চাকরির ১০ বছর পর বেসরকারি শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড

অবশেষে টাইম স্কেলের বদলে বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চাকরির ১০ বছর পূর্তি থেকে উচ্চতর গ্রেডের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরকে রোববার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এমপিও কমিটির সভায় উচ্চতর গ্রেডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপর বলা হয় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলেই মাঠ পর্যায় থেকে টাইমস্কেলের বদলে বেসরকারি স্কুল-কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেডের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।

দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর গত ৩১ মে বিষয়টি স্পষ্ট করে একটি চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। স্পষ্টীকরণ চিঠির প্রেক্ষিতে শিক্ষকদের চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (৭ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়টি আটকে ছিল। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উচ্চতর স্কেল প্রদানের বিষয়ে অর্থ বিভাগের স্মারকে স্পষ্টীকরণসহ মতামত প্রদান করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরােধ করা হয়েছে।

স্পষ্টীকরণের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, চাকরি ১০ বছর পূর্তিতে শিক্ষকরা একটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন। তবে, ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাবেন কি-না বা দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড শিক্ষকরা কবে পাবেন তা আদালত নির্ধারণ করবেন।

জানা যায়, এমপিও নীতিমালার ১০ বছর পূর্তি এবং ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেয়ার কথা ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা জটিলতা থাকায় গত মার্চ মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টির স্পষ্টীকরণ চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। গত ৩১ মে বিষয়টি স্পষ্ট করে চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে শিক্ষকরা জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী উচ্চতর স্কেল পাবেন। তবে, চাকরি ১৬ বছর পূর্তিতে শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান আছে। তাই এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই।

এমপিও বিধিমালায় টাইম স্কেলের পরিবর্তে উচ্চতর বেতন স্কেলের কথা বলা হয়েছে। ২০১৫ সালের যে পে-স্কেল সেই পে-স্কেলেই টাইম স্কেলকে বাদ দেয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের যে এমপিও বিধিমালা, সেখানে উচ্চতর বেতন স্কেল হিসেবেই এটা ধরা আছে। টাইম স্কেলের নিয়মেই ‘উচ্চতর গ্রেড’ পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।