৬ মাস পর অনিশ্চয়তা কাটলো, চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে ভর্তিযুদ্ধ

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসে (বিইউপি) ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্বায়ত্ত্বশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণে ফলে একের পর এক সব ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে গত ২ এপ্রিল শুধুমাত্র সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এরপর গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয় এই বিধিনিষেধ। তারপর ধাপে ধাপে বাড়ানো হয় এটি। চার মাসের বেশি সময়ের পর বিধিনিষেধের অবসান হচ্ছে আজ বুধবার। এ দিন থেকে আবারও সচল হচ্ছে দেশ। সড়কে নামার অপেক্ষায় আছে বাসসহ গণপরিবহন। খুলবে বন্ধ সব অফিস আদালত, শপিং মল ও দোকানপাট।

গোটা দেশ সচল হলেও বন্ধ থাকছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের করোনার টিকার আওতায় এনে তবে খোলার কথা ভাবছে সরকার। বিনোদন আর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার পাশাপাশি জনসমাবেশ, সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজনের ওপর থেকে যাচ্ছে নিষেধাজ্ঞা।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে কয়েকলাখ ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীর। চলতি মাস থেকেই শুরু হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া সাপেক্ষে স্থগিত থাকা ভর্তি পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা হবে। সেক্ষেত্রে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষা। এদিকে, চলতি মাসেই আর্মড ফোর্সেস ও আর্মি মেডিকেল এবং বিইউপির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।

দেশের করোনা পরিস্থিতি উন্নতি এবং চলমান লকডাউন তুলে নেওয়া হলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। এর আগে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রাথমিক সিলেকশনের ফল প্রকাশ করা হবে।

তবে সবকিছু নির্ভর করছে করোনার ওপর। চলমান করোনা পরিস্থিতি আরও অবনতি কিংবা বর্তমান অবস্থা বিরাজ করলে ভর্তি পরীক্ষা সেপ্টেম্বরের শেষেও আয়োজন করা যাবে না বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটির সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যমতে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় বিভিন্ন স্বায়ত্ত্বশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। পেছাতে হয়েছে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার দিনক্ষণ।

সাধারণত বছরের সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হলেও করোনার কারণে গত বছর ভর্তি পরীক্ষা হয়নি। চলতি বছরের জুলাইয়ে এসেও তাদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যান্য বছরে জানুয়ারির প্রথম দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়ে থাকে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও করোনার প্রাদুর্ভাবে সেটা নিতে পারেনি। এরপর মেডিকেল কলেজ ছাড়া কোথাও কোন ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা যায়নি।

জানা যায়, ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের মূল্যায়নে সারাদেশে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ‘অটো পাস’ করে। এছাড়া ২০১৯ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন পাস করে। এই সব শিক্ষার্থীদের ৪/৫ লাখই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

বর্তমানে দেশে ৪৬টি স্বায়ত্তশাসিত ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে প্রতিবারের মতো এবারও মূল লড়াইটা হবে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধ লক্ষেরও বেশি আসনে।

এদিকে, গত রবিবার দেশের চলমান বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা আসার পরপরই আগের দেওয়া ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করে নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও ৫টি আর্মি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৪ আগস্ট পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিইউপির স্থগিত ভর্তি পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট ও ২১ আগস্ট ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের সরকারি-বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২২ জুন অনির্দিষ্টকালের জন্য বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেদিন এক বিজ্ঞপ্তিতে বুয়েট জানিয়েছিল, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষার কমপক্ষে ১০ দিন আগে পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।

সম্প্রতি বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কঠোর লকডাউন থাকায় আমাদের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন আছে৷ এরপর যদি সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং মানুষের চলাচলে কোনো বাধা না থাকে তাহলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নেব।

তিনি আরও বলেন, খুব বেশিদিন আমাদের ভর্তি স্থগিত রাখার সুযোগ নেই। ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আশা করছি ১১ আগস্টের মধ্যেই ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দিতে পারবো।

চলতি মাসে মাঝামাঝি সময়ে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক সিলেকশনের ফল প্রকাশ করা হতে পারে। সম্প্রতি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত টেকনিক্যাল সাব কমিটির আহবায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে হয়তো সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু করতে পারবো। আমরা এই সময়েকে তার্গেট করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

১২ আগস্ট তিন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকায় সম্প্রতি সেটি স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সেখ বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতি উন্নতি এবং বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলে আলোচনা করে ভর্তি পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।