The Rising Campus
News Media

চবির কত শিক্ষার্থী দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন, জানা নেই কর্তৃপক্ষের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কতজন শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত করোনার দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন, তার হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।

ক্যাম্পাস খোলার তিন মাস পার হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী দুই ডোজ টিকার আওতায় এসেছেন কি না, তা জানা যাচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়া সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয় গত বছরের ১৮ অক্টোবর। ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় শ্রেণি কার্যক্রম।

শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর পর শিক্ষার্থীরা হলে আসতে শুরু করেন। কিন্তু হলে এক ডোজ টিকা নেওয়ার বিষয়টি তদারক করা হয়নি। অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থীকে হলে উঠতে টিকার সনদ দেখাতে হয়নি।

অন্যদিকে ক্যাম্পাসে করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথ বসাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে যেসব শিক্ষার্থী জ্বর, সর্দি, কাশির মতো করোনার উপসর্গে ভুগছেন, তাঁরা সহজে নমুনা দিতে পারছেন না।

অবশ্য ক্যাম্পাসে নমুনা পরীক্ষা করার ল্যাব রয়েছে। ওই ল্যাবে হাটহাজারী ও আশপাশের এলাকা থেকে নমুনা এনে পরীক্ষা করা হয়।

চবির আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ দুই দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। করোনার উপসর্গ থাকলেও তিনি নমুনা পরীক্ষা করাতে যাননি। এর কারণ হিসেবে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ক্যাম্পাসে নমুনা সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা নেই। হাটহাজারী কিংবা ক্যাম্পাস থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে নগরে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করার বিষয়টিতে ঝক্কি দেখছেন তিনি।

শুধু জুবায়ের নন, চবির বিভিন্ন হলের অনেক শিক্ষার্থী করোনার উপসর্গে ভুগছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন প্রথম আলোকে বলেন, শহরে নমুনা পরীক্ষা করাতে গেলে লম্বা লাইন ধরতে হয়। অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়। ক্যাম্পাসে বুথ থাকলে সহজেই নমুনা দেওয়া যেত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা বলছেন, করোনা মহামারি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণের হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। সব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব না হলে করোনার ঝুঁকি কমানো যাবে না। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে করোনার নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন করা দরকার। তাহলে শিক্ষার্থীরা ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই নমুনা জমা দিতে পারতেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আইসিটি সেলের মাধ্যমে টিকাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষ। ওই তথ্য অনুযায়ী, দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ৪ হাজার ১৯০ জন শিক্ষার্থী। এক ডোজ টিকা নিয়েছেন ২ হাজার ৩৪২ জন। নিবন্ধন করে টিকার জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন ৪ হাজার ৪৭২ জন।

এর বাইরে সহ-উপাচার্য বেনু কুমার দে বিভিন্ন বিভাগ থেকে টিকার তথ্য সংগ্রহ করেন।

টিকার তথ্যের বিষয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সেপ্টেম্বরের পর আর টিকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি।

টিকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে স্বীকার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান।

মনিরুল হাসান বলেন, কতজন শিক্ষার্থী দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য নেই। কারণ, এর আগে তিনবার টিকার তথ্য সংগ্রহের জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সাড়া দেননি। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি। তবে সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দুই ডোজ টিকার আওতায় এসেছেন বলে তিনি জানেন।

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.