The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪

এতিমখানায় বেড়ে ওঠা দুই ভাই এখন পুলিশ

টিআরসি রিপোর্টঃ দুই ভাই ইসমাইল আকন্দ ও ইউসুফ আলী। তাদের বাবা হাসেন আলী ছিলেন দিনমজুর। ছিল না মাথা গোঁজার ঠাঁই। ছোট ছেলে ইউসুফ আলীর বয়স যখন আড়াই বছর তখন তারা তার বাবাকে হারান। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন মা দোলেনা বেওয়া। দুই সন্তানের মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দিতে কখনো চাতালশ্রমিকের কাজ করেছেন, কখনো গ্রামে গ্রামে শাড়ি ফেরি করেছেন।

অভাবের সংসার, শেষ পর্যন্ত দুই ভাই সমাইল আকন্দ ও ইউসুফ আলীর ঠাঁই হয় জয়পুরহাট সরকারি শিশু পরিবারে। এই এতিমখানাতেই বড় হয়েছেন দুজন। এসএসসি, এইচএসসি পেরিয়ে ভর্তি হয়েছেন স্নাতকে। তাঁরা এখন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্য। বড় ভাই ইসমাইল আকন্দ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কনস্টেবল পদে আছেন প্রায় তিন বছর। ছোট ভাই ইউসুফ আলীও এ বছর পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নির্বাচিত হয়েছেন। জয়পুরহাট সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ছেন ইউসুফ। আর ইসমাইল পুলিশের চাকরির পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক করছেন।

শারীরিক, লিখিতসহ বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে পুলিশ কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী। নিজের নাম শুনে আনন্দে কেঁদে ফেলেন ইউসুফ।

ইসমাইল আকন্দ ও ইউসুফ আলীর গর্বিত মা দোলেনা বেওয়া বললেন, ‘শিশুসন্তান রেখে চাতালে কাজে যেতে সমস্যা হতো। বাধ্য হয়ে ২০০৬ সালে বড় ছেলে ইসমাইল আকন্দকে শিশু পরিবারে রেখে আসি। ২০০৮ সালে রেখে আসি ছোট ছেলে ইউসুফকে। এতিমখানায় কষ্ট করে বড় হওয়া দুই ছেলে এখন পুলিশে চাকরি পেয়েছে। গর্বে আমার বুক ভরে গেছে। এত দিন মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই করতে পারিনি। ভাইয়ের বাড়িতে একটা ঘরে কোনো রকম ছেলেদের নিয়ে থাকি। চাকরির উপার্জনে ছেলেরা একটা বাড়ি করবে বলেছে।

ইউসুফ বলেন, ‘বগুড়া জেলায় পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে এতিম কোঠায় আবেদন করি। কয়েক ধাপে পরীক্ষা শেষে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছি। শৈশব থেকে এতিমখানায় বড় হওয়ায় জীবনে মায়ের কোনো ইচ্ছাই পূরণ করতে পারিনি। এবার চাকরি করে মায়ের জন্য কিছু করতে চাই। পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাব।

বড় ভাই ইসমাইল আকন্দ বলেন, ‘এতিমখানায় আমাদের শিক্ষকেরা খুব আন্তরিক ছিলেন। মা-বাবার মতোই তাঁরা স্নেহ-আদরে লালন-পালন করেছেন। তাঁদের অনুপ্রেরণাতেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। ২০১৬ সালে জয়পুরহাট কাশিয়াবাড়ি উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৪ নিয়ে এসএসসি পাসের পর সিরাজগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। বাড়িতে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে এসএসসি পাসের পর সেনাবাহিনীর সৈনিক, পুলিশ কনস্টেবল, নৌবাহিনীর সদস্য, বিজিবির জওয়ান পদে চাকরির জন্য একের পর এক অংশ নিয়েছি। অবশেষে ২০১৯ সালে এতিম কোঠায় পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হই। প্রশিক্ষণ শেষে ডিএমপিতে যোগদান করেছি।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. উদ্যোক্তা ও সফলতার গল্প
  3. এতিমখানায় বেড়ে ওঠা দুই ভাই এখন পুলিশ

এতিমখানায় বেড়ে ওঠা দুই ভাই এখন পুলিশ

টিআরসি রিপোর্টঃ দুই ভাই ইসমাইল আকন্দ ও ইউসুফ আলী। তাদের বাবা হাসেন আলী ছিলেন দিনমজুর। ছিল না মাথা গোঁজার ঠাঁই। ছোট ছেলে ইউসুফ আলীর বয়স যখন আড়াই বছর তখন তারা তার বাবাকে হারান। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন মা দোলেনা বেওয়া। দুই সন্তানের মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দিতে কখনো চাতালশ্রমিকের কাজ করেছেন, কখনো গ্রামে গ্রামে শাড়ি ফেরি করেছেন।

অভাবের সংসার, শেষ পর্যন্ত দুই ভাই সমাইল আকন্দ ও ইউসুফ আলীর ঠাঁই হয় জয়পুরহাট সরকারি শিশু পরিবারে। এই এতিমখানাতেই বড় হয়েছেন দুজন। এসএসসি, এইচএসসি পেরিয়ে ভর্তি হয়েছেন স্নাতকে। তাঁরা এখন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্য। বড় ভাই ইসমাইল আকন্দ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কনস্টেবল পদে আছেন প্রায় তিন বছর। ছোট ভাই ইউসুফ আলীও এ বছর পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নির্বাচিত হয়েছেন। জয়পুরহাট সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ছেন ইউসুফ। আর ইসমাইল পুলিশের চাকরির পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক করছেন।

শারীরিক, লিখিতসহ বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে পুলিশ কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী। নিজের নাম শুনে আনন্দে কেঁদে ফেলেন ইউসুফ।

ইসমাইল আকন্দ ও ইউসুফ আলীর গর্বিত মা দোলেনা বেওয়া বললেন, ‘শিশুসন্তান রেখে চাতালে কাজে যেতে সমস্যা হতো। বাধ্য হয়ে ২০০৬ সালে বড় ছেলে ইসমাইল আকন্দকে শিশু পরিবারে রেখে আসি। ২০০৮ সালে রেখে আসি ছোট ছেলে ইউসুফকে। এতিমখানায় কষ্ট করে বড় হওয়া দুই ছেলে এখন পুলিশে চাকরি পেয়েছে। গর্বে আমার বুক ভরে গেছে। এত দিন মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই করতে পারিনি। ভাইয়ের বাড়িতে একটা ঘরে কোনো রকম ছেলেদের নিয়ে থাকি। চাকরির উপার্জনে ছেলেরা একটা বাড়ি করবে বলেছে।

ইউসুফ বলেন, ‘বগুড়া জেলায় পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে এতিম কোঠায় আবেদন করি। কয়েক ধাপে পরীক্ষা শেষে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছি। শৈশব থেকে এতিমখানায় বড় হওয়ায় জীবনে মায়ের কোনো ইচ্ছাই পূরণ করতে পারিনি। এবার চাকরি করে মায়ের জন্য কিছু করতে চাই। পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাব।

বড় ভাই ইসমাইল আকন্দ বলেন, ‘এতিমখানায় আমাদের শিক্ষকেরা খুব আন্তরিক ছিলেন। মা-বাবার মতোই তাঁরা স্নেহ-আদরে লালন-পালন করেছেন। তাঁদের অনুপ্রেরণাতেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। ২০১৬ সালে জয়পুরহাট কাশিয়াবাড়ি উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৪ নিয়ে এসএসসি পাসের পর সিরাজগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। বাড়িতে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে এসএসসি পাসের পর সেনাবাহিনীর সৈনিক, পুলিশ কনস্টেবল, নৌবাহিনীর সদস্য, বিজিবির জওয়ান পদে চাকরির জন্য একের পর এক অংশ নিয়েছি। অবশেষে ২০১৯ সালে এতিম কোঠায় পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হই। প্রশিক্ষণ শেষে ডিএমপিতে যোগদান করেছি।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন