গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক বিক্রি হয়েছে সঞ্চয়পত্র

    বিদায়ী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক। বিনিয়োগসীমা কমানোর পাশাপাশি টিআইএন সনদ ও অনলাইন পদ্ধতির ব্যবহারে এ খাতে অনেকের আগ্রহ কমে যাওয়ায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন গ্রাহকরা।

    দেশের ব্যাংকখাতে স্থায়ী আমানতের তুলনায় সঞ্চয়পত্রে বেশ খানিকটা বাড়তি সুদ পাওয়া যায়। এ কারণে বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী, নারীদের কাছে নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগের মাধ্যম সঞ্চয়পত্র। গেল বছর এ খাতে বিনিয়োগে টিআইএনসহ অনলাইন পদ্ধতি চালু হয়, ৫ লাখের ওপরে কেনা সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর ৫ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়। এমন পরিবর্তনের পর গত অর্থবছরে নিট বিক্রি দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা যা আগের বছরই ছিল ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা।

    সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমার কারণ জানাতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সোনালী ব্যাংকে আসা সঞ্চয়পত্রের একজন গ্রাহক বলেন, আগে একজন পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারতেন ৪৫ লাখ টাকার, পেনশনভোগীরা পারতেন ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে। ৩ বছর মেয়াদী ৩০ লাখ আর ৫ বছর মেয়াদী ৩০ লাখ টাকায় তারা বিনিয়োগ করতে পারতেন। সেই হিসাবে একজন বছরে ১ কোটি টাকার ওপরে সঞ্চয়পত্র কিনতে পারতেন। এখন সেই সুযোগ নাই। এখন সব মিলিয়ে ৫০ লাখ টাকার কেনা যায়। আবার টিআইএন সার্টিফিকেট করতে হয়। এটা করলে আবার রিটার্ন জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। মানুষ এতো ঝামেলায় যেতে চায় না। এর চেয়ে অন্য কোথাও বিনিয়োগ করেন তারা।

    অবসরপ্রাপ্ত একজন চাকরিজীবী বলেন, আমাদের তো শেষ ভরসা এটাই। আগে ৯১২ টাকা করে পেতাম এখন ট্যাক্স কেটে নেয়ার পর এখন ৮৬৪ টাকায় ঠেকেছে। আরও যে কত কমে…

    সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণ পেতে এখন আগের তুলনায় বেশি ব্যাংকমুখী হয়েছে। তবে, দেশে নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প সুযোগ না তৈরি করে সঞ্চয়পত্র বিক্রি নিরুৎসাহিত করার নীতির বিপক্ষেই মত দেন অর্থনীতিবিদরা।

    এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার মতামত, আমাদের দেশের পুঁজিবাজার যেহেতু সুসংগঠিত নয়; সেহেতু সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগটি মূলত মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ কারণে মধ্যবিত্তের জন্য বিকল্প সঞ্চয় ও বিকল্প বিনিয়োগের একটি পথ বের করা জরুরি। আর যতদিন পর্যন্ত তা না হচ্ছে ততোদিন পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করা হলে মধ্যবিত্তের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।

    চলতি অর্থবছর (২০২০-২১) সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ২০ হাজার কোটি টাকা।