The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৪

জাবিতে রাতের আধারেই চলছে র‍্যাগিং

জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিডনি ফিল্ড সংলগ্ন ঢালে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের (৫১তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদেরকে জঙ্গলে ডেকে নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষের (৫০ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা র‌্যাগ (মানসিক নির্যাতন) দিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। র‍্যাগিং চলার একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের একাধিক সদস্য।

এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, ব্যাচের সি আরের মাধ্যমে গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডনি ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় জরুরিভাবে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকতে বলেন একই বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

তবে কিছুটা দেরি হয়ে যাওয়ায় সেখানে এসেই আগে থেকে উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন ঐ বিভাগের ৫০ তম ব্যাচের কতিপয় শিক্ষার্থীরা। এসময় ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মুরগির আদলে চেয়ারে বসানো হয়। একপর্যায়ে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে উচ্চস্বরে গালিগালাজ সহ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের দিকে জুতা ছুড়ে মারেন তারা।

এ বিষয় জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বেশকিছু সাংবাদিক। এসময় কিছু মানুষের উপস্থিতির কথা জানতে পেরে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা দৌড়ে পালিয়ে যান। তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় আবদুল্লাহ আল কাফি নামের এক শিক্ষার্থীকে ধরে ফেলেন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। পরবর্তীতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে র‍্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কথাও জানান তিনি।

র‍্যাগ দেয়ার বিষয়ে কাফি বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টের জুনিয়রদের ডাকা হয়েছিল। এতে আমরা ৫০তম ব্যাচের ১০ থেকে ১২ জন ছিলাম। যার মাঝে ছিল নূর ইসলাম, তানভীর ইসলাম, মো. আবদুস ছবুর, প্রিন্স কুমার রায়, আহমেদ ইজাজুল হাসান আরিফ, চিরঞ্জীত মণ্ডল, মো. রাসেল হোসাইন, মো. সিজান, খন্দকার মোয়াজ ইসলাম, মিঠুন রায়। এ সময় ওদের (জুনিয়রদের) র‍্যাগ দেওয়া হয়, তবে আমি দিইনি। আমি কীভাবে যেন আজ এসে পড়েছি। আমি ভুল স্বীকার করছি ভবিৎষ্যতে আর এমনটা হবে না।’

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ৫১তম ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী এবিষয়ে বলেন, বড় ভাইদের ডাকে
রাত ৯টায় আমরা ঘটনাস্থলে আসি। কিন্তু তারা আসেন দেরি করে রাত ১১টায়। এরপর প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো তারা ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে তাঁদের একজন আমাদেরকে জুতা ছুড়ে মারেন। এছাড়াও লাফাতে বলে কয়েকজনকে ‘মুরগি’ বানিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদের শাস্তি দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ভুক্তভোগী ১২ জন শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক এস এম এ মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডনি ফিল্ড–সংলগ্ন জঙ্গলে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং করা হচ্ছে। এমন খবরের ভিত্তিতে আমরা দুজন সহকারী প্রক্টর ঘটনাস্থলে আসি। আমরা যাওয়ার সাথেই তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়, তবে আমরা আবদুল্লাহ আল কাফী নামের একজনকে ধরতে পারি। পরবর্তীতে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.