The Rising Campus
Education, Scholarship, Job, Campus and Youth
মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪

ইবি শিক্ষার্থীকে মারধর ; বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক শিক্ষার্থীর উপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীর নাম মোবারক হোসেন আশিক। সে ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রবিবার (৭ মে) সকাল ১০টার দিকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর আবেদন করেন ভুক্তভোগী।

আবেদন পত্র সূত্রে, মোবারক হোসেন তার বন্ধুদের নিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান গেট সংলগ্ন ‘শিপন টি স্টলে’ চা খাওয়ার জন্য বসেছিল। ঠিক সে সময় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুসফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লাঠিসহ দেশীয় কিছু অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। এসময় আশিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতেই আশিক সরে যায় ফলে তার হাতে আঘাত লেগে হাত কেটে যায়। এরপর তাকে লাঠি ও বাঁশ দিয়ে তার মাথায়, পিঠে, হাতে ও পায়ে আঘাত করা হয়। ফলে আশিক দৌড়ে ক্যাম্পাসের দিকে যায় তখন তাকে আবারও আঘাত করা হয়। এসময় আশিককে তার বন্ধু ও বড়ভাই এসে উদ্ধার করে ইবি মেডিকেল নিয়ে যায়। শরীরের আঘাত গুরুতর হওয়ার ফলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে রেফার করে।

এর ফলে রবিবার (৭ মে) মুশফিকুর রহমান ও তার সহযোগীদের সনাক্ত করে প্রক্টর বরাবর দ্রুত বিচারের আবেদন জানায় মোবারক হোসেন আশিক। এছাড়া স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করার অনুরোধ ও পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার প্রত্যাশা করে লিখিত আবেদন করেন ভুক্তভোগী।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অভিযুক্ত মুশফিকুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি কাউকে মারধর করিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা বসেছিলাম। আগের একটি ঘটনার (ব্যাচ- ডে অনুষ্ঠানে টি-শার্ট বিতরণ নিয়ে মারামারি) জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। আগের ঘটনায় একটা তদন্ত কমিটি হয়েছিলো। সেই কমিটির কাছে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা খুব দ্রুতই অ্যাকশনে যাব।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা মিলে গত ১৬ মার্চ বাংলা মঞ্চে ব্যাচ ভিত্তিক অনুষ্ঠান অবতরণিকা উৎসবের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে টি-শার্ট বিতরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতরা সেদিনই তাদের উপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ করে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আহতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে গত ২২ মার্চ তিন সদস্যের একটি তদন্ত করে দেয় প্রশাসন। কিন্তু তদন্ত কমিটি এখন অবধি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি বলে জানা গেছে। এছাড়া ধারণা করা হচ্ছে পূর্বের ওই ঘটনার জের ধরেই উক্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. প্রচ্ছদ
  2. ক্যাম্পাস
  3. ইবি শিক্ষার্থীকে মারধর ; বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর আবেদন

ইবি শিক্ষার্থীকে মারধর ; বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক শিক্ষার্থীর উপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীর নাম মোবারক হোসেন আশিক। সে ল' এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রবিবার (৭ মে) সকাল ১০টার দিকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর আবেদন করেন ভুক্তভোগী।

আবেদন পত্র সূত্রে, মোবারক হোসেন তার বন্ধুদের নিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান গেট সংলগ্ন 'শিপন টি স্টলে' চা খাওয়ার জন্য বসেছিল। ঠিক সে সময় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুসফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লাঠিসহ দেশীয় কিছু অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। এসময় আশিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতেই আশিক সরে যায় ফলে তার হাতে আঘাত লেগে হাত কেটে যায়। এরপর তাকে লাঠি ও বাঁশ দিয়ে তার মাথায়, পিঠে, হাতে ও পায়ে আঘাত করা হয়। ফলে আশিক দৌড়ে ক্যাম্পাসের দিকে যায় তখন তাকে আবারও আঘাত করা হয়। এসময় আশিককে তার বন্ধু ও বড়ভাই এসে উদ্ধার করে ইবি মেডিকেল নিয়ে যায়। শরীরের আঘাত গুরুতর হওয়ার ফলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে রেফার করে।

এর ফলে রবিবার (৭ মে) মুশফিকুর রহমান ও তার সহযোগীদের সনাক্ত করে প্রক্টর বরাবর দ্রুত বিচারের আবেদন জানায় মোবারক হোসেন আশিক। এছাড়া স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করার অনুরোধ ও পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার প্রত্যাশা করে লিখিত আবেদন করেন ভুক্তভোগী।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অভিযুক্ত মুশফিকুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি কাউকে মারধর করিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা বসেছিলাম। আগের একটি ঘটনার (ব্যাচ- ডে অনুষ্ঠানে টি-শার্ট বিতরণ নিয়ে মারামারি) জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। আগের ঘটনায় একটা তদন্ত কমিটি হয়েছিলো। সেই কমিটির কাছে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা খুব দ্রুতই অ্যাকশনে যাব।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা মিলে গত ১৬ মার্চ বাংলা মঞ্চে ব্যাচ ভিত্তিক অনুষ্ঠান অবতরণিকা উৎসবের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে টি-শার্ট বিতরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতরা সেদিনই তাদের উপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ করে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আহতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে গত ২২ মার্চ তিন সদস্যের একটি তদন্ত করে দেয় প্রশাসন। কিন্তু তদন্ত কমিটি এখন অবধি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি বলে জানা গেছে। এছাড়া ধারণা করা হচ্ছে পূর্বের ওই ঘটনার জের ধরেই উক্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন