুর ওপর প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হবে। এরপর শুরু হবে বক্তৃতা। এই সমাবেশে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাড়ে তিন হাজার নাগরিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু। মাওয়া থেকে জাজিরা। পদ্মা সেতু সড়ক, রেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংযোগ ঘটাবে উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের। নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে আছে সংযোগ সড়ক, রেল সংযোগ, নদীশাসন, পুনর্বাসন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা—নানা প্রকল্প ও কর্মকাণ্ড।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ জুনের সংবাদ সম্মেলনে জানান, পদ্মা সেতুর প্রকল্প ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ২১ জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৭ হাজার ৭৩২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

পদ্মা সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলাকে সড়কপথে সরাসরি সংযুক্ত করেছে। কংক্রিট আর ইস্পাতের কাঠামোয় পদ্মা নদীর দুই প্রান্তের সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের সেতুবন্ধ ঘটছে। তবে এই সেতু শুধু একটি বড় অবকাঠামো নয়, এটি বিদেশি অর্থায়ন ছাড়া প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত বাংলাদেশের একটি ‘মেগা’ প্রকল্প। এটি প্রমত্ত পদ্মার বুকে কারিগরি নানা জটিলতা কাটিয়ে নির্মাণ করা একটি সেতু। এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর মানুষ ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.