অনলাইন ক্লাস ও প্রাসঙ্গিকতা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ১৮ মার্চ থেকে সরকার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। পরবর্তীতে গত ২৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকার কারণে ছাত্রছাত্রীদের যে ক্ষতি হচ্ছে তা সাময়িক ভাবে পূরণ করার লক্ষ্যে শিক্ষকদেরকে অনলাইন ক্লাস নিতে বলা হয়।

পরবর্তীতে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে এর পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও সমালোচনার উদ্রেক হয়।একইসাথে দেশের এ পরিস্থিতে অনলাইনে ক্লাস গ্রহণের প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টি সামনে আসে।

যদিও গত ৬ এপ্রিল আবারও এক বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানায়  ইউজিসি।

এখন সকল সরকারি ও বেসরকারি  বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধু মাত্র অনলাইন ক্লাস চালু আছে, কোনো পরীক্ষা, মূল্যায়ন, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম  হচ্ছে না। বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত কোনো সরকারি  অনুদান বা সহায়তা পায় না। নন- প্রফিট অরগানাইজেশান হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রদেয় বেতন দিয়ে শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে থাকে।

সেমিস্টার সিস্টেমে বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়ায়, মিড বা ফাইনাল পরীক্ষা না হলে এবং  নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে তাদের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা প্রদান করার সামর্থ্য হারাবে, অনেকে চাকরিচ্যুত হবেন।

এছাড়াও, শিক্ষার্থীরা একটি দীর্ঘমেয়াদি সেশনজটে পড়বে যা সহজে কমানোর কোনো উপায় থাকবে না। সর্বোপরি দেশের উচ্চশিক্ষায় একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

ইতোমধ্যে দেশের উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম একমাসের বেশি সময় ধরে ব্যাহত হচ্ছ,  এমতাবস্থায় অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলার উৎস বন্ধ প্রায়। অথচ একই সময়ে বিশ্বের ভালো মানের  বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম  বন্ধ হয়নি, তারা সবসময়ের মতো দূর শিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাাচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীই ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়ন করছেন।

তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কোর্স, শর্টকোর্স, প্রেজেন্টেশন, কনফারেন্স অনলাইনেই সম্পন্ন করা যায়।  এমনকি ইউরোপ, আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছে দেশে বসে, এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।