ডাড (DAAD) স্কলারশিপ নিয়ে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা

উন্নত এবং বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি অন্যতম। শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিসহ নানাদিক দিয়ে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় দেশ এটি। বিশেষ করে জার্মানির শিক্ষাব্যবস্থা অনেক আধুনিক ও যুগোপযোগী। এছাড়াও রয়েছে বিশ্বের অনেক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। জার্মানির বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখের মধ্যে ১২ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে থাকেন। বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকেই ছাত্র ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে প্রতি বছর জার্মানি আসে। এর মূল কারণ হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার জন্য রয়েছে না ধরনের নজরকাড়া কতগুলো স্কলারশিপ। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডাড(DAAD) স্কলারশিপ। জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্যে সবচেয়ে বড় স্কলারশিপ হলো এটি। চলুন জেনে নেওয়া যাক ডাড (DAAD)স্কলারশিপ সম্পর্কিত নানা ধরনের তথ্য ।

German Academic Exchange Service অথবা ডাড (DAAD) তাদের কার্যক্রম শুরু করে ১৯২৫ সালে। এই স্কলারশিপ প্রতিবছর প্রায় ১৫০,০০০ ছাত্রছাত্রীদের অর্থায়ন করে থাকে। যারা স্কলারশিপ নিয়ে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য ডাড (DAAD) স্কলারশিপটি একটি দারুণ সুযোগ।

যারা আবেদন করতে পারবেনঃ-
ডাড (DAAD) স্কলারশিপের জন্য সাধারনত ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পি এইচ ডি, পোস্ট ডক্টোরাল ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করতে পারে।

ডাড(DAAD) স্কলারশিপে যেসকল বিষয়ে আবেদন করা যায়ঃ-
1.অর্থনৈতিক বিজ্ঞান (Economic Sciences)।
2.রাজনৈতিক অর্থনীতি (Political Economics)।
3.উন্নয়ন সহযোগিতা (Development Cooperation)।
4.ব্যবসা প্রশাসন (Business Administration)।
5.চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য (Medicine and public health)
6.কৃষি ও বন বিজ্ঞান (Agricultural and Forest Sciences)
7.প্রাকৃতিক এবং পরিবেশ বিজ্ঞান (Natural and Environmental Sciences)
8.ম্যাথমেটিক্স প্রকৌশল সম্পর্কিত বিজ্ঞান (Engineering and related sciences)।
9.মিডিয়া স্টাডিজ (Media Studies)।
10.আঞ্চলিক ও নগর পরিকল্পনা (Regional and Urban Planning)।
11.সামাজিক বিজ্ঞান (Social Sciences) শিক্ষা ও আইন (Education and Law)।

সুযোগ-সুবিধাঃ-
জার্মানিতে অন্যান্য স্কলারশিপের তুলনায় ডাড(DAAD) এর সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশী। এই স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যে সকল সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে,

•টিউশন ফি ও পরীক্ষার ফি ।
•মাসিক ভাতা (পি এইচ ডি = ১২০০ ইউরো, মাস্টার্স = ৮৬১ ইউরো) ।
•বিমান ভাড়া।
•স্বাস্থ্যবীমা।
•বাড়ি ভাড়া এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা।

আবেদনের যোগ্যতাসমূহঃ-
ডাড(DAAD) স্কলারশিপের জন্য আপনার নিম্নোক্ত যোগ্যতা থাকতে হবে,

•ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রী থাকতে হবে।
•কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে ২ বছরের।
•আইএলটিএস (IELTS) স্কোর ৬.৫ থাকা লাগবে । তবে বেশ কিছু প্রোগ্রামে আবেদন করতে Medium Instruction English থাকলেই চলবে। তাই অবশ্যই আবেদনের সময় জেনে নিতে হবে আসলে আপনার কি কি লাগছে।
•প্রার্থীকে উন্নয়নশীল দেশের হতে হবে।
•স্টাডি গ্যাপ যেন ৬ বছরের কম থাকতে হবে।

ডাড(DAAD) স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য যেসকল নথিপত্রের প্রয়োজন হবেঃ-

•Online আবেদন ফর্ম।
•পাসপোর্ট।
•এনাইডি (NID)।
•Euro Pas Formatted CV ।
•সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট।
•সকল একাডেমিক মার্কশীট ।
•মোটিভেশন লেটার (SOP) সাইন ও সিলসহ রিকোমেন্ডেশন লেটার (২টি)।
•আইএলটিএস (IELTS)।
•কাজের অভিজ্ঞতা সাটিফিকেট ।
•অফার লেটার (যদি থাকে) ।

আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমাঃ-
আপনাকে প্রথমে ডাড (DAAD) স্কালারশিপের আওতাভুক্ত কোর্স থেকে কোর্স নির্বাচন করে আপনার পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করে আবেদন করতে হবে। আপনি সর্বোচ্চ তিনটি কোর্সে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করবে এবং আপনি যদি নির্বাচিত হোন তাহলে তারাই আপনাকে ডাড (DAAD) স্কলারশিপে আবেদন করতে বলবে। এরপর আপনাকে এই লিংকের মাধ্যমে (https://www.mydaad.de/en/) আবেদন সম্পূর্ণ করতে হবে। ডাড (DAAD) স্কলারশিপের বিভিন্ন ফিল্ডের বিভিন্ন সাবজেক্টের আবেদনের সময়সীমা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই আপনাকে ডাড এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত সকল তথ্য জেনে আবেদন করতে হবে।
ডাড এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটঃ- https://www.daad.de/en/