ঢাবিতে প্রায় ১১০০ আসন কমানোর সুপারিশ ভর্তি কমিটির

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ১ হাজার ৮৫টি আসন কমানোর সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটি৷ অবশ্য আসন কমানোর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদের (একাডেমিক কাউন্সিল) আসন্ন সভায় আলোচনার পর চূড়ান্ত হবে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসনব্যবস্থা ও শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে সর্বত্র অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ আছে৷ গত দুই দশকে অপরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট খোলা এবং একই অনুপাতে অবকাঠামো না বাড়ানোর ফলে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে৷ এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আসন কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে৷ বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোর মতামতের ভিত্তিতে গত ৫ জানুয়ারি এক বিশেষ সভায় ১ হাজার ১৫টি আসন কমানোর সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটি৷

এরপর আসনসংখ্যা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাধারণ ভর্তি কমিটির বিশেষ সভা ডাকা হয়৷ উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদস্থ ব্যক্তিরা অংশ নেন৷

সভা শেষে মুহাম্মদ সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, আসনসংখ্যা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে ডিনস কমিটির সভার সুপারিশটি সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়৷ এরপর সভায় যৌক্তিক আসনসংখ্যা নির্ধারণের বিষয়ে ভর্তি কমিটির সুপারিশ তুলে ধরা হয়৷

এই সুপারিশে ১ হাজার ৮৫টি আসন কমানোর কথা বলা হয়েছে৷ সুপারিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার পর চূড়ান্ত হবে৷ এরপর সিন্ডিকেট তা অনুমোদন করবে৷

অবকাঠামো বাড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ‘ভৌত মহাপরিকল্পনা’ প্রস্তুত করেছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভৌত মহাপরিকল্পনার আগে একটি ‘একাডেমিক মহাপরিকল্পনা’ প্রস্তুতের আহ্বান জানান৷ এরপরই তারা আসনসংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়৷ কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও যথোপযুক্ত দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও সামর্থ্য এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা বিবেচনায়’ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আসনসংখ্যা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷

ঘ ইউনিট বাদ দেওয়ার উদ্যোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পাঁচটি ইউনিটের অধীনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়ে থাকে৷ এগুলো হলো বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর জন্য ক ইউনিট, কলার বিষয়গুলোর জন্য খ ইউনিট, ব্যবসায় শিক্ষার বিষয়গুলোর জন্য গ ইউনিট, চারুকলার বিষয়গুলোর জন্য চ ইউনিট আর সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর জন্য ঘ ইউনিট৷ এর মধ্যে ঘ ইউনিটটি বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট হিসেবে পরিচিত৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২০ সাল থেকে বলে আসছে, ঘ ইউনিট বাতিল হবে৷ এর পেছনে ‘পরীক্ষার বোঝা ও ভোগান্তি’ কমানোর যুক্তি দিয়ে আসছেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান৷ গত বছরের নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেছিলেন, ‘একটি ইউনিট কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ এখন কৌশল বের করতে হবে কীভাবে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষায় আসতে পারেন৷ একই সঙ্গে কলার শিক্ষার্থী কীভাবে ব্যবসায় শিক্ষায় যেতে পারেন অথবা ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীরা কীভাবে কলায় আসতে পারেন৷ এই নীতি ও কৌশল বের করতে পারলে আমরা একটি পরীক্ষার বোঝা কমাতে পারব৷’

ঘ ইউনিট বাতিলের বিষয়টি নিয়েও আজ সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় আলোচনা করা হয়৷ বলা হয়, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে চারটি ইউনিটের (ক, খ, গ, চ) অধীনে প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ইউনিট পরিবর্তনের নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ডিনস সাব–কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন জিয়া রহমান এ বিষয়ে সরাসরি কোনো আপত্তি জানাননি৷ তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় আমি বলেছি যে ঘ ইউনিট বাতিলের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে কনফিউশন (সংশয়) আছে৷ তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে কি না৷ পরে আমাকে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত আগের ডিনের সময়েই হয়ে গেছে৷’