The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
বৃহস্পতিবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩

জন্মহার বাড়াতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান

শিশু জন্মহার বাড়াতে বহুদিন যাবত চেষ্টা করছে জাপান। শিশু জন্মের হার বাড়াতে নানা প্যাকেজ চালু করেও পাচ্ছে না আশানুরুপ ফল। গত বছর দেশটিতে জন্ম নেয় মাত্র ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৮ শিশু। যা জাপানে গহ চার দশকে সর্বনিম্ন। একই সাথে এই সংখ্যা চার দশকের মধ্যে প্রথম ৮ লাখের নিচে নেমে গেছে। যা জাপান সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। মূলত ১৯৮০ সালে জাপানের অর্থনৈতিক উত্থানের পর থেকে ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে জাপানের জনসংখ্যা।

জনসংখ্যা নিয়ে আরও বিপদে পড়ে জানপান গত বছর। পরিসংখ্যান বলছে গত বছরে জাপানে রেকর্ড ১৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্য হয়েছে। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বচ্চ। এক দশকের বেশি সময় ধরে জন্মহারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে মৃত্যুহার। যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে। গত ৪০ বছরে জাপানের জনসংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জাপান সরকার চলতি বছরের জানুয়ারিতে জন্মহার বৃদ্ধিতে সরকারি ব্যয় দ্বিগুণ করতে ঘোষণা প্রদান করে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা জানিয়েছেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে জাপান সরকার। পরিকল্পনার আওতায় জাপন সরকার বেশ কয়েকটি ভাতা প্রদানের কথা জানিয়েছে।

১) নবজাতক থেকে দুই বছর বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য তাদের বাবা-মাকে ১৫ হাজার ইয়েনের মাসিক ভাতা দেবে সরকার।

২) তিন বছর বা তার বেশি বয়সের বাচ্চাদের জন্য দেওয়া হবে ১০ হাজার ইয়েন।

৩) সরকারি ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে হাইস্কুলে পড়ুয়া শিশুরাও।

খসড়া অনুযায়ী, অভিভাবকদের ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের আয়কে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। বাবা-মায়ের চাকরি না থাকলেও শিশুদের জন্য নার্সারি স্কুল বা ডে-কেয়ার সেন্টার খোলার পরিকল্পনা করছে সরকার।

জাপানে ক্রম নিম্নমুখি জন্মহারের এই সমস্যা বেশ তিব্র আকার ধারণ করেছে। এই সমস্যার কারণে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে জাপানের সমাজব্যবস্থা। গ্রামের পর গ্রাম খালি হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বসবাসকারির সংখ্যা কমেই চলেছে।  শিক্ষার্থীর অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকার একের পর এক স্কুল।

জাপান সরকার আশা করছে ঘোষিত এই অনুদান প্যাকেজ শিশু জন্মের হার বাড়াতে সহায়তা করবে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. জন্মহার বাড়াতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান

জন্মহার বাড়াতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান

শিশু জন্মহার বাড়াতে বহুদিন যাবত চেষ্টা করছে জাপান। শিশু জন্মের হার বাড়াতে নানা প্যাকেজ চালু করেও পাচ্ছে না আশানুরুপ ফল। গত বছর দেশটিতে জন্ম নেয় মাত্র ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৮ শিশু। যা জাপানে গহ চার দশকে সর্বনিম্ন। একই সাথে এই সংখ্যা চার দশকের মধ্যে প্রথম ৮ লাখের নিচে নেমে গেছে। যা জাপান সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। মূলত ১৯৮০ সালে জাপানের অর্থনৈতিক উত্থানের পর থেকে ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে জাপানের জনসংখ্যা।

জনসংখ্যা নিয়ে আরও বিপদে পড়ে জানপান গত বছর। পরিসংখ্যান বলছে গত বছরে জাপানে রেকর্ড ১৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষের মৃত্য হয়েছে। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বচ্চ। এক দশকের বেশি সময় ধরে জন্মহারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে মৃত্যুহার। যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে। গত ৪০ বছরে জাপানের জনসংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জাপান সরকার চলতি বছরের জানুয়ারিতে জন্মহার বৃদ্ধিতে সরকারি ব্যয় দ্বিগুণ করতে ঘোষণা প্রদান করে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা জানিয়েছেন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে জাপান সরকার। পরিকল্পনার আওতায় জাপন সরকার বেশ কয়েকটি ভাতা প্রদানের কথা জানিয়েছে।

১) নবজাতক থেকে দুই বছর বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য তাদের বাবা-মাকে ১৫ হাজার ইয়েনের মাসিক ভাতা দেবে সরকার।

২) তিন বছর বা তার বেশি বয়সের বাচ্চাদের জন্য দেওয়া হবে ১০ হাজার ইয়েন।

৩) সরকারি ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে হাইস্কুলে পড়ুয়া শিশুরাও।

খসড়া অনুযায়ী, অভিভাবকদের ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের আয়কে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। বাবা-মায়ের চাকরি না থাকলেও শিশুদের জন্য নার্সারি স্কুল বা ডে-কেয়ার সেন্টার খোলার পরিকল্পনা করছে সরকার।

জাপানে ক্রম নিম্নমুখি জন্মহারের এই সমস্যা বেশ তিব্র আকার ধারণ করেছে। এই সমস্যার কারণে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে জাপানের সমাজব্যবস্থা। গ্রামের পর গ্রাম খালি হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বসবাসকারির সংখ্যা কমেই চলেছে।  শিক্ষার্থীর অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকার একের পর এক স্কুল।

জাপান সরকার আশা করছে ঘোষিত এই অনুদান প্যাকেজ শিশু জন্মের হার বাড়াতে সহায়তা করবে।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন