শিরোনাম
কুবিতে ধীরগতিতে ইন্টারনেট সেবা, বিরক্ত শিক্ষার্থীরা
নাবিদ, কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের বর্ধিত অংশে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওয়াইফাইয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পুরাতন অংশে ওয়াইফাই সংযোগ থাকলেও তা চলছে কচ্ছপ গতিতে। ফলে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে নানা ধরণের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তাদের দাবি, সময়ে সময়ে ওয়াইফাই সংযোগের দাবি জানালেও তা আমলে নিচ্ছে না প্রশাসন।
জানা যায়, গেল বছরের মার্চ থেকেই হলের বর্ধিত অংশে থাকতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও দীর্ঘদিন যাবত অন্যান্য আবাসিক হল ও পুরাতন অংশে ইন্টারনেট ধীর গতিতে চলছে। এতে বই পড়া, তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্রাউজিং করতে না পারা, অনলাইনের বিভিন্ন ক্লাসে সংযুক্ত হতে না পারার মতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ধীরগতির কারণে অকারণেই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হলের শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃহস্পতিবার অনলাইন ক্লাস থাকলেও আমরা ইন্টারনেট অসুবিধার কারণে ক্লাস করতে পারছি না। ফলে বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যের ডাটা কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে হলের শিক্ষার্থী দীপ চৌধুরী বলেন, যেখানে অনলাইন ক্লাস করা দূরহ সেখানে গবেষণার করার কথাতো হাস্যরসাত্মক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বারবার গবেষণার কথা বললেও সেদিকে মনোনিবেশ করতে পারছে না এই হলের শিক্ষার্থীরা।
বর্ধিত অংশে ইন্টারনেট সংযোগের দাবি করে শাহিনুল ইসলাম গালিব বলেন, ওয়াইফাই সংযোগের জন্য একবছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। প্রশাসন প্রতিবার আশ্বাস দিলেও ওয়ার্ক আউটের কথা বলে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রশাসন চাইলে আমরা ইন্টারনেট সংযোগ পেয়ে যেতাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, হলের ব্রডব্যান্ড (ওয়াইফাই) সংযোগের বিষয়ে প্রশাসন বরাবর দু'বার রিটেন দিয়েছি। প্রত্যয়পত্র (এলসি) নিয়ে একটু ঝামেলার কারনে একটু সময় লাগছে। তবে এখন পর্যন্ত আমার জানা মতে ওয়াইফাইয়ের যন্ত্রাংশগুলো আমদানির কাজ চলমান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবিষয়ে ভালো বলতে পারবে।
আইসিটি সেলের সিনিয়র প্রোগ্রামার মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের দিকে হলের বর্ধিত অংশের ব্রডব্যান্ড সংযোগের কাজ শুরু হতে পারে।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম. আবদুল মঈন বলেন, আমরা ভালো মানের ইন্টারনেট সংযোগ দিতে চাই। এজন্য যন্ত্রাংশগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। প্রত্যয়পত্র নিয়ে কিছু ঝামেলা থাকায় একটু সময় লাগছে। আশাকরি এ মাসের মধ্যেই ওয়াইফাই সমস্যার সমাধান হবে। কানেক্টিভিটি লস ও ধীর গতির বিষয়টি দ্রত সমাধান করা চেষ্টা করছি।
ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে কোইকা কান্ট্রি ডিরেক্টরের সাক্ষাৎ
কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (কোইকা) বিদায়ী কান্ট্রি ডিরেক্টর দো-ইয়ংআ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে তারা কোইকার আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ইউনিভার্সিটিইজ ইন বাংলাদেশ টু প্রমোট ইয়ুথ এন্টারপ্রেনারশিপ’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বাংলাদেশে সফলভাবে কার্যকাল শেষ করায় কোইকার বিদায়ী কান্ট্রি ডিরেক্টরকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং কোরিয়ার মধ্যে বিরাজমান দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোইকার আর্থিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি মেলা শুক্রবার
পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বসবে দিনব্যাপী পাখি মেলা। শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গণে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) মেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান মেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক মনিরুল বলেন, গত ২০ বছর ধরে পাখি মেলা করে আসছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। এবছরও আগামীকাল এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এ মেলায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, পাখির আলোকচিত্র ও পত্রপত্রিকা প্রদর্শনী, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা এবং সবার জন্য উন্মুক্ত পাখিবিষয়ক কুইজের আয়োজন করা হবে।
এবারের মেলায় সহ-আয়োজক হিসেবে থাকবে ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি, আইইউসিএন এবং বাংলাদেশ বন বিভাগ।
ছেলেকে পড়াতে ভ্যান বিক্রি করলেন বাবা, নতুন কিনে দিলেন ডিসি
মেধাবী ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যান বিক্রি করে দিয়েছিলেন বাবা হামিদুল ইসলাম। ভ্যান বিক্রি করা টাকায় ছেলেকে বই কিনে দেন তিনি। কিন্তু ছেলে মেহেদী হাসান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থের অভাবে থেমে যাচ্ছিল তার স্বপ্ন। তাই তার বাবা সহযোগিতার জন্য দ্বারস্থ হয়েছিলেন জেলা প্রশাসকের কাছে।
বিষয়টি জানার পর বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাৎক্ষনিক পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম ছেলেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আর্থিক সাহায্যসহ তার বাবা হামিদুল ইসলামকে নতুন ভ্যান কিনে দিয়েছেন। ডিসির কাছ থেকে নতুন ভ্যান পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন হামিদুল।
জেলা সদরের ধাক্কামারা ইউনিয়নের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা ভ্যানচালক হামিদুল ইসলাম। মাত্র ২ শতক জমির ওপর তাদের বসতঘর। সেখানে স্ত্রী, এক মেয়ে ও ছেলে মেহেদীকে নিয়ে চলছে তাদের অভাবের সংসার। একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান ছোট থেকেই মেধাবী। উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফলাফলের পর তাকে কোচিং করাতে টাকার প্রয়োজন হয়। হামিদুল ছেলের কোচিং ও বই কেনার খরচ জোগাতে বিক্রি করে দেন নিজের ভ্যানটি। সেই টাকায় মেহেদী বই কেনা ও কোচিংয়ের খরচ দেন তিনি। পরে ভাড়ায় একটি ভ্যান থেকে চলত তার সংসার। তাই সংসার ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও টাকার অভাবে ভর্তি আটকে যাচ্ছিল। তাই এক বন্ধুর পরামর্শে জেলা প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করলে আমাকে ডিসি স্যার তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা দেন। আমি জেনেছি, আমার মতো অসংখ্য হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য টাকা দিয়েছেন তিনি। স্যার অত্যন্ত মানবিক। আজ আবার বাবাকে নতুন ভ্যান কিনে দিয়েছেন। ডিসি স্যারের এমন উপকার আজীবন মনে রাখব।
জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতি বুধবার সাধারণ মানুষের জন্য গণশুনানির দিন নির্ধারিত করে রেখেছে জেলা প্রশাসন। তাই গণশুনানির দিনে ভ্যানচালক হামিদুলের মতো অনেকেই অনেক ধরণের সমস্যা নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা আসেন। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়, কেউ মেডিকেল কলেজে ভর্তিসহ বই কেনার আর্থিক সাহায্যের জন্য। আমার চেষ্টা থাকে এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা এবং দুঃস্থদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
বইমেলায় আসছে রাবি শিক্ষার্থী গোপাল রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ
লিমন আহমেদ, রাবিঃ এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গোপাল রায় এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দ্বিবীজপত্রী অপুষ্পক যতিচিহ্নের স্মৃতিকাল’। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন প্রকাশক এস এম জসিম ভূঁইয়া। প্রিয় বাংলা প্রকাশন থেকে প্রকাশিতব বইটি অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশনীর ৫৯৭ ও ৫৯৮ নম্বর স্টলে পাওয়া যাবে। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ১৬০ টাকা।
ক্ষুদ্র খড়কুটোর জীবনে কুটকুট করে খেলে যায় সৃষ্ট শিল্পের জগৎ। কখনো গান আসে, গল্প আসে বা কখনো আসে জীবনের পঙক্তিমালা। সেসব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার প্রথম সম্মিলন "দ্বিবীজপত্রী অপুষ্পক যতিচিহ্নের স্মৃতিকাল"।
হাসোজ্জ্বল, উদ্যোমী, স্বপ্নবাজ ও প্রতিভাবান তরুণ গোপাল রায়। পড়াশোনা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্প কলার ইতিহাস বিভাগে। লেখালেখির পাশাপাশি সম্পাদনা করছেন কবি ও কবিতার ছোট কাগজ ‘হৃদয় হ র ণ’ ও ‘নির্বাধ’।
গোপাল রায়ের জন্ম নীলফামারীর ডোমার উপজেলার নয়ানী বাগডোকরা গ্রামে। বাবা জয়হরি রায় ও মা সুমিত্রা রানীর তিন সন্তানের মধ্যে তিনিই বড়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য