The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪

নিজ হল মসজিদের তারাবির ইমামতিতে জাবি শিক্ষার্থী হাফেজ মশিউর ও তরিক

জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মওলানা ভাসানী হল ও আল বেরুনী হলের মসজিদে আয়োজিত খতমে তারাবির নামাজে ইমামতি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ তারিকুল ইসলাম ও বাংলা বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ মশিউর সা’দ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলের মসজিদে তারাবিরর নামাজে ইমামতি করা দু’জন হাফেজের মধ্যে অন্যতম হাফেজ মশিউর সা’দ।

নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নামাজের ইমামতি করার অনুভূতি জানতে চাইলে হাফেজ মশিউর বলেন, আমি ২০১০ সালে হিফজ সম্পন্ন করি। এর আগেও বিভিন্ন জায়গা যেমন নরসিংদী, সুনামগঞ্জ, টঙ্গি ও নিজ জেলায় ইমামতি করেছি। তবে নিজ হলে ইমামতি করার অনুভূতিটা অন্যরকম,আলহামদুলিল্লাহ! হলে সবাই একত্রে তারাবির নামাজ আদায় করেছি এবং সেখানে আমি নিজে ইমামতি করতে পেরে খুবই গর্ববোধ করছি।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন দেড় পারা করে মোট ২০ দিনে আমরা কোরআন শরীফ খতম সম্পন্ন করেছি। এরপর বিশেষ দোয়া করা হয়েছে। দোয়া শেষে আমাদের হল এটেনডেন্স একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান দীপু স্যারের সহযোগিতায় আমাদের সবাইকে মিষ্টি মুখ করানো হয়।

অপরিদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের মসজিদে তারাবীহর নামাজে ইমামতি করেছেন হাফেজ তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি ২০১২ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছরই তারাবির নামাজ পড়িয়েছি। মাঝে করোনা ও পরীক্ষার সময়টাতে শুধু গ্যাপ গিয়েছিলো। তবে ক্যাম্পাসে সিনিয়র, জুনিয়র ও বন্ধুসহ সব পরিচিত মানুষদের মাঝে তারাবির নামাজ পড়ানোটা অনেক ভালো লেগেছে।

এদিকে নিজেদের ক্যাম্পাসের হাফেজরা তারাবির নামাজের ইমামতি করায় হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বেশ আনন্দিত।

উল্লেখ্য, হাফেজ মশিউর কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি মাদরাসা থেকে হিফজ্ পড়া শুরু করেন। সেখানে ২০১০ সালে কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে হিফজ চূড়ান্ত পরিক্ষায় মেধা তালিকায় ৩য় স্থান অর্জন করে হিফজ্ সম্পন্ন করেন। পরে ২০১৫ সালে নিজ গ্রাম শৈলজানি আলিম মাদরাসা থেকে দাখিলে (এসএসসি) জিপিএ ৫.০০ ও ২০১৭ সালে ঐতিহ্যবাহী জামেয়া কাসেমিয়া নরসিংদী থেকে আলিমে (এইচএসসি) জিপিএ ৫.০০ পেয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন।

অপরদিকে হাফেজ তরিক পিরোজপুর জেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নে জন্মগ্রহন করেন। সেখানে রাবেয়া খাতুন হাফেজি মাদ্রাসা থেকে হিফজ্ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে পিরোজপুরের জিয়ানগরের টগরা দারুল ইসলাম কওমি মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও ঝালকাঠির এন. এস. কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হন।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. ক্যাম্পাস
  3. নিজ হল মসজিদের তারাবির ইমামতিতে জাবি শিক্ষার্থী হাফেজ মশিউর ও তরিক

নিজ হল মসজিদের তারাবির ইমামতিতে জাবি শিক্ষার্থী হাফেজ মশিউর ও তরিক

জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মওলানা ভাসানী হল ও আল বেরুনী হলের মসজিদে আয়োজিত খতমে তারাবির নামাজে ইমামতি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ তারিকুল ইসলাম ও বাংলা বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ মশিউর সা'দ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হলের মসজিদে তারাবিরর নামাজে ইমামতি করা দু'জন হাফেজের মধ্যে অন্যতম হাফেজ মশিউর সা'দ।

নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নামাজের ইমামতি করার অনুভূতি জানতে চাইলে হাফেজ মশিউর বলেন, আমি ২০১০ সালে হিফজ সম্পন্ন করি। এর আগেও বিভিন্ন জায়গা যেমন নরসিংদী, সুনামগঞ্জ, টঙ্গি ও নিজ জেলায় ইমামতি করেছি। তবে নিজ হলে ইমামতি করার অনুভূতিটা অন্যরকম,আলহামদুলিল্লাহ! হলে সবাই একত্রে তারাবির নামাজ আদায় করেছি এবং সেখানে আমি নিজে ইমামতি করতে পেরে খুবই গর্ববোধ করছি।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন দেড় পারা করে মোট ২০ দিনে আমরা কোরআন শরীফ খতম সম্পন্ন করেছি। এরপর বিশেষ দোয়া করা হয়েছে। দোয়া শেষে আমাদের হল এটেনডেন্স একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান দীপু স্যারের সহযোগিতায় আমাদের সবাইকে মিষ্টি মুখ করানো হয়।

অপরিদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের মসজিদে তারাবীহর নামাজে ইমামতি করেছেন হাফেজ তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি ২০১২ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছরই তারাবির নামাজ পড়িয়েছি। মাঝে করোনা ও পরীক্ষার সময়টাতে শুধু গ্যাপ গিয়েছিলো। তবে ক্যাম্পাসে সিনিয়র, জুনিয়র ও বন্ধুসহ সব পরিচিত মানুষদের মাঝে তারাবির নামাজ পড়ানোটা অনেক ভালো লেগেছে।

এদিকে নিজেদের ক্যাম্পাসের হাফেজরা তারাবির নামাজের ইমামতি করায় হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বেশ আনন্দিত।

উল্লেখ্য, হাফেজ মশিউর কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি মাদরাসা থেকে হিফজ্ পড়া শুরু করেন। সেখানে ২০১০ সালে কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে হিফজ চূড়ান্ত পরিক্ষায় মেধা তালিকায় ৩য় স্থান অর্জন করে হিফজ্ সম্পন্ন করেন। পরে ২০১৫ সালে নিজ গ্রাম শৈলজানি আলিম মাদরাসা থেকে দাখিলে (এসএসসি) জিপিএ ৫.০০ ও ২০১৭ সালে ঐতিহ্যবাহী জামেয়া কাসেমিয়া নরসিংদী থেকে আলিমে (এইচএসসি) জিপিএ ৫.০০ পেয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন।

অপরদিকে হাফেজ তরিক পিরোজপুর জেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নে জন্মগ্রহন করেন। সেখানে রাবেয়া খাতুন হাফেজি মাদ্রাসা থেকে হিফজ্ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে পিরোজপুরের জিয়ানগরের টগরা দারুল ইসলাম কওমি মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও ঝালকাঠির এন. এস. কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হন।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন