The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪

খুবি উপাচার্যের বর্ণীল শিক্ষাজীবন

খুবি প্রতিনিধি: উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও কাঠ প্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের একজন অধ্যাপক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিযুক্ত দ্বিতীয় উপাচার্য।

প্রফেসর ড.মাহমুদ হোসেন ১৯৭২ সালের ২২ আগস্ট বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মধ্য কচুবুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোজাম্মেল হোসেন ও মাতা জাহানারা বেগম।

তিনি বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক, বাগেরহাট সরকারি পি.সি. কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক, ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট থেকে বনবিদ্যায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানগ্রোভ বাস্তুবিদ্যায় স্নাতকোত্তর এবং ২০০৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও কাঠ প্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের প্রভাষক পদে ১৯৯৯ সালে যোগদান করেন। তিনি ২০০১ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০০৫ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৯ সাল থেকে অধ্যাপক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, বনায়ন ও কাঠ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বোর্ড অব এ্যাডভান্স স্ট্যাডিজের সদস্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফে০ডারেশনের সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২১ সালের ২৫শে মে অধ্যাপক ড.মাহমুদ হোসেন চার বছর মেয়াদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ২য় উপাচার্য।

উপাচার্য অধ্যাপক ড.মাহমুদ হোসেন দেশি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে ১০৫টির অধিক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ২০২১ সাল পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩টি এবং অনুবাদ গ্রন্থের সংখ্যা ২টি। দেশি ও বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে তিনি বহু গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। তার উদ্যোগ ও নেতৃত্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ স্থাপিত হয়েছে। কর্মমেয়াদের দুই বছরে উপাচার্যের দক্ষ নেতৃত্বে, সর্বক্ষেত্রে এসেছে আধুনিকতা, একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এসেছে গতিশীলতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান, যা ছিলো চোখে পড়ার মতো।

উপাচার্য হিসেবে প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও একজন শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত ক্লাস নেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন। সুন্দরবনের ওপর রয়েছে তার গবেষণার খ্যাতি। সুন্দরবনসহ দেশের বৃক্ষরাজি, পরিবেশ ও প্রতিবেশ তথা জীববৈচিত্র্য নিয়ে তার বিভিন্ন গবেষণা নিবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ইন্টারন্যাশনাল হাইফেক্টর জার্নালে গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশনায় রেজিস্ট্রেশন ফিস প্রদান, প্রত্যেক স্কুলকে প্রত্যেক বছর কমপক্ষে একটি জাতীয়/আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং প্রত্যেক বছর প্রত্যেক ডিসিপ্লিনে কমপক্ষে একটি সেমিনার/কর্মশালা আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান স্কুলের জন্য একটি গ্রিনহাউস স্থাপন। জীববিজ্ঞানভিত্তিক ৭টি বিভাগসমূহের জন্য মাঠ গবেষণারে প্রয়োজনীয় জমিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী একশত বছরের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ২০৩ একর জমি অধিগ্রহণ, কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে স্থাপিত গবেষণা যন্ত্রপাতির আইএসও সার্টিফাইড করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কাজে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুবিধার্থে একটি ইন্টারন্যাশনাল হল তৈরি।

এখানেই শেষ নয়, তিনি এডি সাইন্টিফিক ইনডেক্স নামের আন্তর্জাতিক সংস্থার ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করেন। এই তালিকায় মাহমুদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও বনায়নে এবং পৃথকভাবে বনায়ন উভয় শ্রেণীতে ১ম , দেশে বনায়ন বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৪র্থ , এশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ১৫১তম ও বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৮২৫তম স্থান লাভ করেন

শিক্ষক,গবেষক ও উপাচার্য প্রফেসর ড.মাহমুদ হোসেন তার দুই বছর মেয়াদ পূর্তির প্রাক্কালে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার গড়ার স্বপ্ন পূরণে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান সৃষ্টিতে নানামুখী উদ্যোগ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. ক্যাম্পাস
  3. খুবি উপাচার্যের বর্ণীল শিক্ষাজীবন

খুবি উপাচার্যের বর্ণীল শিক্ষাজীবন

খুবি প্রতিনিধি: উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও কাঠ প্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের একজন অধ্যাপক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিযুক্ত দ্বিতীয় উপাচার্য।

প্রফেসর ড.মাহমুদ হোসেন ১৯৭২ সালের ২২ আগস্ট বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মধ্য কচুবুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোজাম্মেল হোসেন ও মাতা জাহানারা বেগম।

তিনি বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক, বাগেরহাট সরকারি পি.সি. কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক, ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট থেকে বনবিদ্যায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানগ্রোভ বাস্তুবিদ্যায় স্নাতকোত্তর এবং ২০০৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও কাঠ প্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের প্রভাষক পদে ১৯৯৯ সালে যোগদান করেন। তিনি ২০০১ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০০৫ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৯ সাল থেকে অধ্যাপক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, বনায়ন ও কাঠ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বোর্ড অব এ্যাডভান্স স্ট্যাডিজের সদস্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফে০ডারেশনের সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২১ সালের ২৫শে মে অধ্যাপক ড.মাহমুদ হোসেন চার বছর মেয়াদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ২য় উপাচার্য।

উপাচার্য অধ্যাপক ড.মাহমুদ হোসেন দেশি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে ১০৫টির অধিক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ২০২১ সাল পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩টি এবং অনুবাদ গ্রন্থের সংখ্যা ২টি। দেশি ও বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে তিনি বহু গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। তার উদ্যোগ ও নেতৃত্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ স্থাপিত হয়েছে। কর্মমেয়াদের দুই বছরে উপাচার্যের দক্ষ নেতৃত্বে, সর্বক্ষেত্রে এসেছে আধুনিকতা, একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এসেছে গতিশীলতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান, যা ছিলো চোখে পড়ার মতো।

উপাচার্য হিসেবে প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও একজন শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত ক্লাস নেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন। সুন্দরবনের ওপর রয়েছে তার গবেষণার খ্যাতি। সুন্দরবনসহ দেশের বৃক্ষরাজি, পরিবেশ ও প্রতিবেশ তথা জীববৈচিত্র্য নিয়ে তার বিভিন্ন গবেষণা নিবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ইন্টারন্যাশনাল হাইফেক্টর জার্নালে গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশনায় রেজিস্ট্রেশন ফিস প্রদান, প্রত্যেক স্কুলকে প্রত্যেক বছর কমপক্ষে একটি জাতীয়/আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং প্রত্যেক বছর প্রত্যেক ডিসিপ্লিনে কমপক্ষে একটি সেমিনার/কর্মশালা আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান স্কুলের জন্য একটি গ্রিনহাউস স্থাপন। জীববিজ্ঞানভিত্তিক ৭টি বিভাগসমূহের জন্য মাঠ গবেষণারে প্রয়োজনীয় জমিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী একশত বছরের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ২০৩ একর জমি অধিগ্রহণ, কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে স্থাপিত গবেষণা যন্ত্রপাতির আইএসও সার্টিফাইড করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কাজে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুবিধার্থে একটি ইন্টারন্যাশনাল হল তৈরি।

এখানেই শেষ নয়, তিনি এডি সাইন্টিফিক ইনডেক্স নামের আন্তর্জাতিক সংস্থার ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করেন। এই তালিকায় মাহমুদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও বনায়নে এবং পৃথকভাবে বনায়ন উভয় শ্রেণীতে ১ম , দেশে বনায়ন বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৪র্থ , এশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ১৫১তম ও বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৮২৫তম স্থান লাভ করেন

শিক্ষক,গবেষক ও উপাচার্য প্রফেসর ড.মাহমুদ হোসেন তার দুই বছর মেয়াদ পূর্তির প্রাক্কালে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার গড়ার স্বপ্ন পূরণে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান সৃষ্টিতে নানামুখী উদ্যোগ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন