The Rising Campus
News Media

গাণিতিক সমীকরণ ব্যবহারে ছবি আঁকেন মিথুন দে

রাবি প্রতিনিধি: করোনাকালীন সময়ে পুরো পৃথিবী যেখানে স্থবির তখন অবসর সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় ভাবছিলেন তিনি। এরপর শুরু হলো তার পথ চলা। ডেসমোস অ্যাপ দিয়ে ম্যাথমেটিক্যাল ইকুয়েশনকে (গাণিতিক সমীকরণ) কাজে লাগিয়ে তৈরি করতে লাগলো জটিলসব চিত্রকর্ম।

বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী মিথুন দে’র কথা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। এরই মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে তার এই গাণিতিক সমীকরণের চিত্রকর্ম।

মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, প্রধান ফটক, শহীদ মিনারসহ বাংলাদেশের মাত্রচিত্র, স্মৃতিসৌধ, ফুটবলার রোনালদো, মেসি, ডেভিড ব্যাকহাম, ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার, ক্যাপটেন কুল এমএস ধোনি, অভিনেতা শাহরুখ খান, কাজল, ক্যাটরিনা কাইফ, চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গায়ক মাইকেল জ্যাকসন কিংবা জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র সিসিমপুরের ইকরি, হালুম, টুকটুকিসহ যে কারো ছবি গাণিতিক হিসাব কষে কিংবা ডিজিটাল আর্ট ব্যবহার করে আঁকতে পারেন মিথুন। এসব ছবি আঁকার ক্ষেত্রে ডেসমস অ্যাপ এবং ডিজিটাল আর্ট ব্যবহার করেন তিনি।

চমৎকার এসব চিত্রকর্মের জাদুকর মিথুন এর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। আলাপকালে মিথুন বলেন, গাণিতিক সমীকরণের মাধ্যমে ডেসমোস অ্যাপের সাহায্যে আমি এগুলো করে থাকি। আমরা যখন স্কুলে সরলরেখা বা বৃত্ত এর গণিত করার সময় চিত্র কেমন হবে তা দেখার জন্য এক ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করতাম সেটাই ডেসমোস অ্যাপ। আমাদের গাণিতিক বিজ্ঞানে সমীকরণের অভাব নেই। এই সব সমীকরণ ব্যবহারের গ্রাফ রয়েছে এবং সেটি কোন না কোন ভাবে পটভূমি তৈরি করা যায়। এই সকল সমীকরণের গ্রাফ করেই আমি এই ছবিগুলো আঁকি।

তিনি আরো বলেন, এসব চিত্রকর্ম আঁকা যেমন শ্রমসাধ্য তেমনি সময়সাপেক্ষ। একেকটা ডেসমোস আর্ট করতে প্রায় ১৬-২০ ঘণ্টার মতন সময় লাগে। এখন সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমি সব ধরনের ছবি আঁকতে পারি। এই ধরনের আর্ট পৃথিবীতে খুব কম মানুষ করে। বাংলাদেশেও খুব কম সংখ্যক মানুষ রয়েছে যারা এমন কাজ করে। কারণ এতো দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করাটা ঝামেলার এবং প্রত্যেকটা সমীকরণ ধরে ধরে কাজটি করতে হয়। এই কাজ গুলো সবার মাঝে তুলে ধরতে আমি আমার কাজের ছবি গুলো আমার ফেসবুক পেজে দিয়ে থাকি ইচ্ছে করলে আপনিও দেখে আসতে পারেন নাম the data artist।

এবিষয়ে জানতে চাইলে পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. গোলাম হোসাইন বলেন, অসাধারণ তার একটি শিল্প শৈলী হলো ম্যাথমেটিক্যাল ইকুয়েশনের মাধ্যমে কোনো স্কেচ তৈরি করা। আমি প্রথম যখন তার স্কেচগুলো দেখি তখন সত্যিই অভিভূত হয়ে যাই। ম্যাথমেটিক্সের ইকুয়েশনকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো স্কেচ আঁকা আসলেই অনেক কঠিন একটি কাজ। আর সেই কাজটি খুব অবলীলায় করে যায় মিথুন দে। আমার জানা মতে, মিথুন দে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যক্তি যে এই কাজটা করে। আমি মিথুন দের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করি এবং সে তার শিল্পকর্ম নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাক সেই প্রার্থনা করি।

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.