জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ পরিচালনায় অভিন্ন নীতিমালা

# শিক্ষাবিদ হবেন গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান
# সার্টিফিকেট অনুযায়ী সদস্যপদ
# কোচিংনির্ভরতা কমাতে হবে
# শিক্ষা ঋণের ব্যবস্থা থাকতে হবে
# আইসিটি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় গুরুত্বারোপ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে সরকার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে শিক্ষার মান বাড়াতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় একটি অভিন্ন নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। সেখানে গভর্নিংবডির সভাপতি পদে শিক্ষাবিদকে নির্বাচন, কোচিংনির্ভরতা কমানো, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ঋণের ব্যবস্থা করা, আইসিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য ‘ন্যাশনাল স্ট্রাটেজিক প্ল্যান’ প্রণয়নের কাজ চলমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এসইডিপি) মাধ্যমে ছয়টি ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডি ফাইন্ডিংসের মাধ্যমে এ নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়, অধিভুক্ত কলেজগুলোর জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের মতো অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করতে হবে। সরকারকে এর প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে আলাপ অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া গবেষণা, গবেষণালব্ধ ফল এবং শক্ত ব্যবস্থাপনা গড়তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাউশির মধ্যে শক্ত যোগাযোগ তৈরি হবে। উভয় প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করতে হবে।

গভর্নিংবডি

গভর্নিংবডির (জিবি) নীতিমালা সুস্পষ্টকরণ করতে হবে জানিয়ে বলা হয়, জিবির চেয়ারম্যান হবেন একজন শিক্ষাবিদ। সদস্য হবেন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী। জিবির সদস্য সংখ্যা কমাতে হবে। তাদের কাজ করার ক্ষেত্র নিয়ে সূক্ষ্মভাবে ধারা বা উপ-ধারা থাকতে হবে। এডহক ও একাডেমিক কমিটিতে সদস্যদের যোগ্যতা এবং সদস্য কমানোর জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা রিভাইজ করতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বোর্ড অব ডিরেক্টর এবং বোর্ড অব স্টাডিস গঠন করতে হবে। বোর্ডগুলো তাদের নির্দিষ্ট পরিসরে দায়িত্ব পালন করবে। বোর্ডের কর্মকাণ্ড তদারকিতে মনিটরিং পদ্ধতি গড়ে তুলতে হবে।

খসড়ায় পাঠদানে আইসিটির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে বলা হয়। শিক্ষকদের পাঠদানের দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাদের আইসিটির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মানোন্নয়নসহ ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাড়াতে হবে। আইসিটির ওপর শিক্ষকদের ওয়ার্কশপ থাকবে চলমান প্রক্রিয়া। অনলাইনে গবেষণা বাড়াতে হবে। শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয় এখানে যুক্ত করবেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা বিতরণ করবেন। কলেজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মমুখী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করবেন যেন শিক্ষার্থীরা হাতেকলমে শিখতে পারেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক পাঠের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় আর্থিক সহযোগিতা দিতে হবে। বৃত্তি ও উপবৃত্তির আওতায় অথবা বেসরকারি কলেজগুলোতে বিনামূল্যে পাঠদানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কলেজগুলোতে এ বিষয়ে ডিগ্রি প্রোগ্রামের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যেখানে পর্যাপ্ত ল্যাব, ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক ও ই-লাইব্রেরির সুবিধা থাকবে। এ লক্ষ্যে কিছু পদ সৃষ্টি করে তাতে দক্ষ লোক নিয়োগ দিতে হবে। সব কলেজের শিক্ষকদের জন্য বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া এ শিক্ষার শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় জরুরি বিবেচনায় প্রোগ্রামগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ভর্তিতে লিঙ্গ এবং ধর্মভিত্তিক সমতা আনতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ভাতা প্রদান করতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে শিখন ও শেখানোর কর্মপদ্ধতি তৈরি করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সবার জন্য উন্মুক্ত আকারে অনলাইনে গবেষণার হাব তৈরি করতে হবে। প্রাইভেট কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রতিদিন ক্লাস পরিচালনা নিশ্চিত করা এবং যথাযথভাবে শিখন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক বিশেষ শিক্ষণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

শিক্ষা ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতার শিক্ষার্থীদের জন্য কম সুদে শিক্ষা লোনের ব্যবস্থা গড়তে হবে। এছাড়া ঋণ প্রদানের জন্য সংস্থা ও তহবিল বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি কলেজগুলোর জন্য একটি সহযোগী নীতিমালা গঠন করতে হবে। তহবিল বাড়ানোর জন্য ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এছাড়া দানভিত্তিক তহবিল গঠন করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের প্রোগ্রাম অফিসার প্লানিং ড. এ কে এম খলিলুর রহমান বলেন, এসডিজি-৪ বাস্তবায়নের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর মান বাড়তে বিশিষ্টজনের গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কলেজ পরিচালনার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। নীতিমালাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞজনের মতামত নিয়ে সেটি চূড়ান্ত করবে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের অলিগলিতে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো কলেজ গড়ে উঠেছে। সেখানে শিক্ষক, অবকাঠামোসহ নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে নতুন করে এ ধরনের কলেজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। পিছিয়ে থাকা কলেজগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থে ১২০টি কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে। ৮০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে আড়াই হাজার শিক্ষককে স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।