শিরোনাম
নিজেই নিজের বেতন বাড়ালেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খানের বিরুদ্ধে নিজেই নিজের বেতন বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্য ডা. মো. ইসমাইল খানের নিয়োগ অনুযায়ী বেতন স্কেল তৃতীয় গ্রেডে হওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিয়ম না মেনে প্রথম গ্রেডে বেতন নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এমনকি তার নিজের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সিন্ডিকেটে পাসও করিয়ে নিয়েছেন। যা সঠিক হয়নি বলে মত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
এছাড়া তিনি নিজের ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব তহবিল থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। উপাচার্যের বেতন বৃদ্ধিসহ এ রকম সাত খাতে প্রতিষ্ঠানটিতে আর্থিক অনিয়ম পেয়েছে ইউজিসির পর্যবেক্ষক দল। ইউজিসিকে এসব অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছে দলটি। ইউজিসির বাজেট পর্যালোচনা দল চমেবির আটটি খাতে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে সাতটি খাতে আর্থিক অনিয়ম পাওয়ার কথা জানায় দলটি। গত মাসের ২৩ তারিখে এসব বিষয় উল্লেখ করে একটি পরিপত্র প্রকাশ করে ইউজিসি।
ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপপরিচালক (বাজেট) মো. হাফিজুর রহমানের সই করা ওই পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য সর্বশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে আহরিত বেতন-ভাতাদির সমপরিমাণ অর্থ মাসিক বেতন হিসেবে প্রাপ্য হবেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নিয়ম পরিবর্তন করে তাঁর বেতন প্রথম গ্রেডে উন্নীত করে। এই এখতিয়ার সিন্ডিকেটের নেই।
উল্লেখ্য, সরকারের সর্বশেষ পে-স্কেল অনুযায়ী প্রথম গ্রেডে সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট বেতন-ভাতা দাঁড়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
কিন্তু চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ইসমাইল খান প্রথম গ্রেডে মূল বেতন পান ৮৩ হাজার টাকা। আর ভাতাসহ তিনি পান মোট প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। অথচ তাঁর তৃতীয় স্কেলে মূল বেতন ছিল ৭৪ হাজার টাকা। এ অবস্থায় এলপিসি অনুযায়ী তাঁর বেতন নেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সুপারিশ করেছে ইউজিসির পর্যবেক্ষণ দল।
এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন ও ডিপিপিসংক্রান্ত সমন্বয় সভার ব্যয় বাবদ রাজস্ব খাত থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পরিশোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়। এতেও নিয়মের ব্যত্যয় এবং আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ইউজিসির পর্যবেক্ষণ দল। তারা মতামত দেয়, উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো প্রকার অর্থ রাজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করা যাবে না। এরপরও রাজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করায় আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য ইসমাইল খান বলেন, ‘২০১২ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে বেতন স্কেল গ্রেড-৩-তে ফার্মাকোলজি বিভাগে অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলাম। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ ও ডিন হিসেবে যোগদান করি। সব মিলিয়ে আমার প্রফেশনালিজম অনেক বছরের, সে জন্য প্রথম গ্রেডে বেতন নেওয়ার যোগ্যতা রাখি।’
এছাড়া , ‘ইউজিসি ২০২১-২২ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে চিকিৎসা বাবদ ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। সেটি আমি খরচ করি। এই সব বিষয়ে ইউজিসিকে লিখিত আকারে জানিয়েছি।’
তবে ইউজিসি কতৃপক্ষ বলছে , তৃতীয় গ্রেডে নিয়োগ হয়েও প্রথম গ্রেডে বেতন নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটে পাস করলেও পারা যায় না। এলপিসি অনুযায়ী বেতন নিতে হবে। এই নিয়ম না মানলে অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির আবেদন শুরু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষবর্ষে (জুলাই-ডিসেম্বর) পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষর্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
আবেদন পত্রটি সঠিকভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের অফিসে জমা দিয়ে পিএইচডি ভর্তির আবেদন করতে হবে। আবেদন পত্রের সাথে গবেষণার একটি রূপরেখাও (Synopsis) জমা দিতে হবে এর সঙ্গে। বিদেশ থেকে অর্জিত ডিগ্রির সমতা নিরূপণের পর ভর্তির আবেদন করতে হবে। কোনো তথ্য গোপন করলে বা ভুল তথ্য দিলে ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে (https://du.ac.bd)।

আবেদন করতে যা দরকার: আবেদনপত্রটি যথাযথ ভাবে পূরন করে এটির সাথে জনতা ব্যাংক টিএসসি শাখায় এক হাজার টাকা জমার রশিদের মূলকপি, সব পরীক্ষার নম্বরপত্রের ফটোকপি ও সম্প্রতি তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক বা বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের মাধ্যমে সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য প্রার্থীকে এমফিল পাস অথবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা তিন বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান ও এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রির অধিকারী হতে হবে। প্রার্থীদের সব পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ বা শ্রেণিসহ ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। সিজিপিএর নিয়মে মাধ্যমিক বা সমমান থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সব পরীক্ষায় সিজিপিএ–৫-এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫ অথবা সিজিপিএ–৪-এর মধ্যে ৩ থাকতে হবে। প্রার্থীদের স্বীকৃতমানের জার্নালে প্রকাশিত কমপক্ষে দুটি গবেষণা প্রবন্ধ থাকতে হবে।
কলা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ক্ষেত্রে অন্তত একটি গবেষণা প্রকাশনা একক নামে হতে হবে। চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান এবং এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ে কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুই বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা কোনো স্বীকৃতমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুই বছরের গবেষণাসংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বা সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুই বছরের চাকুরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনাঃ দেশের কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী প্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি প্রোগ্রামে সরাসরি ভর্তি হতে পারবেন না। পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির আগে তাঁদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের আবেদনপত্র সংগ্রহের আগে অর্জিত ডিগ্রির সমতা নিরূপণের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে দরখাস্ত করতে হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যের জন্য এমফিল-পিএইচডি শাখায় যোগাযোগ করা যাবে।
জাবিতে বার্ষিক সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত
আসিফুল ইসলাম, জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘৪০তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশন, ২০২৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
চলমান সিনেট অধিবেশনে উল্লেখযোগ্য কার্যবিবরণীগুলো হলো- ৩৯তম সিনেট সভার ভার্বেটিম রিপোর্ট অনুমোদন, ২০২২-২৩ সনের (সংশোধিত) এবং ২০২৩-২৪ সনের (মূল) রেকারিং বাজেট অনুমোদন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের খসড়া বার্ষিক প্রতিবেদন অনুমোদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজকে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিবেদনসহ স্ট্যাটিউট অনুসমর্থনের বিষয় বিবেচনা প্রভৃতি।
অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার এ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। এসময় চলতি (২০২৩-২৪) অর্থবছরের জন্য ২৯৪ কোটি ১৬ লাখ টাকার মূল বাজেট উত্থাপিত হয়। এবারের বাজেটে মোট আয়ের অধিকাংশই আসবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে প্রদত্ত ২৭১ কোটি ৮১ লাখ টাকার অনুদান থেকে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিকট হতে প্রাপ্ত ফিস বাবদ ৪ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার, ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রি থেকে আয় ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার, বিভিন্ন চার্জসমূহ কর্তন থেকে ৩ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি থেকে ২৩ লাখ এবং অন্যান্য সূত্র হতে ১ কোটি ১৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা আয় উল্লেখ করা হয়েছে।
অপরদিকে বাজেটে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে বেতন-ভাতা খাতে। এই খাতে ব্যয় হবে ১৭৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৫৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে পণ্য ও সেবা (সাধারণ আনুষঙ্গিক) ব্যয় বাবদ ৫৬ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ১৯ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং তৃতীয় অবস্থানে পণ্য ও সেবা (রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত) খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। চতুর্থ অবস্থানে আছে পেনশন ও অবসর সুবিধা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, পঞ্চম অবস্থানে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ষষ্ঠ অবস্থানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা খাতে ৪২ লাখ টাকা।
এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের মধ্যে অন্যান্য ব্যয় বাবদ ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি খাতের ব্যয় বাবদ ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাবদ ৫৫ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূলধন জাতীয় ব্যয় বাবদ ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
যেখানে গত (২০২২-২৩) অর্থবছরের মূল বরাদ্দ ছিল ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ২৮৭ কোটি ১ লাখ টাকা। গতবছরের চেয়ে চলতি বছরে মূল বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩ অনুযায়ী সিনেটের মোট সদস্য সংখ্যা ৯৩ জন। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য (শিক্ষা), উপউপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, সরকার মনোনীত পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা, স্পিকার মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, আচার্য মনোনীত পাঁচজন শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত পাঁচজন গবেষক প্রতিনিধি, একাডেমিক কাউন্সিল মনোনীত পাঁচজন কলেজ অধ্যক্ষ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের (ঢাকা) চেয়ারম্যান, ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি, ৩৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচিত পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি। তবে এবারের অধিবেশনে ১৩টি আসন শূন্য রয়েছে। চলতি সিনেট অধিবেশনে ৮০ জন সদস্যের মধ্যে ৬১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রায় ৩০ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বন্ধ থাকার ফলে ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম এ সিনেট অধিবেশন।
জাবিতে চালু হচ্ছে প্রকৌশল অনুষদ
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আই আই টি) নিয়ে সময়োপযোগী আরও কয়েকটি বিভাগের সমন্বয়ে প্রকৌশল অনুষদ চালু করা হবে।
আজ শনিবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ৪০তম সিনেট অধিবেশনে উপাচার্যের ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগ’ নামে একটি বিভাগ আছে। এই বিভাগটি চালু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিকতায় বেশ কিছু নতুন মাত্রা সংযোজিত হয়েছে। ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টস ফ্যাকাল্টি’ নামে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা এবং অবশিষ্ট প্রায় ৫০ কোটি টাকা ভারত সরকারের অনুদান।
উল্লিখিত পরিমান টাকা বরাদ্দ ও অনুদানের জন্য বাংলাদেশ এবং ভারতীয় সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে আমি সিএসই এবং আইআইটি নিয়ে সময়োপযোগী আরও কয়েকটি বিভাগের সমন্বয়ে প্রকৌশল অনুষদ নামে নতুন একটি অনুষদ চালু করতে ইচ্ছুক । এক্ষেত্রে আমি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করবো। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় যে ধাবমান সে ধারায় অংশগ্রহণের জন্য আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
জবির ছাত্রী হলের নবায়ন ফী জমার সময় বাড়লো ২৩ দিন
সাকিবুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’র নবায়ন ফী জমা দেয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে। ছাত্রীদের আবেদন সাপেক্ষে ফী জমার সময় আরও ২৩ দিন বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত হলের আবাসিক ছাত্রীরা ফী জমা দিতে পারবেন।
বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দীপিকা রাণী সরকার শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে তার স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নবায়ন ফী জমাদানের সময় বৃদ্ধির আবেদন বিবেচনায় সময় বাড়ানো হলো। আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত ছাত্রীরা হলের নবায়ন ফী জমা দিতে পারবেন। পরবর্তীতে এটি আর বৃদ্ধি করা হবে না৷ ফী জমা দেয়ার পর রশিদের এক কপি কক্ষ ও সিট নম্বর লিখে ছাত্রীদেরকে হলের অফিসে জমা দিতে হবে।
এর পূর্বে গত ৭ জুন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক দীপিকা রাণী সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে যে সকল ছাত্রীর আবাসিক সিট পাওয়ার এক বছর পূর্ণ হয়েছে তাদেরকে ৭ থেকে ২২ জুনের মধ্যে নবায়ন ফী বাবদ ৩ হাজার ৫শত টাকা প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে ছাত্রীদের আবেদন সাপেক্ষে ফী জমার সময় আরও ২৩ দিন বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে গত ৩ এপ্রিল আবাসিক ছাত্রীদের প্রত্যেকের বাৎসরিক সিট নবায়ন ফি ৫ হাজার ২শত ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে সময় বেধে দেয়ার কারণে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য