The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪

জাবিতে প্রজাপতি মেলার একযুগ পূর্তি

জাবি প্রতিনিধিঃ ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ১২ তম বারের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রজাপতি মেলা।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক। দিনব্যাপী এই মেলা শেষ হয় বিকাল ৪টায়।

একযুগের মতো আয়োজিত দিনব্যাপী এই প্রজাপতি মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি প্রদর্শিত হয়।উদ্বোধনশেষে উপ উপচার্য অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক বলেন, “ প্রজাপতি বিভিন্নভাবে আমাদের উপকারে আসে এবং এটি সৌন্দর্য্যের পাশপাপাশি প্রকৃতিতেও অনেক গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখে। প্রজাপতি না থাকলে পরাগায়ণ হবে না। এজন্য প্রকৃতিতে প্রজাপতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। তারই প্রেক্ষিতে প্রতিবছর সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রজাপতি মেলা আয়োজন করা হয়। ”

অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, “ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েক বছর আগেও ১১০ ধরনের প্রজাপতির দেখা মিলতো,সেটা গতবছরে ৬০ ধরনের ছিলো সেখানে এখন প্রায় ৫২ ধরনের প্রজাপতি আছে। দিন দিন প্রজাপতির সংখ্যা কমে যাওয়া প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার একটি বিরূপ ফলাফল। সেই জায়গা থেকে মানুষেরও প্রকৃতির প্রতি, প্রজাপতির প্রতি সচেতন হওয়া উচিত। ”

তিনি আরও বলেন, “ শিশুদেরকে যদি প্রজাপতির গুরুত্ব অনুধাবন করানো যায়, তাহলে তারা পরিবেশে প্রজাপতির ভূমিকা বুঝতে পারবে। এ জন্য শিশুদের জন্য ছবি আঁকা, প্রজাপতি ঘুড়ি ওড়ানো, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে পাশপাশি এবার শিশুদের জন্য কাকতাড়ুয়া পাপেট দলের পরিবেশনায় প্রজাপতির গল্পে পাপেট শো আয়োজন করা হয়েছে।”

বাবার সঙ্গে রাজধানীর মিরপুর থেকে মেলা দেখতে আসা ক্লাস ওয়ানে পড়ুয়া রিফাত আহমেদ বলে, ‘বাবার সঙ্গে মেলায় ঘুরেছি, অনেক রঙিন প্রজাপতি দেখেছি, চিত্র এঁকেছি। মেলায় এসে আমার ভীষণ ভাল্লাগছে।’

এ বছর প্রকৃতি সংরক্ষণে সার্বিক অবদানের জন্য প্রজাপতি মেলায় তরুপল্লব সংগঠনকে বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ্ত বিশ্বাসকে বাটারফ্লাই ইয়াং এনথুসিয়াস্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান, বন অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ, কিউট প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ মাতলুব আক্তার প্রমুখ ।

উল্লেখ্য প্রজাপতি সংরক্ষণ ও মানুষের মাঝে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘কীটতত্ত্ব’ শাখা এই মেলার আয়োজন করে যাচ্ছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. ক্যাম্পাস
  3. জাবিতে প্রজাপতি মেলার একযুগ পূর্তি

জাবিতে প্রজাপতি মেলার একযুগ পূর্তি

জাবি প্রতিনিধিঃ ‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ১২ তম বারের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রজাপতি মেলা।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক। দিনব্যাপী এই মেলা শেষ হয় বিকাল ৪টায়।

একযুগের মতো আয়োজিত দিনব্যাপী এই প্রজাপতি মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি প্রদর্শিত হয়।উদ্বোধনশেষে উপ উপচার্য অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক বলেন, “ প্রজাপতি বিভিন্নভাবে আমাদের উপকারে আসে এবং এটি সৌন্দর্য্যের পাশপাপাশি প্রকৃতিতেও অনেক গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখে। প্রজাপতি না থাকলে পরাগায়ণ হবে না। এজন্য প্রকৃতিতে প্রজাপতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। তারই প্রেক্ষিতে প্রতিবছর সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রজাপতি মেলা আয়োজন করা হয়। ”

অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, “ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েক বছর আগেও ১১০ ধরনের প্রজাপতির দেখা মিলতো,সেটা গতবছরে ৬০ ধরনের ছিলো সেখানে এখন প্রায় ৫২ ধরনের প্রজাপতি আছে। দিন দিন প্রজাপতির সংখ্যা কমে যাওয়া প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার একটি বিরূপ ফলাফল। সেই জায়গা থেকে মানুষেরও প্রকৃতির প্রতি, প্রজাপতির প্রতি সচেতন হওয়া উচিত। "

তিনি আরও বলেন, “ শিশুদেরকে যদি প্রজাপতির গুরুত্ব অনুধাবন করানো যায়, তাহলে তারা পরিবেশে প্রজাপতির ভূমিকা বুঝতে পারবে। এ জন্য শিশুদের জন্য ছবি আঁকা, প্রজাপতি ঘুড়ি ওড়ানো, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে পাশপাশি এবার শিশুদের জন্য কাকতাড়ুয়া পাপেট দলের পরিবেশনায় প্রজাপতির গল্পে পাপেট শো আয়োজন করা হয়েছে।”

বাবার সঙ্গে রাজধানীর মিরপুর থেকে মেলা দেখতে আসা ক্লাস ওয়ানে পড়ুয়া রিফাত আহমেদ বলে, ‘বাবার সঙ্গে মেলায় ঘুরেছি, অনেক রঙিন প্রজাপতি দেখেছি, চিত্র এঁকেছি। মেলায় এসে আমার ভীষণ ভাল্লাগছে।’

এ বছর প্রকৃতি সংরক্ষণে সার্বিক অবদানের জন্য প্রজাপতি মেলায় তরুপল্লব সংগঠনকে বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ্ত বিশ্বাসকে বাটারফ্লাই ইয়াং এনথুসিয়াস্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান, বন অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ, কিউট প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ মাতলুব আক্তার প্রমুখ ।

উল্লেখ্য প্রজাপতি সংরক্ষণ ও মানুষের মাঝে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘কীটতত্ত্ব’ শাখা এই মেলার আয়োজন করে যাচ্ছে।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন