The Rising Campus
News Media
বৃহস্পতিবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

৬ বছরেও মেলেনি চাকরি, পার্কিং টাইলসের ব্যবসায় ভাগ্য ঘুরলো রিয়াজুলের

২০১৫ সালে চুয়াডাঙ্গার ফাস্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন রিয়াজুল ইসলাম। এরপর চাকরির আশায় ঘুরেছেন দীর্ঘ ছয় বছর। ছয় বছর চাকরির জন্য ধরনা দিয়েছেন বিভিন্ন সককারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। চাকরি না পেয়ে নিজেই কিছু করার পরিকল্পনা করেন।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন বড় কিছু কোম্পানির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এবং আত্মীয়-স্বজনদের থেকে ধারে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তৈরি করেন পার্কিং টাইলসের কারখানা। চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের পাশে হাজরাখানা গ্রামে সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে তোলেন কারখানাটি।

যশোরের চৌগাছা উপজেলার সরুপদাহ ইউনিয়নের আন্দারপোতা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম। গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে তোলা তার প্রতিষ্ঠানের নাম রাইসা টাইলস ফ্যাক্টরি।

রিয়াজুলের বলেন, তুলনামুলক ভাবে তার প্রতিষ্ঠানের টাইলস অধিক টেকসই ও মজবুত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পার্কিং টাইলস কিনতে আসেন পাইকাররা। অনেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও অর্ডার করেন। কারখায়নায় ১০ জন শ্রমিক টাইলস তৈরিতে শ্রম দেন। উদ্যোক্তা রিয়াজুলের আত্মকর্মসংস্থানে সৃষ্টি হয়েছে ১০টি হতদরিদ্র পরিবারের কর্মসংস্থান। শ্রমিকদের বেতন ও কারখানার ব্যয় বাদ দিয়ে রিয়াজুলের এখন মাসিক আয় প্রায় দেড় লাখ টাকা।

উদ্যোক্তা রিয়াজুল  বলেন, মাস্টার্স শেষ করার পর ছয় বছর চাকরির পেছনে ছুটেছি। চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ি। এর মধ্যে আমার বাবাও মারা যান। সংসার চালানো নিয়ে আমি বড় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই।

এরপর বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে পরামর্শ করি যে নিজে কীভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আরও কিছু লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা যায়। এ ধরনের চিন্তা ভাবনা করার এক পর্যায়ে পার্কিং টাইলসের কারখানা করার সিদ্ধান্ত নেই। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কারখানা তৈরির কাজ শেষ করে গত এক মাস হয়েছে টাইলস উৎপাদন শুরু করেছি। সফলভাবে টাইলস তৈরি করতে পারছি। আমার এখানে পার্কিল টাইলসের প্রতি পিসের পাইকারি মূল্য ৩৫ টাকা ধরা হয়েছে। যেটি অন্যান্য কোম্পানির পার্কিং টাইলসের তুলনায় কম দামের এবং ১২ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারেন্টি দেওয়া হচ্ছে।

রিয়াজুল আরও বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল আমার আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে আরও কিছু লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এখন আমার কারখানায় ১০ জন শ্রমিক আছে। আরও লোকবল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টাইলসের পাইকারি ব্যবসায়ীরা আমার কাছ থেকে পার্কিং টাইলস সংগ্রহ করছে, এতে আমার উৎসাহ বাড়ছে।

সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে এ পার্কিং টাইলস তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সিমেন্ট, সারি বালু ও নুড়ি পাথর। ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক দুটি ভাইব্রেটর মেশিন।

উদ্যোক্তা রিয়াজুলের পার্কিং টাইলসের কারখানা থেকে এখন মাসিক আয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। তিনি এখন স্বপ্ন দেখছেন চায়না থেকে পাথর কাটা মেশিন আমদানি করে নিজ কারখানায় উন্নতমানের মোজাইক টাইলস তৈরির। সরকার ও ব্যাংকের সহোযোগিতা পেলে দ্রুত এর পরিধি বাড়ানো যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

0
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. হোম
  2. উদ্যোক্তা ও সফলতার গল্প
  3. ৬ বছরেও মেলেনি চাকরি, পার্কিং টাইলসের ব্যবসায় ভাগ্য ঘুরলো রিয়াজুলের

৬ বছরেও মেলেনি চাকরি, পার্কিং টাইলসের ব্যবসায় ভাগ্য ঘুরলো রিয়াজুলের

২০১৫ সালে চুয়াডাঙ্গার ফাস্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন রিয়াজুল ইসলাম। এরপর চাকরির আশায় ঘুরেছেন দীর্ঘ ছয় বছর। ছয় বছর চাকরির জন্য ধরনা দিয়েছেন বিভিন্ন সককারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। চাকরি না পেয়ে নিজেই কিছু করার পরিকল্পনা করেন।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন বড় কিছু কোম্পানির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এবং আত্মীয়-স্বজনদের থেকে ধারে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তৈরি করেন পার্কিং টাইলসের কারখানা। চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের পাশে হাজরাখানা গ্রামে সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে তোলেন কারখানাটি।

যশোরের চৌগাছা উপজেলার সরুপদাহ ইউনিয়নের আন্দারপোতা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম। গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে তোলা তার প্রতিষ্ঠানের নাম রাইসা টাইলস ফ্যাক্টরি।

রিয়াজুলের বলেন, তুলনামুলক ভাবে তার প্রতিষ্ঠানের টাইলস অধিক টেকসই ও মজবুত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পার্কিং টাইলস কিনতে আসেন পাইকাররা। অনেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও অর্ডার করেন। কারখায়নায় ১০ জন শ্রমিক টাইলস তৈরিতে শ্রম দেন। উদ্যোক্তা রিয়াজুলের আত্মকর্মসংস্থানে সৃষ্টি হয়েছে ১০টি হতদরিদ্র পরিবারের কর্মসংস্থান। শ্রমিকদের বেতন ও কারখানার ব্যয় বাদ দিয়ে রিয়াজুলের এখন মাসিক আয় প্রায় দেড় লাখ টাকা।

উদ্যোক্তা রিয়াজুল  বলেন, মাস্টার্স শেষ করার পর ছয় বছর চাকরির পেছনে ছুটেছি। চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ি। এর মধ্যে আমার বাবাও মারা যান। সংসার চালানো নিয়ে আমি বড় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই।

এরপর বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে পরামর্শ করি যে নিজে কীভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আরও কিছু লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা যায়। এ ধরনের চিন্তা ভাবনা করার এক পর্যায়ে পার্কিং টাইলসের কারখানা করার সিদ্ধান্ত নেই। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কারখানা তৈরির কাজ শেষ করে গত এক মাস হয়েছে টাইলস উৎপাদন শুরু করেছি। সফলভাবে টাইলস তৈরি করতে পারছি। আমার এখানে পার্কিল টাইলসের প্রতি পিসের পাইকারি মূল্য ৩৫ টাকা ধরা হয়েছে। যেটি অন্যান্য কোম্পানির পার্কিং টাইলসের তুলনায় কম দামের এবং ১২ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারেন্টি দেওয়া হচ্ছে।

রিয়াজুল আরও বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল আমার আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে আরও কিছু লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এখন আমার কারখানায় ১০ জন শ্রমিক আছে। আরও লোকবল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টাইলসের পাইকারি ব্যবসায়ীরা আমার কাছ থেকে পার্কিং টাইলস সংগ্রহ করছে, এতে আমার উৎসাহ বাড়ছে।

সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে এ পার্কিং টাইলস তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সিমেন্ট, সারি বালু ও নুড়ি পাথর। ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক দুটি ভাইব্রেটর মেশিন।

উদ্যোক্তা রিয়াজুলের পার্কিং টাইলসের কারখানা থেকে এখন মাসিক আয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। তিনি এখন স্বপ্ন দেখছেন চায়না থেকে পাথর কাটা মেশিন আমদানি করে নিজ কারখানায় উন্নতমানের মোজাইক টাইলস তৈরির। সরকার ও ব্যাংকের সহোযোগিতা পেলে দ্রুত এর পরিধি বাড়ানো যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন